ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা বন্ধ : অনিশ্চয়তায় ১০ হাজার পরিবার

প্রকাশিত: 10:27 AM, February 8, 2016

ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা বন্ধ : অনিশ্চয়তায় ১০ হাজার পরিবার

নিউজ ডেস্ক : শুরু থেকেই বৈষম্যের শিকার তারা। ধরপাকড়ের ভয় তাদের পথচলার শুরু থেকেই। সর্বশেষ আবার ধরপাকড়ের শিকার হয়ে সিলেট নগরীতে চলার পথই হারাতে হয়েছে ইঞ্জিন (ব্যাটারিচালিত) রিকশাকে। আচমকা নেমে আসা দুর্যোগে
অসহায় হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। ২৪শে জানুয়ারি কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই সিলেট মেট্রো পুলিশ (এসএমপি) নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়। না জেনে যারা পথে বেরিয়েছিলেন তাদের সবার গাড়ির ঠিকানা হয়েছে পুলিশ লাইনে। প্রায় ৪শ’ ইঞ্জিন রিকশা আটক পড়ে আছে সেখানে। জীবনে আর কখনো নগরের পথে ইঞ্জিন রিকশা চালাবেন না এমন মুচলেকা দিলে তবেই মালিকরা ফিরে পাচ্ছেন রিকশা। অথচ হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রলায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ৬ মাসের সময় বেঁধে দিয়ে অটো রিকশা চলাচলে বাধা না দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে দিয়েছেন।
হাইকোর্টের নিষেধ সত্ত্বেও হঠাৎ করে ধরপাকড় শুরু করায় অসহায় হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার পরিবার। সিলেটে তিনটি সমিতি মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ইঞ্জিন রিকশার চলাচল ছিল নগরীর পথে। মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের লোকজনের জীবিকাই বাধা ছিল এ রিকশার সঙ্গে। রিকশা বন্ধ হয়ে পড়ায় থমকে গেছে তাদের জীবন চলার পথ। মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে আছে পুলিশের কাছে রিকশা আটকে থাকার বিষয়টি। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই ধরপাকড় শুরু হওয়ায় অনেকেরই রিকশা ‘আটক’ হয়ে আছে সিলেট মেট্রো পুলিশের হেফাজতে। সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে আরও বিপদে পড়তে হচ্ছে তাদের। আদালতের রায়ের কপি জমা দিয়েও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলেনি। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর পুলিশের ‘মন গললে’ও রিকশা মালিকদের মুচলেকা দিতে হচ্ছে সিলেটের পথে আর চালাবেন না ইঞ্জিন রিকশা। আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে সিলেট মেট্রো পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) বরাবরে আইনি নোটিশেও কাজ হয়নি। অনুমতি মেলেনি পথ চলার।[the_ad id=”253″]
২০১১ সালে প্রথম সিলেটের পথে নেমেছিলো ইঞ্জিন রিকশা। নগরীতে কোনো গণ-পরিবহন না থাকায় সুবিধা-অসুবিধার মিশেলে নগরবাসী একে অনেকটাই মেনে নিয়েছিলেন। এর আগে থেকেই ইঞ্জিন রিকশার পাশাপাশি সিলেট নগরীর অলিগলিতে চলছিল ৫ আর ৪ ব্যাটারিতে চালিত অটো রিকশা। আদুরে ‘টমটম’ নামে এ বাহনগুলোকেও গ্রহণ করে নেন নগরবাসী। ইঞ্জিন রিকশা যখন প্রথম পথে নামে তখন কেবল নগরীর পথে চলার অনুমোদন মেলে ৫ ব্যাটারির টমটমের। সিটি করপোরেশন থেকে চলাচলের অনুমোদন না থাকায় নগরীর পথে অনেকটাই অপাঙ্‌ক্তেয় হয়ে পথ চলে ৪ ব্যাটারির টমটম ও ইঞ্জিন রিকশা। ৫ ব্যাটারির টমটমের পাশাপাশি নগরীর পথে ৪ ব্যাটারির টমটম ও ইঞ্জিন রিকশার চলাচলের অনুমোদন চেয়ে ২০১২ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে আবেদন করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি। সিটি করপোরেশন তাদের আবেদনে সাড়া দেয়নি, জবাবও দেয়নি। জবাব না পেয়ে ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১২ চলাচলে বাধা না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে আরও একটি আবেদন করে অটোরিকশা মালিক সমিতি। সিটি করপোরেশন তাদের এ আবেদনের প্রতিও গুরুত্ব দেয়নি। কোনো ধরনের সাড়া না পেয়ে ন্যায়বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শোভানা বানুর মাধ্যমে একটি নোটিশ পাঠানো হয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রো পুলিশের কমিশনারের কাছে। ১৬ই অক্টোবরের মধ্যে বিষয়টির মীমাংসা করতে বলা হয় ওই নোটিশে। তাতেও সাড়া না পেয়ে ১৩ নভেম্বর অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. অলিউর রহমান বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট (নং : ১৩৯৯৬) করেন। রিটে বিবাদী করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রো পুলিশের কমিশনারকে। বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেইনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেয়ার সময় বেঁধে দিয়ে রুল জারি করেন। পাশাপাশি তিন মাসের স্থিতাবস্থাও জারি করেন আদালত। পরে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থার মেয়াদ বর্ধিত করেন।
হাইকোর্টের এ স্থিতাবস্থার মধ্যেই ২০১৪ সালে সিলেটের পথ থেকে অটো রিকশার চলাচল তুলে দেয় সিলেট মেট্রো পুলিশ। অবশ্য ইঞ্জিন রিকশাকে নগরীর পথে চলতে দেয়া হয়। তবে গত ২৪শে জানুয়ারি নগরীর পথ থেকে তুলে দেয়া হয় ইঞ্জিন রিকশাও। হাইকোর্টে মামলা খারিজ হয়ে গেছে এমন মর্মে হঠাৎই ধরপাকড় শুরু করে সিলেট মেট্রো পুলিশ। তবে আদালতের নির্দেশনা কিন্তু এমন ছিল না।
পুলিশি ধরপাকড়ের আগে স্থিতাবস্থার মেয়াদ থাকাবস্থায়ই গত ১৪ই জানুয়ারি শুনানি শেষে অটো রিকশা চলাচলে আরও ৩ মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দচন্দ্র্র ঠাকুর ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ। পরবর্তীতে একই বেঞ্চ ১৯শে জানুয়ারি মামলার মীমাংসা করে দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রলায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে। আদালত রায় উদ্ধৃত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম খালেদ স্বাক্ষরিত অবগতি পত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রলায়ের ২০১৫ সালে ২রা জুলাই দেয়া নির্দেশনার আলোকে জাতীয় ও অঞ্চলিক মহাসড়ক ছাড়া অটো রিকশা চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। সিলেট নগরীতে অবাধে চলতে পারবে অটো রিকশা। ৬ মাসের সময় বেঁধে দিয়ে এ সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন রিকশার চলাচলে বাধা না দিতেও বলেন হাইকোর্ট।
সিলেট মেট্রো পুলিশের সহকারী উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানালেন, আদালতের নির্দেশনা সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নন তিনি। তবে তিনি মনে করেন, রাস্তায় চলাচলে যেসব শর্ত মানতে হয় তা যদি কোনো যানবাহনের ক্ষেত্রে পাওয়া না যায় সেটা আটকে কোনো বাধা নেই।

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 16 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ