পারাপার

প্রকাশিত: 11:08 AM, September 7, 2020

FB_IMG_1599453222461
—— রাজিয়া আক্তার পপি

এপার ওপার দুই পারেতেই আমার চলাচল,
এপার ওপার চলছি শুধু ছলাৎ ছলাৎ ছল।
এপার ওপার দুই পারেতেই আছে আমার বাকী,
দুই পাড়েরই সুখ দুঃখ আমার ভেতর রাখি।
এপারের লোক নেমে গেলেও ওপারের লোক ওঠে,
পারাপারের মাঝে তাদের সুখ দুঃখ ফোটে।
এপারের এক হিজল গাছ আর ঐপারেতে বট,
কখনোবা চোখটি বুলায় মৃতের ছাইয়ের ঘট।
এপারের হাঁস সাতার কেটে ঐ পারেতে যায়,
এপারের কেউ অসুখ হলে ওপারেতে ধায়।
এপার যখন ঐপারেতে বিয়ে করায় ছেলে,
কি খুশি যে পারাপারের নৌকা খানি পেলে।
এপারের কেউ মারা গেলে ওপারের লোক আসে,
এপারেতে বন্যা হলে ওপারের লোক ভাসে।
এপার ওপার দুই পারেতেই নৌকা বাইচের দল,
দুই পারেতেই হাজারো লোক খুশিতে টলমল।
আবার যখন দুই পারেতেই বিবাদ কভূ বাঁধে,
দুই পারের লোক সবাই ভিন্ন ভিন্ন গলা সাধে।
এই পারের শিমুল উড়ে ঐ পারেতে যায়,
এপারের কষ্টে তবুও ওপার কাঁদে হায়।
এপারের ঐ বুড়ী মাসি পারাপার হয় রোজ,
একদিন যদি নাইবা আসে ওপারের নেয় খোঁজ।
এপারের ঐ আবুল চাচা ওপারে দোকান করে,
বেচা কেনা শেষে ফেরে এই পারের এই ঘরে।
এপারের ঐ ছোট্ট শিশুর ওপার বিদ্যালয়,
এপার ওপার মিলে মিশে সুখ দুঃখে রয়।
আবার যখন নদীর জোয়ার অনেক বেশি থাকে,
এপার ওপার দুই পারেতেই বিপাক নদীর বাঁকে।
এপারের লোক ধান উঠালে নতুন পিঠা করে,
ঐ পারেতে দাওয়াত করে পেটটা তাদের ভরে।
এপার ওপার মিলে যে এক গভীর ভালোবাসা,
পারাপারের নাওটি বুঝি ঘোচায় মনের আশা।
এপার ওপার ভালোবাসার মাধ্যম এক ঐ
নাওটি ছাড়া সবাই ছিন্ন ভালোবাসা বৈ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 40 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ