বিয়ের দাবিতে আ’লীগ নেতার বাড়িতে ধর্ষিতা

প্রকাশিত: 4:27 AM, February 21, 2016

বিয়ের দাবিতে আ’লীগ নেতার বাড়িতে ধর্ষিতা
বগুড়ার শেরপুরে ধর্ষণের শিকার হয়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক পাওয়া এক নারী ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত আওয়ামী লীগে নেতাকে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার সকালে উপজেলার ভবানিপুর ইউনিয়নের বিশ্বা গ্রামে অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান নিলে ওই নারীকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম মোনা মুন্সি। তিনি ভবানিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মীয় সম্পাদক। তিন সন্তানের জনক এই নেতা বিশ্বা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদেরও সাধারণ সম্পাদক।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের মা।

তিনি জানান, মোনা মুন্সি তাকে প্রায়ই কু-প্রস্তাব দিত। এতে রাজি না হওয়ায় তিন বছর আগে তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এভাবে প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করা হতো জানিয়ে ওই নারী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে ধর্ষণের সময় এলাকাবাসী মোনাকে আটক করে। এই ঘটনার পর ওই নারীকে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। বাবা-মাও বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত মোনাকেই বিয়ে করতে চান বলে জানান ওই নারী।

তিনি জানান, বিয়ের জন্য মোনার বাড়িতে অবস্থান নিলে সকালে মোনাসহ তার ছেলেমেয়ে ও ভাই মিলে তাকে বেদম মারধর করে। তারপরেও তিনি সেখানেই অবস্থান নিয়েছেন।

যদি মোনা তাকে বিয়ে না করে তবে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন ওই গৃহবধূ।

জানা গেছে, ধর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ভবানীপুর বাজারে সালিশি বৈঠক বসে। কিন্তু অভিযুক্ত মোনা মুন্সি সালিশের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে।

বিশ্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।’

শেরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানি না। যদি ভিকটিম অভিযোগ দেয়, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সূত্র : যুগান্তর
সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 25 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ