অসহায় মানুষের পাশে # মানবতার ফেরিওয়ালা মোঃ শেরগুল আহমেদ

প্রকাশিত: 6:05 PM, April 10, 2020

অনলাইন ডেস্কঃ BeautyPlus_20200409174310158_saveদুরন্ত শৈশব কেটেছে সুরমার স্রোতধারায় একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে অবাধ সাঁতার কেটে আবার কখনো জাম গাছের শাখায়। দুরন্তপনা করে শৈশব অতিবাহিত হওয়া ডানপিঠে মানুষটি আজ একজন পরিপূর্ন মানুষ।

ভাটির জনপদ হিসেবে খ্যাত জল-জোছনা ও মেঘ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কবিতা ও গানের শহরে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-শিক্ষা-সাংবাদিকতা ও ক্রীড়াঙ্গনের পরিশীলিত ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ।

পৌর শহরের তেঘরিয়া আবাসিক এলাকায় ১৯৬৪ সালের ৩১ ডিসেম্ভর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মরহুম কয়েস মিয়া এবং মাতা আলেকুন নেছার ৩য় সন্তান শেরগুল আহমেদ তাঁর অদম্য প্রাণশক্তি এবং নিজেকে উচ্চ শিক্ষায় আলোকিত করার মানসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে ১৯৮৯ সালে স্নাতক এবং ১৯৯০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করলেও ইংরেজী ভাষার রয়েছে তাঁর অগাধ পান্ডিত্য।

ছাত্রজীবন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা-সংস্কৃতি চর্চার প্রসার এবং লেখালেখির প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। হৃদয়ের সেই অনুরাগ থেকেই সুনামগঞ্জের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুরু তাঁর দৃপ্ত পদচারণা। সাংস্কৃতিক কর্মি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ ও বাঙালি সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং একটি পরিছন্ন-সুস্থধারার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল উপহার দেয়ার নিমিত্তে পৃষ্ঠপোষকতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

সুনামগঞ্জের মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম অনুরাগ এবং মরমী সংস্কৃতির উর্বর জনপদকে সুন্দর আগামীর তীর্থস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ নিরলসভাবে কাজ করতে শুরু করেন যা আজো বিদ্যমান রয়েছে।

অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সুনামঞ্জ শহরের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আস্থাভাজন এবং আপনজন হয়ে ওঠেন। সময়ের পরিক্রমায় তাঁর সৃজনশীল পরিকল্পনা এবং সাংগঠনিক প্রাজ্ঞময়তায় একের পর এক নান্দনিক অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে গতিময় করে তোলে। সুস্থধারার সংস্কৃতির প্রতি তাঁর এই অনুরাগ, সুধী মহলে তাঁকে একজন শেকড় সন্ধানী সংস্কৃতিসেবী হিসেবে পরিচিতি করে।

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড’র পাশাপাশি, সুনামগঞ্জের অসহায় ও দুস্থ শিল্পীদের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তাসহ তাদেরকে সামাজিকভাবে পূনর্বাসন করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। অসহায় শিল্পীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত করেন “শিল্পী কল্যাণ সংস্থা” নামে একটি সংগঠন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনের অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন। মোঃ শেরগুল আহমদ’র দৃঢ় সাংগঠিক নেতৃত্বে পৌর মুক্তমঞ্চে নব্বই দশকে সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ” অগ্রদূত শিল্পী গোষ্ঠী” ৪ দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব, শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে “শেকড়ের সন্ধানে” শিরোনামে সত্তর-আশির দশকের জনপ্রিয় হারানো দিনের গান নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে ” ঈদ ও পূজা পূনর্মিলনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান” আজো সুনামগঞ্জের সকল সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুধীজনদের হৃদয়ে স্মৃতিময় হয়ে আছে পরম ভালোবাসায়।

সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির জীবন সদস্য ও কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য মোঃ শেরগুল আহমেদ একজন মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী হিসেবেও সবার কাছে পরিচিত। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে পল্লীগীতির শিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে নিবিড়ভাবে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতায়ও নিজেকে জড়িত রেখেছেন। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি দৈনিক সংবাদপত্রের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংবাদপত্রগুলো হলো, বাংলাদেশ অবজারভার এবং দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

২০০১ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং অদ্যাবধি এই দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালে “দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক” শিরোনামে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

পেশাগত জীবনে মোঃ শেরগুল আহমেদ একজন নিবেদিতপ্রান শিক্ষক। ১৯৯৫ সালে তিনি সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৌর কলেজ’র ( বর্তমানে পৌর ডিগ্রী কলেজ) সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক হিসবে যোগদান করেন এবং ২০১২ খ্রিস্টাব্দে উক্ত প্রতিষ্ঠানে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বলাভ করেন এবং অদ্যাবধি সততা ও দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার এবং একজন আদর্শনিষ্ঠ কর্মপরায়ন অধ্যক্ষ হিসবে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি ডিগ্রী কলেজের স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে পৌর ডিগ্রী কলেজের নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যার অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন মোঃ শেরগুল আহমেদ।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর এই অবদানের জন্য ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে সারেগামা শিশু সংগঠন তাঁকে ” আলোকিত শিক্ষাবিদ” সম্মাননা প্রদান করে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা। পিতার উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর তিন কন্যাও লেখাপড়ায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 51 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ