ছাতকে ইউপি নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপে আ’লীগ-বিএনপির ৮৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী

প্রকাশিত: 12:57 PM, February 21, 2016

ছাতকে ইউপি নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপে আ’লীগ-বিএনপির ৮৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী

স্থানীয় সরকার পদ্ধতির সর্ব কনিষ্ঠ ও তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের মুল ধারক ও বাহক হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীন অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। সে লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার কাঠামো মজবুত করতে সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপও নিয়েছে। দিনক্ষন ও নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা না হলেও ২৮র্মাচ থেকে দলীয় প্রতীকে ৪ দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় সামনে রেখে ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন।

ভোটযুদ্ধ মোকাবেলা করতে আ.লীগ-বিএনপির ৮৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাতকের ১৩ ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারনা। ১৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন আদায় ও প্রতীক বরাদ্ধ পেতে লবিং ও দৌড়-ঝাপে রয়েছেন। দলীয় সমর্থন নিয়ে মনোনয়ন লাভের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ছাতক সদর ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিব খান, সাবেক চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া, রঞ্জন কুমার দাস, আলহাজ্ব আব্দুল কাদির, মাফিজ আলী, কাজী সেলিম, জমিরুল ইসলাম জমির, কেডিএস এনামুল হোসেন ও সাইফুল আলম। বিএনপির জাহেদুল ইসলাম আহবাব ও কুতুব উদ্দিন।

জাউয়াবাজার ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, বশির আহমদ, মুরাদ হোসেন, আখলুছ মিয়া, রেজা মিয়া তালুকদার। বিএনপির আবু সুফিয়ান ও পীর এনামুল হক।

সিংচাপইড় ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান মোর্শেদ চৌধুরী, সাহাব উদ্দিন সাহেল, মুজাহিদ আলী, আশিকুল ইসলাম আশিক। বিএনপির গাজী লিটন ও এনামুল কবির।

চরমহল্লা ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কদর মিয়া, ফয়জুল ইসলাম, আনফর আলী, ফয়সল আহমেদ । বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, এড. আব্দুল আহাদ, সামসুদ্দিন, আবুল হাসনাত ও রশীদ আহমদ।

ভাতগাঁও ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন মাষ্টার, আবুল হাসনাত, সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস মিয়া। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ও ছায়াদুজ্জামান ছায়াদ।

কালারুকা ইউনিয়নে আ.লীগের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ, সাবেক চেয়ারম্যান আরজু মিয়া, আফতাব উদ্দিন, নুর উদ্দিন। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল হক, শাহজাহান আব্দুল্লাহ চৌধুরী, শরিফ হোসেন সুরুজ ও জে ইউ আজম।

নোয়ারাই ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আফজাল আবেদীন আবুল, দেওয়ান আব্দুল খালিক পীর, ছমরু মিয়া তালুকদার, রাজু আহমদ তালুকদার। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান জোয়াদ আলী তালুকদার, আব্দুর রহমান ও মোশাররফ হোসেন।

ইসলামপুর ইউনিয়নে আ.লীগের আজমল হোসেন সজল, আব্দুল জব্বার খোকন, আব্দুল হেকিম, ফরিছ মিয়া, মাহতাব মিয়া। বিএনপির বর্তমান মেম্বার বাবুল মিয়া।

গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুন্দর আলী, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সহিদ মুহিত। বিএনপির রুহুল আমিন, সদরুল আমিন সোহান ও আখলাকুর রহমান।

ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে আ.লীগের মোতাহের আলী, সাবেক চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ। বিএনপির আলী আশরাফ তাহিদ।

দোলারবাজার ইউনিয়নে আ.লীগের আজিজুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন। বিএনপির ফয়জুর রহমান ও নুরুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া।

উত্তর খুরমা ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, এড. সায়াদুর রহমান ছায়াদ, আরশ আলী খান ভাসানী, সামছুল ইসলাম খান, সাবেক চেয়ারম্যান ফজর উদ্দিন। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, আব্দুল আলিম ও লুৎফুর রহমান খান।

দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নে আ.লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির, ছানাউর রহমান ছানা, আব্দুল খালিক, আবু বক্কর। বিএনপির আলী হোসেন মানিক রয়েছেন দলীয় মনোনয়নের দৌড়-ঝাঁপে।

ছাতকে আ.লীগ ও বিএনপির মধ্যে রয়েছে দলীয় কোন্দল। আ.লীগ একাংশের নেতৃত্বে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও অপরাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী।

এদিকে বিএনপি একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। অপরাংশের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। আ.লীগ-বিএনপির সব গ্রুপের নেতারাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতার জন্য দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে ইউনিয়নে-ইউনিয়নে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জানান, দলের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই করা হবে। গ্র“প বিবেচনা নয়, প্রার্থী বিবেচনায়ই ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাবেন যোগ্য প্রার্থীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে