৩৭ বছর পর শেকড়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডসের সুলতানা

প্রকাশিত: 12:58 AM, February 5, 2016

৩৭ বছর পর শেকড়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডসের সুলতানা

মা-বাবার নাম মনে নেই। মনে নেই কোথায় জন্মেছেন। গ্রামের নাম ঠিকানা জানেন না। শুধু দাদির নাম মনে আছে। ৩৭ বছর পর নেদারল্যান্ডস থেকে চট্টগ্রামে এসে পরিবারের সদস্যদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন সুলতানা।
পুরো নাম সুলতানা ভ্যান ডি লিস্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর জামাল খান প্রেস ক্লাবে কথা হয় এই নারীর সঙ্গে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা সুলতানার পাশে এ সময় দেখা যায় তার স্বামী নেদারল্যান্ডসের একজন ডিজাইনার ইউরি জেকবকে। সঙ্গে ১০ বছরের ছেলে নোয়া আবেদ নাবিলা জেকব।
সুলতানা জানান, বাবা মা মারা যাওয়ার পর ৫ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতির হাতে তাকে দত্তক তুলে দেন দাদি রহিমা খাতুন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারী থেকে তাকে ওই ডাচ দম্পতি সেই দেশে নিয়ে যান বলে তিনি পরে জানতে পারেন। সালটি ছিল ১৯৭৯।
থিয়া ও ক্রিস দম্পতিকে বাবা-মা মনে করে তাদের পরিবারে বড় হতে থাকেন সুলতানা। ইংরেজি শিখলেও বাংলা ভাষার প্রতি তার রয়েছে বেশ আগ্রহ। একজন বাংলাদেশি হিসেবে তার গর্বের শেষ নেই। পত্রপত্রিকায় যখনি বাংলাদেশের কোনো সংবাদ তার চোখে পড়ে, তখনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।[the_ad id=”253″]
এ বিষয়ে সুলতানা বলেন, ‘যখন জানতে পারি আমি এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছি তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই। কারণ, যারা আমাকে দত্তক নিয়েছিলেন তারা বলেছিলেন মুসলেম আলী নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাকে পেয়েছেন। তখন আমার এক দাদিও ছিলেন। এটুকু নিয়েই বাংলাদেশে এসেছি।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে আমার জন্মদাতা বাবা-মা বেঁচে নেই বলে জানি। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের যদি একটু খুঁজে পাই তাহলে আমার দেশে আসা সার্থক হবে। এবার মাত্র এক সপ্তাহের জন্য এসেছি। ১১ই ফেব্রুয়ারি চলে যাবো। প্রয়োজনে আবার আসবো।’
সুলতানা চন্দনাইশের কিছু স্মৃতি মনে আছে জানিয়ে বলেন, ৫ বছর বয়সে দেশ ছেড়েছিলাম। ওই সময় সেখানকার একটি বাজারের কথা বেশ মনে আছে। দুই একটি দোকান চিনতাম। যেখানে সবাই বসে থাকতো। এখন বহু বছর পর সেখানে সেই অবস্থা আছে কিনা তা জানি না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি এনজিওর মাধ্যমে আমি সেখানে যাবো। ওই দাদি রয়েছেন কিনা তাও জানি না। তবে আমাকে দত্তক নেয়া দম্পতি জানিয়েছেন, রহিমা খাতুন নামে যে দাদি আমাকে তুলে দিয়েছিলেন তিনি দোহাজারী এলাকার মৃত কদম আলীর স্ত্রী।
বাংলাদেশে আসা প্রসঙ্গে সুলতানার স্বামী নেদারল্যান্ডসের ফ্যাশন ডিজাইনার ইউরি জেকব ইংরেজিতে বলেন, আমার বিশ্বাস পরিবারের একজন সদস্যকে হলেও খুঁজে পাবো। শুনেছি বাংলাদেশের লোকজন অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়। আগামী দুদিন দোহাজারী যাবো। সেখানে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলবো।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী সুলতানা বাংলাদেশে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ে। তাই একটি এনজিওর মাধ্যমে এখানে এসেছি। জানি না কাউকে পাবো কিনা। পেলে ভাগ্য বলে কিছু আছে মনে করবো। না পেলে সান্ত্বনা হিসেবেই থাকবে অন্তত বাংলাদেশে আসতে পেরেছি।
সুলতানার সঙ্গে বাংলাদেশে আছেন ইসমাইল শরীফ নামের একজন বন্ধু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসার আগে দোহাজারীর অনেকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। পরিবারের কোনো সদস্যের নাম মনে না থাকায় একটু চিন্তিত নেদারল্যান্ডসের স্কুলশিক্ষিকা সুলতানা।

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 19 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ