মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে ‘বিআরএ’, ভূমিকা থাকছে না বায়রার

প্রকাশিত: 2:20 AM, February 9, 2016

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে ‘বিআরএ’, ভূমিকা থাকছে না বায়রার

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মালয়েশিয়ায় বড়পরিসরে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পযায়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রিসভায় সোমবার ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তির খসড়ার অনুমোদন হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত ১৫ লাখ কর্মী পাঠাতে শিগগিরেই উভয় দেশের মধ্যে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই হবে বলে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহিদুল ইসলাম দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

তবে, মালয়েশিয়ায় বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার কোনো ভূমিকা থাকছে না। বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি বা ‘বিআরএ’-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক এ কর্মী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রবেশ করবে। অর্থাৎ শুধু বায়রার সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সি নয়, সদস্য ছাড়াও সরকারের নিবন্ধনপ্রাপ্ত যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জিটুজি প্লাস’ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে।

জানা গেছে, কর্মী পাঠানোর নতুন কার্যক্রম তদারকি করবে মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। যদি কোনো কারণে এই গ্রুপ ব্যর্থ হয়, তাহলে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে তা মনিটরিং করা হবে।[the_ad id=”253″]

জি-টু-জি প্লাস প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে আগামী ৩ বছরে যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে, তারা তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। এরপর আরও এক বছর কাজ নবায়নের সুযোগ পাবেন তারা। কর্মীর একমুখী বিমানভাড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ নিয়োগ দাতা কর্তৃপক্ষ বহন করবে। আর ভিসা, মেডিকেলসহ অন্য খরচ বহন করবেন কর্মী।এতে খরচ ধরা হয়েছে ৩৪-৩৭ হাজার টাকা।
জানা গেছে, স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগকর্তার সক্ষমতা ও চাহিদা যাচাই করে চাকরির সব সুবিধা নিশ্চিত করবে। তাতে মধ্যসত্ত্বভোগীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। দেশটির সরকার তাদের নিয়োগকর্তার কর্মী চাহিদা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কোটা নির্ধারণ করবে। নিয়োগকর্তারা প্রাপ্ত কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবে।

সূত্র আরও জানায়, মালয়েশিয়া ওই প্রকৃত কোটার তথ্য অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিএমইটির ওয়েব পোর্টালে পাঠাবে। আর বাংলাদেশ সরকার ক্লিন ইমেজের অভিজ্ঞ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের অনলাইন সিস্টেমে পাঠাবে। ওই তালিকা থেকেই এজেন্সি নির্বাচন করা হবে। বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কর্মী সংগ্রহ, কর্মীদের বায়োমেট্রিক ইমেজ, মেডিকেল, নিরাপত্তা যাচাই, চুক্তি সম্পাদন, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশিক্ষণ ও বহির্গমন কাজে সহায়তা করবে। নতুন পদ্ধতিতে কর্মীদের বেতন কত হবে তা না জানা না গেলেও কর্মীদের বেতন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হবে।

এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এখানে বায়রা প্রশ্ন নয়। আমাদের (সরকারের) নিবন্ধন আছে (বায়রার সদস্য ছাড়াও) এমন বৈধ, ক্লিন ইমেজের রিক্রুটিং এজেন্সি; যাদের অতীত রেকর্ড ভাল, কোনো দুর্নাম ও প্রতারণার অভিযোগ নেই এবং কর্মী প্রেরণে যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে তারাই ‘জিটুজি প্লাস’ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাবে।’

রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই প্রক্রিয়া কি হবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লিন ইমেজের অভিজ্ঞ যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, আমরা তাদের নাম মালয়েশিয়াকে দেব। তারা তা তাদের অনলাইনে তা অন্তর্ভুক্ত করবে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার মাধ্যমে কোন এজেন্সি এতে কাজ করবে তা সম্পন্ন করা হবে।

অভিবাসন ব্যয় সম্পর্কে সচিব বলেন, ‘অভিবাসন ব্যয় হবে ৩৪-৩৭ হাজার টাকা। এটার মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ আছে। ইমিগ্রেশন স্মার্টকার্ড, রেজি: ফি, কর্মীর অনওয়ে টিকেটের মূল্য রয়েছে।’

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহিদুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে বলেন, আগে শুধু প্লানটেশন খাতে লোক আসতো মালয়েশিয়ায়। ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সম্পন্ন হলে প্লানটেশনের পাশাপাশি কনস্ট্রাকশন, ম্যানুফেকচারিং ও সেবা খাতসহ সবখাতে আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী আসবে। এটিকে কূটনৈতিক সফলতা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর প্রায় তিন বছর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জিটুজি (সরকার হতে সরকার) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অভিবাসন ব্যয়ে ৫ বছরে ৫ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। এ ঘোষণায় সারাদেশে ১৪ লাখ মানুষ সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে মালয়েশিয়া যেতে নিবন্ধন করেন। কিন্তু নানা কারণে সফলতার মুখ দেখেনি জিটুজি। গত তিন বছরে এ পদ্ধতিতে বনায়ন খাতে মাত্র ১০ হাজার কর্মী কাজ নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পান। এ নিয়ে হতাশা তৈরি হয় মানুষের মধ্যে। বৈধভাবে যাওয়ার পথ বন্ধ সংকুচিত হওয়ায়, সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। দেশি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে গত জুন মাসে মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ড. জাহিদ আল হামিদি বাংলাদেশ থেকে সবখাতে বছরে ৫ লাখ করে মোট ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেন সেদেশের সংসদে। এরপর উভয় দেশের মধ্যে উচ্চ পযায়ে এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয় ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে ঘোষিত ১৫ লাখ কর্মী নিবে মালয়েশিয়া।

এরইমধ্যে ‘জিটুজি প্লাস’ সইয়ের জন্য মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন সম্পন্ন হলেও অপেক্ষা ছিল বাংলাদেশের জন্য। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা সইয়ের খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলেই কর্মী যাওয়া শুরু হবে। এর ফলে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

[the_ad id=”312″]
সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 29 বার পঠিত হয়েছে