সরে দাঁড়ালেন প্রবীণরা : সিলেট বিএনপিতে আসছে তরুণ নেতৃত্ব

প্রকাশিত: 12:14 AM, February 5, 2016

সরে দাঁড়ালেন প্রবীণরা :  সিলেট বিএনপিতে  আসছে তরুণ নেতৃত্ব

তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন সিলেট বিএনপির সিনিয়র নেতারা। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নেই পুরাতন মুখের কেউ। নতুনদের জন্য তারা জায়গা ছেড়ে  দিয়ে সিলেট বিএনপিকে এগিয়ে নিতে চাইছেন। আগেই ঘোষণা দিয়ে সরে গেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ হক। কারাবন্দি থাকায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও প্রার্থী হননি। আর ইলিয়াসপত্নী লুনাও তরুণদের জায়গা করে দিতে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে এবার সিলেট বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন তরুণ মুখ। কাউন্সিলের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। এদিকে, আগামীকালের সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কাউন্সিল একদিন পেছানো হয়েছে। অনিবার্য কারণে বিএনপির পক্ষ থেকে এই তারিখ পেছানো হয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। কাউন্সিল হবে পরদিন ৭ই ফেব্রুয়ারি। আর কাউন্সিল উপলক্ষে সিলেটে আসছেন কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়ার হোসেন জীবনসহ সিনিয়র নেতারা। সিলেট বিএনপির প্রবীণ নেতা এম হক জানিয়েছেন, ‘সিলেটে এখন তরুণদের জন্য স্থান ছেড়ে দিতে হবে। যারা আমাদের হাত ধরে বিএনপিতে এসেছে তারা এখন যোগ্য নেতা। আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় রয়েছে। তাদের জন্য স্থান ছেড়ে দিতে তিনি এখন আর স্থানীয় রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তিনি ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।’ আর আরিফুল হক চৌধুরীও শেষ মুহূর্তে সরে গেছেন। তিনি নিজেও আর সিলেটের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হতে চাচ্ছেন না। এদিকে এবার চাপ ছিল বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার ওপর। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত সিলেটের রাজনীতিতে নামছেন না।[the_ad id=”253″]
এদিকে, এবার সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৩ পদের জন্য জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ২৬ জন লড়াইয়ে নেমেছেন। ২০০৯ সালের ২৫শে নভেম্বর সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি সিলেটে বেশ গতিশীল ছিল। এর প্রায় ৪ বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ই এপ্রিল ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সম্মেলন শেষ করতে পারেনি জেলা বিএনপি। অন্যদিকে ৩ মাসের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় পার করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। আন্দোলন সংগ্রামে ব্যস্ত থাকার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি গঠিত আহ্বায়ক কমিটি। জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক এবং মহানগর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদুস সামাদ জানিয়েছেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য মোট ১২ জন এবং মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য ১৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। জেলা সভাপতি পদে সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম ও আবুল কাহের শামীম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ লড়াইয়ে রয়েছেন। এছাড়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, কারাবন্দি থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল আহাদ খান জামাল, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট হাসান পাটোয়ারি রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ময়নুল হক, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ও অধ্যাপক জিল্লুর রহমান শোয়েব মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মহানগর বিএনপি সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসিম হোসাইন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব বদরুজ্জামান সেলিম, কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও রেজাউল হাসান কয়েস লোদী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর শাহিন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিফতাহ সিদ্দিকী, মাহবুব চৌধুরী, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, রুকশানা পারভীন ও আফজল হোসাইন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কাউন্সিলে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির ১৩২ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। জেলার অধীনে ৫১ জন এবং মহানগরের অধীনে রয়েছেন ৮১ জন ভোটার। জেলার অধীনে ১৭টি ইউনিটের মধ্যে রয়েছে ১৩ উপজেলা ও ৪ পৌরসভা। তবে, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপি কমিটিতে পালটাপালটি কমিটি থাকায় কাউন্সিলে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির অধীনে ২৭টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
কারাবন্দি জামালের স্ত্রীর আকুতি: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি ও ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কারাবন্দি আবদুল আহাদ খান জামালকে সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করার জন্য সবিনয় আবেদন জানিয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানা জামাল পপি। সব অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র উপক্ষো করে কাউন্সিলে জামালকে নির্বাচিত করতে কাউন্সিলরদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে পপি বলেন, ‘আমার স্বামীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কয়েক দিন ধরে একটি কুচক্রীমহল ভোটারসহ বিভিন্ন মহলে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে আমার স্বামী আবদুল আহাদ খান জামাল শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন। ষড়যন্ত্রকারীরা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এ তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। একজন কারাবন্দি মানুষকে নিয়ে এরকম মিথ্যাচার শুধু দুঃখজনক নয়, লজ্জাজনকও। মরণশীল পৃথিবীতে সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী উল্লেখ করে ফারজানা জামাল পপি বলেন, ‘আমার স্বামী যদি জীবনভর দলের প্রতি আনুগত্যশীল ও দুর্দিনে রাজপথে থেকে থাকেন এবং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আপসের চোরাবালির পথে না হেঁটে থাকেন এবং সর্বশেষ দলের কারণেই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ও অবুঝ সন্তানকে রেখে দীর্ঘ আড়াই মাস থেকে কারাগারে বন্দি থেকে থাকেন, তবে নীরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আমার স্বামীকে নির্বাচিত করে অপপ্রচার ও চক্রান্তের জবাব দিন। এতে আমার পরিবার সম্মানিত কাউন্সিলরদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।’

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 21 বার পঠিত হয়েছে