ঐতিহাসিক ম্যাচে আবেগহীন প্রত্যয়

প্রকাশিত: 12:59 AM, February 11, 2016

ঐতিহাসিক ম্যাচে আবেগহীন প্রত্যয়

আপনি খুশি?

‘না, এখানেই খুশি হলে আমরা শেষ হয়ে যাব।’

আপনার মাঝে প্রথম সেমিফাইনালে ওঠার কোনো উত্তেজনা কিংবা আবেগ?

‘না, আমাদের কোনো আবেগ নেই। মাঠে যখন থাকি তখন শুধু ক্রিকেটেরই কথা ভাবি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে আবেগহীন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের দল। সাধারণ একটা ম্যাচে যে ভাবে জয়ের জন্য মাঠে নামেন, ঠিক সেভাবেই মিরাজ আজ নামতে চাইছেন। কোনোভাবেই ভাবতে চাইছেন না আজ জিতলেই ফাইনাল কিংবা হারলে যুব বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। অধিনায়ক ম্যাচটি সাধারণ ভাবলেও আজ বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে অরেকটি ইতিহাসের সামনে। এই প্রথম আইসিসির কোন প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনাল পর্যায়ে খেলছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এ ম্যাচ জিতলে রচিত হবে আরেক ইতিহাস। গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার যুবাদের আবেগহীন কণ্ঠে ছিল শুধু জয়ের প্রত্যয়। অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ফাইনাল নিয়ে ভাবছি না। আমাদের পুরো ফোকাস কালকের (আজ) ম্যাচের দিকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের বোলার এবং ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো খেলতে পারে সেক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া নিশ্চিত হবে। আমি খুব গর্বিত, প্রথমবারের মতো আমরা সেমিফাইনাল খেলছি। তবে এটা আমাদের জন্য কোন চাপ নয়। আমরা সবাই ভালো খেলতে মুখিয়ে আছি। যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই সফল হবো।’ [the_ad id=”253″]অন্যদিকে ক্যারিবীয় অধিনায়ক সিমরন হিটমেয়ার বদ্ধপরিকর বাংলাদেশকে হারাতে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে পারলে বাংলাদেশকে হারাতে পারবো।’ আজ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই স্বপ্নের দুনিয়াতে ভাসবে গোটা দেশ। ক্রিকেটের পরাশাক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কালচক্রে তাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন নেই সেই জৌলুস। পরিসংখ্যান বলে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশের সামনে পিছিয়ে আছে ক্যারিবীয় তরুণরা। এ পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে টাইগার যুবাদের জয় ১২ বার। যুব বিশ্বকাপের আসরেও ৩ বারের দেখায় বাংলাদেশ ২ বার জয় তুলে নিয়েছিল। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ দল প্রথম যুব বিশ্বকাপে অংশ নেয়। সেবার ক্রিস গেইলের ১৪১ রানে চড়ে ২৪৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু পাঁচ ওভার বাকি থাকতেই আল শাহরিয়ার রোকন ৯০ ও মেহরাব হোসেন অপির ৬৩তে ভর করে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০০৬ সালে দ্বিতীয় দেখাতেও হারে ক্যারিবীয় তরুণরা। তবে ২০১০ সালে হারে টাইগাররা। ৬ বছর পর আবারও দেখা হচ্ছে বিশ্বকাপের আসরে। এখানেই বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী জয়ের বিষয়ে। কারণ বিশ্বকাপের আগে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করেছিল মিরাজ বাহিনী। সেমিফাইনালের আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা ৬ দিনের একটি গ্যাপ পেয়েছি। এই গ্যাপে আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। সব মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত কালকের (আজ) ম্যাচের জন্য। বিশেষ করে আমাদের ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা। এছাড়া মিডল অর্ডার গত ম্যাচগুলোতে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’ তবে শেষ চার জয়ে ওপেনিংয়ের তুলনায় মিডল অর্ডাররা দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছে। তাই প্রশ্ন ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতির ঝড়ের সামনে টিকে থাকতে পারবে তো ওপেনার পিনাক ঘোষ আর সাইফ হাসান? কিন্তু মিরাজের উত্তর শুনলে হয়তো ক্যারিবীয় পেসারের কাঁপুনি ধরে যাবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরু থেকেই সবার জানা টাইগাররা গতির কাছে দুর্বল। কিন্তু মিরাজ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের কাছে গতির বল খেলতে ভালো লাগে। কম গতির বল খেললে মিস টাইমিংয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। বেশি গতির বোলারদের বিপক্ষে খেলতে আমরা সব সময় আত্মবিশ্বাসী থাকি। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলে এসেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছি। আমাদের পেস বোলার যারা আছে তারাও বেশি গতির বোলারদের বল খেলতে পছন্দ করে। টুর্নামেন্টে আমরা ৪টি ম্যাচ খেলেছি ওই রকম গতির কোনো বোলার ছিল না। এই জন্য আমাদের ওপেনারদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আশা করি কালকের ম্যাচটায় অনেক ভালো খেলবে সবাই।’ শুধু তাই নয়, ক্যারিবীয় গতির তুলনায় বাংলাদেশের স্পিনও এগিয়ে। মিরাজ বলেন, ‘আমাদের দলে বেশ ভালো স্পিনার আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের সম্পর্কে জানি তারা কি করতে পারে। আমরা আমাদের স্পিনারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমার কাছে মনে হয়, স্পিনাররা ভালো বোলিং করলে ওরা দাঁড়াতে পারবে না।’ অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পরিসংখ্যান আর অতীত নিয়ে ভাবতে চায় না। কোন রকমে গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে কোয়াার্টার ফাইনালে উঠে তারা হারিয়ে দিয়েছে দুর্দান্ত পাকিস্তানকে। তাই সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গে অতীত হার ভুলে দলগতভাবেই এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর তারা। সিমরন হিটমেয়ার বলেন, ‘টুর্নামেন্টে সবকিছু ভালোই যাচ্ছে। দল হিসেবে আমরা কতোটা আগালাম এবং একসঙ্গে কতোটা ভালো করতে পারি এটা দেখার জন্য এই মুহূর্তে দলের প্রায় সবাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে।’

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 24 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ