সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জালিয়াত চক্র কর্তৃক জায়গা আত্নসাতের উদ্দেশ্যে হামলা মামলায় অতিষ্ট নিরীহ জনগন, জেলা প্রশাসনে অভিযোগ দায়ের।

প্রকাশিত: 9:08 AM, June 24, 2020


20200611_154203সংবাদ দাতা : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাল কাগজে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে হামলাকারী জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে গণস্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ দায়ের করেছেন বালিজুরী ইউপির বড়খলা গ্রামের নকুল বর্মন সহ ৩০টি নিরীহ পরিবারের প্রতারিত জনগন।

বিগত ১৪/০৬/২০২০ইং তারিখে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, দুর্নীতিদমন কমিশন সহ স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়, বড়খলা গ্রামের জিতেন্দ্র পাল তার স্ত্রী বিনয় রানী পাল, পুত্র ক্ষিতেশ পাল, কৃপেশ পাল, করিম পাল গংরা পরস্পর আত্নীয়বাধ্য একদলভুক্ত প্রতারক দাঙ্গাবাজ সন্ত্রাসী জালিয়াত ভুমি খেকো চক্র।
অভিযোগকারী নকুল বর্মন সহ সকুল বর্মন, রনজিত বর্মন, শিবা বর্মন, সত্যরঞ্জন বর্মন, অবলা রানী বর্মন, সত্যেন্দ্র পাল, সহ প্রতারিতরা অভিযোগ করেন তাহিরপুর উপজেলার বড়খলা মৌজার ২১৮ ও ২৪৫ দাগ সহ কতেক দাগের ভুমি তাদের মৌরসী স্বত্ব। যুগ যুগ ধরে তারা তাদের পূর্বসূরি রেকর্ডিয় মালিক সুরেশ চন্দ্র বর্মন ও জোগেশ বর্মনের উত্তরাধিকারী হিসেবে বংশানুক্রমে ফসল ফলাইয়া ভোগ দখল করে আসছেন। বর্তমানে রক্তি নদীর ভাঙ্গনে কবলিত হইয়া উক্ত জমির কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আর কিছু অংশ নদীর তীরবর্তী পতিত অবস্থায় আছে।
সম্প্রতি একই গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র পাল ও বীনা রানী পাল গংরা উক্ত জায়গাটি জোরপূর্বক জবরদখল নিতে অপতৎপরতা চালায়।
রেকর্ডিয় মালিক সুরেশ চন্দ্র বর্মনের পুত্র সচিন্দ্র বর্মন এবং যোগেশ চন্দ্র বর্মনের পুত্র নকুল বর্মন, সকুল বর্মন, রনজিৎ বর্মন, এবং পুতুল বর্মনের পুত্র শিবা বর্মন, ও সুজন বর্মনের স্বাক্ষর জালিয়াত করে তাদের নামে আন রেজিস্টার্ড ষ্টাম্পে ভুয়া বন্দোবস্তনামা তৈরী করে উক্ত জমিটি দখলে নিতে উদ্যত হলে তারা বাঁধা দিলে বীনা পালের পালিত সন্ত্রাসীরা গত ০৫/০১/২০২০ ইং তারিখে দেশীয় অশ্রসশ্র নিয়া নিরীহ সত্যরঞ্জন বর্মনের বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে সত্যরঞ্জন বর্মন, অবলা রানী বর্মন সহ পরিবারের সকলকে এলোপাথারী মারপিট করে গুরুতর জখম করে। তাদের আর্তচিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা করান এ প্রেক্ষিতে সত্যরঞ্জন বর্মন বাদী হয়ে পরদিন ৬/১/২০ ইং তারিখে বিনয় রানী পাল ও তার স্বামী জিতেন্দ্র পাল সহ ৬ জন নামাঙ্কিত ও ৪ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান আতিক সঙ্গীয় ফোর্স সহ সরজমিনে তদন্তে আসেন, তিনি এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও ওয়ার্ড মেম্বার রেনু মিয়া, সোহালা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন, বালিজুরী গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও রয়্যলিটি ঘাটের ইজারাদার মজিদ খান সেলিমের সমন্বয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংশা করে দেন।
কিছুদিন শান্ত থাকার পর সম্প্রতি উক্ত ভুমিখেকো চক্রটি জাল কাগজের মাধ্যমে জায়গাটি দখলে নিতে পুনরায় তাদের অপতৎপরতা চালায়। যেকোন সময় হামলা চালিয়ে উত্তরাধিকারদেরকে হত্যা করিয়া উক্ত জায়গা জোরামুলে জবর দখল করে নেবার হুমকি দেয়ায় দিশেহারা নিরীহ বর্মন পরিবারের ৩০ জন সদস্য প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, , তাহিরপুর থানা, দুর্নীতিদমন ব্যুরো বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ প্রেক্ষিতে সরেজমিনে বড়খলা গ্রামে গেলে শতাধিক গ্রামবাসী জালিয়াত চক্রের হোতা বিনয় রানী পালের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবের প্রতিবাদ জানান।
রেকর্ডিয় মালিক সুরেশ চন্দ্র বর্মনের পুত্র সচিন্দ্র বর্মন বলেন,” আমি বড়খলা মৌজার ২১৭ দাগের ১.২৭ একর জমির একমাত্র উত্তরাধিকারী, আমি বিনয় রানী পালের নামে কোন বন্দোবস্ত দেই নাই এমন কি কোন কাগজে স্বাক্ষর দেই নাই। অপর রেকর্ডিয় ২৪৫ দাগের মালিক যোগেশ চন্দ্র বর্মনের পুত্র নকুল বর্মন, সকুল বর্মন, রনজিৎ বর্মন, এবং ২৪৬ দাগের রেকর্ডিয় মালিক পুতুল বর্মনের পুত্র শিবা বর্মন ও সুজন বর্মন বলেন, তারা কেউই বিনয় রানীর কথিত বন্দোবস্ত নামায় কোনরূপ স্বাক্ষর করেনি কিংবা এ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেনা। তারা জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিনয় রানী পালের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি তার উপর আনীত অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে বলেন “স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার রেনু মিয়ার উপস্থিতিতে বন্দোবস্ত নামায় স্বাক্ষর করে আমি জায়গাটি লীজ নিয়েছি।”

এ প্রসঙ্গে বালিজুরী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার রেনু মিয়া বলেন, ” আমি এই বিষয়ে কিছুই জানিনা, আমি ঐ সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলামনা চিকিৎসার কাজে রোগী নিয়া শহরে ছিলাম বন্দোবস্তের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।”
প্রতারিত পরিবারের সদস্য সচিন্দ্র বর্মনের স্ত্রী অবলা রানী বর্মন বলেন “আমার স্বামী সচিন্দ্র বর্মন একজন বৃদ্ধ লোক ঠিকমতো চোখে দেখতে পারেন না। বিনয় রানী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত অনেক লম্বা তাদের আতংকে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি, ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার পুত্র সত্যরঞ্জনকে পিঠিয়েছে, আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম, যেকোন সময় আমার বৃদ্ধ স্বামীকে মেরে ফেলতে পারে আমি আইনের আশ্রয় চাই।” আমাদের জায়গা জমি আত্নসাত করার জন্য আমার পুত্র ও আত্নীয় স্বজন সহ এলাকার মেম্বার রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে ও মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানী করছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই”। সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে উক্ত জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ৩০ টি পরিবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 90 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ