স্কুলছাত্র আবদুল্লাহ হত্যা, উত্তাল পশ্চিম মুগারচর

প্রকাশিত: 3:21 AM, February 4, 2016

স্কুলছাত্র আবদুল্লাহ হত্যা, উত্তাল পশ্চিম মুগারচর

ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্কুলছাত্র আবদুল্লাহ হত্যার ঘটনায় পশ্চিম মুগারচর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকাল থেকে মুগারচর এলাকায় শত শত নারী-পুরুষ নিহত স্কুলছাত্র আবদুল্লাহর বাড়িতে ভিড় জমান। গতকাল বিকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে আবদুল্লাহর লাশ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়। নিহতের মা রিনা আক্তার ও বাবা মো. বাদল হোসেনের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। তাদের পরিবারের মধ্যে বইছে শোকের মাতম। সকাল ১১টায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইউএনও আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী পুলিশ ও জনতার উদ্দেশে বলেন, স্কুলছাত্র আবদুল্লাহ হত্যার বিচারের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মুগারচর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকালে আবদুল্লাহর লাশ তার নিজ বাড়িতে নেয়ার পর শত শত লোক হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. ফেরদাউছ হোসেন বলেন, আবদুল্লাহর চাচাতো দাদার বাড়ি থেকে ড্রামভর্তি লাশ উদ্ধারের পর পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকাল থেকে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ঘাতকের বাড়ি ও মার্কেটে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয়রা। [the_ad id=”253″]

মূল ঘাতক দাদা মোতাহারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকেই উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রেখেছেন। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনার মূলহোতা খোরশেদ আলম, মোতাহারের ছেলে মেহেদী হাসান, তার মেয়ে মিতু আক্তার ও প্রতিবেশী আল-আমীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর মোতাহার হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গতকাল সকালে মামলা তদন্তকারী অফিসার শফিকুল আলম ৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছেন। আদালত আসামি মেহেদী হাসানকে ৭ দিন, খোরশেদ আলম, মিতু আক্তার ও আল-আমীনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকালে একই এলাকার মোতাহার হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান খেলার কথা বলে স্কুলছাত্র আবদুল্লাহকে ডেকে নেয়। ওই দিনেই মোতাহার ও খোরশেদ আলম শ্বাসরোধ করে আবদুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর আবদুল্লাহর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ড্রামের ভেতর এসিড দিয়ে রেখে দেয়। অপহরণকারীরাই শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এমনকি মূল ঘাতক খোরশেদ আলমকেও পুলিশের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। পুলিশের সন্দেহে হলে খোরশেদ আলমকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তিতে আবদুল্লাহর লাশ মোতাহারের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।

 

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ