সিলেট বিভাগে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন ৩২ নেতা।

প্রকাশিত: 4:40 PM, July 19, 2019

20190718_23063720190719_140152

অনলাইন ডেস্ক : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী সিলেট বিভাগের ৩২ নেতাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে পাঠানো হচ্ছে ‘শোকজ’ নোটিশ। এছাড়া সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কতিপয় নেতা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হবে।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার বলেছেন, সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় অভিযুক্ত নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজ নোটিশ দেয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে। সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তাদের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের। এসব বিদ্রোহীর শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অভিযুক্তরা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ ও জুনে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ বিভাগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। এদের মধ্যে সিলেট বিভাগে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের ৩২জন নেতা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী, কানাইঘাটে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশ। কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবদুল বাছির, সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী, ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক, হাফিজ মাসুম। গোয়াইনঘাটে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা গোলাপ মিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ। জৈন্তাপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামাল আহমদ, বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন।
দক্ষিণ সুরমায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ময়নুল ইসলাম। ফেঞ্চুগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম।

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, দিরাই উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর আলম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন। শাল্লা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস, ধর্মপাশা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস, জামালগঞ্জে জেলা আ’লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ, জুড়ীতে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ মোঈদ ফারুক, কুলাউড়া উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমান।

হবিগঞ্জ সদরে পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, লাখাই উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিক আহমেদ, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, বাহুবলে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল কাদির চৌধুরী, আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন, বানিয়াচং উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান, মাধবপুরে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এহতেশামুল বার চৌধুরী লিপু, শায়েস্তাগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহমদ খান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ