তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে সরকারী টাকা আত্নসাতের অভিযোগ।

প্রকাশিত: 10:58 AM, August 23, 2019

Complainjpg_2015-10-22_13-36-23-300x162

অনলাইনডেস্ক : সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে এডিপি খাতের ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২১ আগস্ট তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী খসরুল আলম, মো:বোরহান উদ্দিন, হাজী আজাহার আলী, আবুল কাশেম, আফতাব উদ্দিন, বিশ্বজিৎ সরকার ও হাজী আব্দুর জহুর জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, বিগত ৯ মে সকালে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সভাটি শুধুমাত্র দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পর্কে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
পরবর্তীতে ২৫ জুন সকালে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির ২য় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এতে ৯ মে তারিখে অনুষ্ঠিত মাসিক সভার কার্যবিবরণীতে অনেক প্রকল্পের আলোচনা ও প্রস্তাব সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ পূর্ববর্তী সভায় কোনো অলোচনা করা হয়নি। বিষয়টি উপজেলার ৭ ইউপি চেয়ারম্যান সভার সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলকে অবহিত করলে তিনি সভার কার্যবিবরণীতে গত সভায় তার কল্পনাপ্রসূত এককভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে সংশোধনী আনবেন বলে চেয়ারম্যানবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন।
ওই সভায় সকল ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে উন্নয়ন ও এডিপি খাতে কত টাকা বরাদ্দ আছে জানতে চাইলে তিনি শুধুমাত্র এডিপি খাতের ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা জানান। এডিপি খাতের বরাদ্দের টাকা দিয়ে সকল ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয় করে বেঞ্চ ক্রয় করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমবন্টন করার প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবটি সভায় সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়।
পরে ৩য় সভায় বিগত সভাগুলোর কার্যবিবরণী পেশ করা হলে তাতে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করা যায় এবং বিগত সভাগুলোর যে সংশোধনী আনার কথা ছিল তাও করা হয়নি মর্মে পরিলক্ষিত হয়।
অভিযোগপত্রে ইউপি চেয়ারম্যানরা দাবী করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করেই এডিপি খাতের ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় ৮২ জোড়া বেঞ্চ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ক্রয় করেন। কিন্তু ক্রয়কৃত ৮২ জোড়া বেঞ্চের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা হবে বলে। এছাড়াও ৮২ জোড়া বেঞ্চ উপজেলার ২ ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে বাকি ৫ ইউনিয়নে উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। কেন সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে সমন্বয় না করে ৮২ জোড়া বেঞ্চ ক্রয় ও বিতরণ করা হলো তা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে তিনি দাম্ভিক ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাব দেখিয়ে বলেন, উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন ও সমন্বয় সভার সকল সিদ্ধান্ত আমার একক সিদ্ধান্তে গৃহীত হবে। তার এমন আচরণে সকল ইউপি চেয়ারম্যানরা সভা বর্জন করে চলে আসেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে তাদেরকে দেখে নেবেন ও মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন মর্মে অভিযোগপত্রে দাবী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ