ওসমানী ছিলেন গণতন্ত্রের সৈনিক

প্রকাশিত: 2:18 AM, February 17, 2016

ওসমানী ছিলেন গণতন্ত্রের সৈনিক

জেনারেল এম এ জি ওসমানী  বৈষম্যমুক্ত, শোষণমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার চিন্তা করেছিলেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের জন্য অতন্দ্র
সৈনিক। বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের  জন্য কাজ করেছেন তিনি। পদের প্রতি তার কোনো লোভ ছিল না। গতকাল  ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।  বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী স্মৃতি পরিষদ এই সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করে বিশিষ্ট আইনজীবী সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, এম এ জি ওসমানী  বৈষম্যমুক্ত, শোষণমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার চিন্তা করেছিলেন। বৈষম্য থেকে মুক্ত করাই তার চিন্তা ছিল। কিন্তু আজ দেখি বস্তিবাসী ও ধনিরা গুলশানে পাশাপাশি বাস করেন। এটা চিরকাল হতে পারে না। তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। একশ্রেণীর লোক জমি-জায়গা দখল করছে। তাদের লোভ কমানো খুবই কঠিন। তিনি বলেন, শহীদদের কথা মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের কথা মনে রাখতে হবে। শহীদরা এ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক। সবাই মিলে কাজ করবো, এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ড. কামাল হোসেন আরও বলেন,  কিছু কিছু বিষয়ে ভিন্ন মত থাকে। মৌলিক জিনিস নিয়ে বিতর্ক নয়। যা স্বাক্ষরিত। যেখানে জেনারেল ওসমানীর স্বাক্ষর রয়েছে। শহীদদের নিয়ে বিতর্ক হবে ইতিবাচকে। যত বিতর্ক কম করা যায়, তাতেই মঙ্গল বলে তিনি মন্তব্য করেন। ড. কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধে কেউ আমাদের বিচ্যুতি ঘটাতে পারিনি, পারবেও না।  তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যমত থাকতে হবে। গণতন্ত্র এনেছি, বৈষম্য তৈরির জন্য নয়। তিনি  বলেন, আমরা ’৫৪ সালে গণতন্ত্রের পরীক্ষা দিয়েছি এবং তখন থেকে অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র শুরু করেছি। ১৯৭০ সালে স্বায়ত্তশাসনের জন্য, ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে মানুষ ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মেধা আছে। আছে দেশ গড়ার আগ্রহও।  ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রথম কাতারে ছিলেন জেনারেল ওসমানী। কিছু মহল মীমাংসিত, স্বীকৃত ও বিশ্বাসী বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন নয়। আবেগে আঘাত দেয়ার চেষ্টা করছে। নিজেদের প্রয়োজনের স্বার্থে এই কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংকীর্ণ স্বার্থে খেলা না করে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি। সত্যি চিরদিনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রাইভেটটাইজশেন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, জেনারেল এম এ জি ওসমানী গণতন্ত্রের জন্য অতন্দ্র সৈনিক ছিলেন। তিনি বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের  জন্য কাজ করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদের প্রতি তার কোনো লোভ ছিল না।
সংগঠনের সভাপতি মিসেস সৈয়দা মাসুদা খাজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সিএম তোফায়েল সামি,  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুল আহাদ চৌধুরী, সাবেক তথ্য সচিব এমআই চৌধুরী, সৈয়দ আবদুল মুক্তাদির, ক্যাপ্টন (অব.) মিজানুর রহমান, এবাদুর রহমান, নাজমুল ইসলাম লাকী, খালেকুর রহমান, কবি মো. আবদুল খালেক প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এমএ রকিব খান।

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 23 বার পঠিত হয়েছে