দুইলাখ ত্রিশ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক টাওয়ারের মগডালে তরুণী, হাজার হাজার মানুষের ভিড় !

প্রকাশিত: 9:23 AM, February 6, 2016

দুইলাখ ত্রিশ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক টাওয়ারের মগডালে তরুণী, হাজার হাজার মানুষের ভিড় !

নিউজ ডেস্ক : চারদিকে হইচই, চিৎকার। কয়েক গ্রামের লোকজন ছুটছে হাজারে হাজারে, অবাক এক কান্ড ! দুই লাখ ৩০ হাজার ভোল্টের এক শ ৩৩ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারের উপরে এক জলজ্যান্ত তরুনী বসে আছে আয়েশি ভঙ্গীতে।  নিচে হাজার হাজার উতসুক মানুষের ভিড়। সবার চোখ ওপরের দিকে টাওয়ারের চূড়ায় নির্লিপ্ত  বসে থাকা  তরুণীর দিকে । অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন বিদ্যুত অফিসের কর্মচারি হবে হয়তো, পরে ভুলটা ভাঙ্গে সবার।

শুক্রবার বিকেলেই ৩ টার দিকে প্রথম একজন দেখে ঐ তরুনীকে । তবে আরও আগে সে ওখানে অবস্থান নিয়েছিলো কিনা জানেনা কেওই । এক কান দু’কান করে দ্রুতই খবর পৌছে যায় ফায়ার সার্ভিসে ।  খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সেখানে যায়। সন্ধ্যা ৬টায় ১৩৩ ফুট উচু থেকে টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) দিয়ে টাওয়ার থেকে অচেতন অবস্থায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

পরে জানা গেলো পাশের গ্রামেরই তরুনী ।  নাম পারুল আক্তার (২২)।

‘রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান’ যেভাবে 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশেপাশের লোকজন মনে করেছিল ওই নারী হয়তো বিদ্যুতের কোন কর্মী। কিন্তু উপরে উঠে ওই নারীর আচরণে আশেপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডেমরা স্টেশনের কর্মকর্তা সোহেলের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে একটি ইউনিট ছুটে আসে। খবর দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরকে।[the_ad id=”253″]

এরমধ্যে পিজিসিবির সিদ্ধিরগঞ্জ অফিসের বিদ্যুতের কর্মী হায়দার, বারেক ও আতাউর টাওয়ারে উঠে ওই নারীকে প্রথমে বেল্ট দিয়ে আটকানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। এক পর্যায়ে পারুলের কোমড়ে বেল্ট দিয়ে তাকে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত করে। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এরপর শুরু হয় পারুলকে টাওয়ার থেকে নামানোর নানা কৌশল।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার ইব্রাহিম আহমেদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে  জানান, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স ২৪-২৫ হবে। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে  মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে । বিদ্যুতের মূল লাইন দূরে ও সেটা ছুতে না পারার কারণে নারীর কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যথা সময়ে তাকে উদ্ধার করা না গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পিজিসিবি সিদ্ধিরগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল-আমিন জানান, টাওয়ারে উঠার পর মেয়েটি যদি আর ১০/১২ ফুট উচুতে উঠতে তবে সে বিদ্যুতাড়িত হয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হতো। টাওয়ারে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কাটাতারের বেড়া দিলে চুরি হয়ে যায়। তাই কাটাতারের বেড়া দেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল আয়েশা আক্তার তমা নামে এক তরুণী সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী নাভানা ভূঁইয়া এলাকার আরেকটি সঞ্চালন লাইনের ১২০ফুট উচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাকেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টিটিএল দিয়ে সোয়া ৫ ঘণ্টা পর তাকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 23 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ