মাথাপিছু আয় ১৩১৬ ডলার

প্রকাশিত: 3:51 AM, February 10, 2016

মাথাপিছু আয় ১৩১৬ ডলার

বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৩১৬ ডলার হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত হিসাবে মাথাপিছু  আয়ের এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ১৯০ ডলার। গতকাল ঢাকার শেরে বাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল। চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে মাথাপিছু আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩১৪ ডলার। চূড়ান্ত হিসাবে তা দুই ডলার বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩১৬ ডলার। গত বছর প্রাথমিক হিসাবের তথ্য তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাথাপিছু আয়ের হিসাবে (নমিনাল) বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীতে ৫৮তম। আর ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) এর পরিমাণ ৩ হাজার ১৯০ ডলার। ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীর ৩৬তম। মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পাঠানো প্রবাসী আয়ও যোগ হয়। তবে মাথাপিছু আয় প্রত্যেক বাংলাদেশির আলাদা বা ব্যক্তিগত আয় নয়। এটি সামগ্রিক আয়, যা মাথাপিছু ভাগ করে দেয়া হয়। জানুয়ারি মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। খাদ্যপণ্যেও মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যেও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এখন শাক-সবজিসহ সকল জিনিসের দাম কম। ফলে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়েনি। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আশা করছি আগামী মাসে আরও মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। খাদ্য পণ্যেও মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশে, যা তার আগে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। খাদ্য পণ্যেও মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে বিবিএস’র দেয়া হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, জনুয়ারি মাসে খাদ্যবর্হিভূত মূল্যস্ফীতির হার আরও একধাপ বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ডিসেম্বর মাসে যা ছিল ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দামও বাড়তির দিকে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বছরের শুরুতে বাচ্চারা নতুন বই নিয়ে স্কুলে ভর্তি হয়। এ সময় বাচ্চাদের ব্যাগসহ সরঞ্জামাদি কিনতে হয়। এসব জিনিসের দাম কম নয়। তাছাড়া বাড়িওয়ালারা বছরে দুইবার বাড়িভাড়া বাড়িয়ে থাকেন। জানুয়ারি মাসেও বাড়িভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে খাদ্যবর্হিভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বাড়তির দিকে বলে জানান মন্ত্রী। এর আগে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে ২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 29 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ