‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সোহেল তাজ

প্রকাশিত: 3:05 AM, February 4, 2016

‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সোহেল তাজ

জাহাঙ্গীর আলম জনি :  আবার রাজনীতিতে ফিরে আসছেন জাতীয় নেতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিনের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। তাঁকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার সব রকম প্রচেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন।

এরই ধারাবাহিক হিসেবে সোহেল তাজ দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাত করেছেন। এ সময় সোহেল তাজের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর দুই বড় বোন সিমিন হোসেন রিমি এমপি ও মাহজাবিন আহমদ মিমি। অনেকদিন পর শেখ হাসিনা তাঁকে কাছে পেয়ে গভীর মমতা ও ভালবাসায় বুকে জড়িয়ে আবেগে কাঁদতে থাকেন।  যা একটি গভীর  ভালবাসার প্রতিচ্ছবি। মমতাময়ী মায়ের এমন দৃশ্য আবেগে আপ্লুত করে অনেককেই।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় রাজনীতিতে ফের সরব হয়ে উঠতে পারেন সোহেল তাজ। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়ের সঙ্গে তিনি কাজ করবেন। সোহেল তাজের আগমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সোহেল তাজকে ‘‘বঙ্গতাজ’’ বলে মন্তব্য করেন।

[the_ad id=”249″]

এদিকে, বাংলাদেশর রাজনীতিতে সোহেল তাজের ফিরে আসা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাঁকে বুকে টেনে নেওয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই সোহেল তাজকে অভিন্নদন জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন।

আবার কেউ কেউ বলেছেন,  ‘‘খালেদা জিয়া তো নিজের সন্তানকেও এভাবে বুকে নেয় না, যদি মেকাপ আর শাড়ির ভাজ নষ্ট হয়ে যায় এই ভয়ে । জাতীর জনকের কন্যা বলেই এ রকম ” মায়াবী মমতাময়ী “। পাখি যেমন তার সন্তানকে পাখার নিচে রেখে লালন পালন করেন. সেই রকম  প্রধানমন্রী ও সোহেল তাজ এর ছবিতে মমতাময়ী মা এর আদর ও সোহাগ ফুটে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আমার খুব হিংসা হয়. এই দৃশ্য দেখতে। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার মহানুভবতার জন্য। সোহেল তাজের মত যদি আরো কিছু নেতা আমাদের রাজনীতিতে থাকতো হয়তো মানুষের কাছে রাজনীতি সবার উপরে থাকতো। ’’

ফেসবুকে আরেক বন্ধু লিখেছেন,  ‘‘জনগনের ভালবাসায় ফিরে এলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর সুযোগ্য উত্তরসুরী, যুব ও তরুণ সমাজের প্রিয় ব্যক্তি, কাপাসিয়া তথা গাজীপুরের গর্ব, সারা বাংলাদেশের অহংকার, বার বার নির্বাচিত সাবেক এমপি ও সফল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রিয় নেতা তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। মায়ের মত পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে নিলেন মমতাময়ী নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’’।[the_ad id=”253”]

একইভাবে আরো একজন লিখেছেন, ‘‘রাজনীতিতে ত্যাগ, সততা ও জনগণের প্রতি ভালবাসা এগুলো একেবারে বৃথা যায় না। হে প্রিয় নেতা ‘আজো ভুলিনি সেই ২০০১ইং ১লা অক্টোবর নির্বাচন পরবর্তী কাহিনী, যখন আমাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায় কারাগারে, তখন তুমি ছুটে গিয়েছিলে আমাদেরকে মুক্ত করার জন্য। আমরা তখন তোমায় কাছে পেয়ে ধন্য হয়েছিলাম। তুমি আমাদের মাঝে এতদিন ছিলেনা,  তাই হয়েছিলাম নেতৃত্ব শূন্য, হারিয়েছিলাম ভরসার ঠিকানা’’।

তোমার জন্য আজো কাদে প্রান ও মন,
এইজন্যে তুমি যে ছিলে আমাদের খুবই আপনজন।
প্রান প্রিয় নেতা তুমি আবার ফিরে এসো রাজনীতিতে,
ছড়াও আশার আলো,
হে প্রিয় নেতা তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ
আমরা এখনো তোমায় বাসি ভাল।
তোমার শুভ আগমনে
আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে
হে প্রিয় নেতা তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ
তোমাকে জানাই মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’।
এক বন্ধু লিখেছেন এই কবিতাটি…

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘‘শোনা যাচ্ছে  সোহেল তাজ খুব তারাতারি রাজনীতিতে ফিরে আসছেন। এমনকি তিনি নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক কোন পদ নিয়ে রাজনীতি শুরু করতে পারেন । কথাটা যেন সত্যি হয়’’।

এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সোহেল তাজ। এর পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করে তিনি দেশের বাইরে চলে যান। পরে এমপি পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি।  তবে অল্প সময়ের দায়িত্বে তিনি যেভাবে বাংলার মানুষের মন ও ভালবাসা জয় করেছেন তা এখনও ভুলেনি বাংলার জনগণ।

ওই বছর ৩১মে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তাঁর ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানান। এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ। গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পদত্যাগের পর কাপাসিয়াবাসীর উদ্দেশে পত্রিকায় একটি খোলা চিঠি লেখেন।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ওই বছরই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংস জেলহত্যার শিকার হন জাতীয় চার নেতা। তাদের অন্যতম ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তারই ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাপাসিয়া থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে সোহেল তাজ দ্রুতই এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, তরুণ, উদ্যমী, মেধাবী ও একজন প্রতিশ্রুতিশীল নেতা হিসেবে তিনি দল ও মানুষের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এ কারণেই তাকে দলের রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে তিনি রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে। রাজনীতিতে ছিলেন, তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সেটি তো ভালো কথা। তাকে আমরা স্বাগত জানাবো।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সোহেল তাজ তো রাজনীতিরই মানুষ। রাজনীতির মধ্য দিয়েই তিনি গড়ে উঠেছেন। রাজনীতি তিনি ছাড়বেন কেন বা রাজনীতিই বা তাকে ছাড়বে কেন?

এদিকে, দেশের মানুষের প্রত্যাশা সোহেল তাজ আবারও রাজনীতি ফিরে আসুক। কারণ দেশের জন্য তাঁর মতো সৎ ও যোগ্য নেতার অনেক প্রয়োজন। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী প্রজন্মকে দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। সেজন্য যোগ্য নেতা দরকার। আমরা সোহেল তাজের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করি।

 

[the_ad id=”312″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 31 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ