সাংবাদিক সন্মেলন।

প্রকাশিত: 2:22 PM, February 28, 2020

মিজানুর  রহমান মিজান : সুনামগঞ্জে ভুয়া ওয়ারেন্টে নীরিহ জনগনকে হয়রানীর অভিযোগ করে  ভুক্তভোগীরা সাংবাদিক সন্মেলনকরেছেন। সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ভুয়া ওয়ারেন্ট দেখিয়ে নিরীহ জনগনকে কারাগারে চালান দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৭/ ০২/২০২০ইং দুপুর ২টায় সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরী হল রুমে আয়োজিত সাংবাদিক সন্মেলনে ভুয়া ওয়ারেন্টে কারাগার ফেরত ৪ জন ভুক্তভোগী এ অভিযোগ করেন।
গত ২৩/০২/২০২০ইং তারিখে মাননীয় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগীদের পক্ষে দায়েরকৃত আবেদন মোতাবেক জানাযায়, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার জিয়াপুর গ্রামের আব্দাল হোসেন ও কামরান হোসেনকে গত ১৫/১১/২০১৯ ইং তারিখে সিআর- ২০১২/১৯(ঢাকা) নং ভুয়া মামলার ভুয়া ওয়ারেন্ট মুলে জাউযাবাজার তদন্ত কেন্দ্রের এ এস আই মো: বাচ্চু মিয়া তাদেরকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত কামরানের ১ দিন পরই অনার্স ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দেবার কথা ছিল। গত ০১/০১/২০২০ ইং তারিখে আমিনুল হক ওরফে আমিরুলকে ও ঐ একই ভুয়া ওয়ারেন্ট মুলে গ্রফতার করা হয়। অথচ উক্ত ৩ জনের মধ্যে কারো নামেই ঢাকায় কোন মামলা নেই এবং তারা কখনোই ঢাকা যায়নি।
অপর দিকে তাহিরপুর থানার মাটিকাটা গ্রামের মৃত ইউনুস এর পুত্র আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে গত ০৪/০১/২০২০ ইং তারিখে মাদারীপুর থানার মামলানং ২৮(৫)১৩ এর ভুয়া সাজা পরোয়ানা মুলে তাহিরপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট তিনি তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তিনি একজন লাইসেন্সধারী কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীকারক এবং জীবনেও কোনদিন মাদারীপুর যাননি। তিনি এই ওয়ারেন্টটি ভুয়া বলে চ্যালেঞ্জ করলে অফিসার ইনচার্জ ওয়ারেন্টের সত্যতা যাচাই করে ওয়ারেন্টটি ভুয়া জানতে পেরে তাকে জিডি নং ১০৯, জিম্মানামা মুলে তাহার আত্নীয় স্বজনের নিকট বুঝাইয়া দেন।
ভুয়া পরোয়ানায় আব্দাল হোসেন ২৭ দিন, আমিরুল ২দিন, কামরান ২দিন জেল হাজতবাস এবং আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ১দিন থানা হাজতবাস করেন, ফলে তাদের শারীরিক, আর্থিক মানসিক ক্ষতিসাধন সহ সামাজিক ভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছেন বিধায় ফৌঃকাঃ বিধির ২৫ ধারামতে সুনামগঞ্জ জেলার জাস্টিস অব পিস হিসেবে আদালতের নিকট যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রার্থনা করলে মাননীয় আদালত তাদেরকে মুক্তি প্রদান করেন। সেই সাথে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের দ্বারা জাল গ্রেফতারী পরোয়ানা সৃজন ও পুলিশের মাধ্যমে জারী করিয়ে আদালতের কার্যধারা ব্যবহার করত: নিরীহ মানুষদের হয়রানী করছে, যা বিচার প্রশাসন ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ মন্তব্য করে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪৬৮/৪৭১/৪৭৩ ধারায় নন জি আর মামলা রুজু করে আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্য কোর্ট ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ প্রদান করেন।
সংবাদ সন্মেলনে ভুক্তভোগীদের আইনজীবি এড: আবু হানিফ নোমান, এড: আবুল বাশার সহ শহরের কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 56 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ