সিলেট বিআর টি এ অফিস দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য।

প্রকাশিত: 12:14 PM, January 25, 2020


সিলেট টাইমস ডেস্কঃ বিআরটিএ সিলেট অফিস সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। তবে দালালের জন্য স্বর্গরাজ্য। কারণ একজন সাধারণ গ্রাহক যে কাজ বছরের পর বছর ঘুরেও করতে পারছেন না সেই কাজ বিআরটিএর দালালরা করে দিচ্ছেন মুহুর্তেই। তবে এজন্য আপনাকে গুনতে হবে সরকারি ফি এর অ’তিরিক্ত পরিমাণ টাকা। যে টাকা ভেতরের-বাইরের দালালদের মাধ্যমে চলে যায় বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. সানাউল হক ও লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন কর্মক’র্তার কাছে। তবে এসব অ’বৈধ আয়ের সিংহভাগই পান সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শক। বাকী’ টাকা বিভিন্নভাবে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে থাকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাইরে থেকে লাইসেন্স, ফিটনেস, মালিকানা বদলী, নাম পরিবর্তন, নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজ নেয়ার জন্য ১৬ জন লোক রয়েছেন। তারা হলেন- উত্তম, মাহদী, মনসুর, আনোয়ার, ইব্রাহীম, পিংকু, খছরু, আজিজ, সাব্বির, তানভীর, জাহাঙ্গীর, জিহাদ, মুন্নু, রাজু, সাদেক এবং আজাদ। এর বাইরেও আরো কয়েকজন আছেন তবে তারা নিয়মিত নন। এই ১৬ জনের মধ্যে আবার কাজেরও ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি এসব লোকজন অফিসের কেউ না হলেও দেয়া হয়েছে চেয়ার-টেবিল। কেউ তো আবার কম্পিউটারে বসেও কাজ করছেন।

এরমধ্যে মাহদী লাইসেন্স শাখার কম্পিউটারে কাজ করেন, মুন্নু ফিটনেস শাখার প্রিন্টের কাজ, আজাদ ফিটনেস ডেলিভা’রি, খছরু গাড়ি দেখার দায়িত্বে, জিহাদ ফিটনেস শাখায়, রেকর্ড রুমের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাব্বির, জাহাঙ্গীর আর তানভীরকে, বিআরটিএ ৩০৯ নাম্বার রুমে বসে লাইসেন্সের বিভিন্ন কাজ করেন উত্তম, মনসুর, ইব্রাহীম, পিংকু এবং আনোয়ার, আজিজ, রাজু এবং সাদেক লাইসেন্স ও ফিটনেস শাখার দেখাশোনা করেন।

এসব দালালদের অফিসে কাজ করার জন্য অনুমতি দেয়া সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক ও লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের মাধ্যমে বাণিজ্য করছেন প্রায় কয়েক কোটি টাকা। সেই টাকা আনুপাতিক হারে বিআরটিএ অফিস সিলেটের বিভিন্ন স্থরের কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ হয়। সেই ভাগের সিংহভাগ টাকা সহকারী পরিচালক ও লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক পেলেও এসব দালালরা পাচ্ছেন নির্ধারিত হারে কমিশন। সেই কমিশনেই পোয়াবারো এসব দালালরা।আর বিআরটিএ’র বাইরের দালালরা এদেরকে দুই কর্মক’র্তার ‘খলিফা’ হিসেবেই চিনেন এবং জানেন। বাইরের দালালরা কোন কাজ সরাসরি কর্মক’র্তাদের কাছে নিয়ে গেলে হয় না। কারণ কর্মক’র্তারা সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বে যেসব ‘খলিফা’ আছেন তাদেরকে কাজ বা কাগজপত্র এবং নির্ধারিত টাকা দিয়ে যেতে বলেন। এভাবেই চলছে বিআরটিএ সিলেট অফিসের দু’র্নীতি আর কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য।

এদিকে বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক ও লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনের শুভদৃষ্টিতে ‘ভেতরের-বাইরের দালাল সিন্ডিকেট’ খুশি থাকলেও খুশি নয় সাধারণ গ্রাহক থেকে পরিবহন শ্রমিকরা।পরিবহন শ্রমিকদের অ’ভিযোগ, এই দুই কর্মক’র্তা আসার পর থেকে দু’র্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বিআরটিএ সিলেট অফিস। তাদের নির্ধারিত দালাল ছাড়া কাজ দিলে কোন কাজ হয় না। উল্টো পরিবহন শ্রমিকদের করা হয় নানা ধরণের হয়’রানি।

বিআরটিএ সিলেট অফিসের সদ্য সাবেক লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক মো. জমির হোসেনের সাথে ১৬ খলিফার কয়েকজন।সিলেট জে’লা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফলিক আহম’দ সেলিম সিলেট ভ’য়েসকে বলেন, ‘আমি এসব হয়’রানির বিষয় নিয়ে বিআরটিএ সিলেট অফিসের এডি (সহকারী পরিচালক) কে কথাবর্তা বলেছি। কারণ এই এডি আসার পরপরই বিআরটিএ সিলেট অফিসে দু’র্নীতি বেড়ে গেছে। আর তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। কারণ সে এক নম্বর ঘুষখোর। প্রায় দেড় মাস আগে আমা’র এক শ্রমিকের লাইসেন্স এসেছে। অথচ মামুন সাহেব লাইসেন্স নিজের টেবিলে রেখে বলছিলেন আসেনি। এরপর আমি বিআরটিএ সিলেট অফিসে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি লাইসেন্স বের করে দেন।’

বিআরটিএ সিলেট অফিসের সদ্য সাবেক লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক মো. জমির হোসেনের সাথে ১৬ খলিফার কয়েকজন।সিলেট জে’লা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফলিক আহম’দ সেলিম সিলেট ভ’য়েসকে বলেন, ‘আমি এসব হয়’রানির বিষয় নিয়ে বিআরটিএ সিলেট অফিসের এডি (সহকারী পরিচালক) কে কথাবর্তা বলেছি। কারণ এই এডি আসার পরপরই বিআরটিএ সিলেট অফিসে দু’র্নীতি বেড়ে গেছে। আর তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। কারণ সে এক নম্বর ঘুষখোর। প্রায় দেড় মাস আগে আমা’র এক শ্রমিকের লাইসেন্স এসেছে। অথচ মামুন সাহেব লাইসেন্স নিজের টেবিলে রেখে বলছিলেন আসেনি। এরপর আমি বিআরটিএ সিলেট অফিসে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি লাইসেন্স বের করে দেন।’

তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স, ফিটনেস, কাজগপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা করার কারণে আমি শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর একটি অ’ভিযোগ দিয়েছি।এদিকে এতো অ’ভিযোগ থাকার পরও চিহ্নিত দালালদের বৈধ বলছেন বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক। তিনি বলেন, বিআরটিএ অফিসে চাপ বেশি থাকায় এদেরকে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।বছরের পর বছর এসব দালালরা চুক্তিভিত্তিক কিভাবে কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এরকম নয়, কারণ যখনই প্রয়োজন হয়, তখন আম’রা এদেরকে ঢেকে পাঠাই।’ তখন আমাদের এ প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করেন- এসব লোক বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল, তাহলে কেন তাদেরকে আনা হচ্ছে। তখন সানাউল হক বলেন, ‘আমি জানতাম না তারা বছরব্যাপী রয়েছে। আমি এদেরকে বের করে দেব।’

তবে দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে কিংবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নেয়ার ক্ষমতা বিআরটিএ সিলেট অফিসের নেই জানিয়ে বিআরটিএ’র পরিচালক (প্রশাসন) মো. ইউছুব আলী মোল্লা বলেন, যদি অ’তিরিক্ত লোক প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি সদর দপ্তরে বলবেন। আম’রা ব্যবস্থা করে দেব। আর যদি তিনি বছরব্যাপী এদেরকে নিয়ে থাকেন তাহলে তিনি পুরো কাজটি অ’বৈধ করেছেন। কারণ বছরব্যাপী তো আর অ’তিরিক্ত কাজের চাপে হতে পারে না। অ’তিরিক্ত কাজ অবশ্যই কিছু সময়ের জন্য হয়। আর যেহেতু তিনি লোক নিতে পারেন না সেহেতু তিনি পুরো কাজটি অ’বৈধ করেছেন। এজন্য তার বি’রুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 36 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ