সুনামগজ্ঞ জেলা কারাগারের ম্যাট নান্নুর কাছে জিম্মি হাজতি- কয়েদীরা

প্রকাশিত: 1:34 PM, July 25, 2018

অনলাইন ডেক্স : MYXJ_20180722222425_save সুনামগজ্ঞ জেলা কারাগরের হাজতি কয়েদীরা ম্যাট নান্ন্নুর কাছে জিম্মি, কারাগারে আটক বন্দীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বন্দীদের পরিচালনায় নিয়োজিত থাকেন প্রভাবশালী কয়েদি (ম্যাট)। ওয়ার্ডের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলকোড অনুসারে কয়েদীদের মধ্যে যাদের আচরণ ভাল তাদের এরকম দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সুনামগঞ্জ কারাগারের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ভিন্ন। ম্যাটের দায়িত্ব পালনকারীরা ওয়ার্ডের শৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে কয়েদীদের নির্যাতন করা ও তাদের নিকট থেকে অবৈধ টাকা আদায়ের জন্যই যেন দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। সুনামগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন এরকম বেশ কয়েকজন ম্যাট। এই ম্যাটরাই কয়েদীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা পয়সা আদায় করে। কারাগারে সকল অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে বা জড়িত ছিল এমন কয়েকজন ম্যাটের নাম জানিয়েছেন একাধিক কারাগার ফেরত লোক। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের কাছে বেশ কয়েকজন ম্যাটের নাম ও বাড়ির তথ্য জানান তারা।
তবে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে কোন বন্দীর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ আদায়, নির্যাতন বা কোনো অপরাধকর্মের কথা অস্বীকার করেছেন জেল সুপার আবুল কালাম আজাদ। তাঁর দাবি, জেল ফেরত লোকজন কয়েদিদের সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করছেন তা মিথ্যা। কারণ কারাগারের ভেতরে থাকাকালীন তারা কেউ কোন ধরনের অভিযোগ করেনি।
কারাগার ফেরত সুনামগঞ্জ শহরের পশ্চিম তেঘরিয়ার বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাট থাকে কারাগারে। তারাই কারাগারের নানা অপরাধের সাথে জড়িত। সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে ৩টি ভবনে ৪টি করে ১২টি ওয়ার্ড চালু রয়েছে। এই ১২ ওয়ার্ডে রয়েছেন ১২ জন ম্যাট, যারা বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী। তবে এই ১২ জন ম্যাটেরও উপরওয়ালা আছেন আরেকজন। তিনি দিরাইয়ের নানু মিয়া। নানু মিয়ার একক আধিপত্যে পরিচালিত হয় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার। নানু মিয়াই জেলা কারাগারের সবকিছুর মূল হোতা।
তৈয়বুর রহমান বলেন,‘কোন ম্যাটকে বেশী দিন এক ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেয়া হয় না। ম্যাটদের ওয়ার্ড মাঝে মধ্যেই অদল বদল হয়। সাধারণত এক মাস এক ওয়ার্ডে একজন ম্যাট দায়িত্ব পালন করেন। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হলেন নানু মিয়া। তিনি কারাগারের আমদানী ওয়ার্ডের স্থায়ী ম্যাটের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া আরও ম্যাটের দায়িত্ব পালন করেছেন ও করছেন দিরাই নগদীপুরের মতিন মিয়া, বনগাঁওয়ের শুক্কুর আলী, জগন্নাথপুরের আলিম উদ্দিন, পাগলার ভুট্টু মিয়া, দিরাইয়ের চন্ডীপুরের কাসেম মিয়া, জগন্নাথপুরের আলী নূর, দিরাইয়ে জাহাঙ্গীর মিয়া, জগন্নাথপুরের বালিকান্দি গ্রামের আবুল লেইছ, সিরাজ মিয়া। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার সাধারণ বন্দী।
শহরের জামতলার বাসিন্দা সাবেক শ্রমিক নেতা মো. সামারুল ইসলাম সাম বলেন,‘সুনামগঞ্জ জেলে সবচেয়ে বড় ম্যাট হল দিরাইয়ের নানু মিয়া। তবে তার সাথে আরও ম্যাটের দায়িত্ব পালন করে সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের শুক্কুর আলী, জগন্নাথপুরের আলিম উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর মিয়া।
সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার ফেরত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া গ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন,‘ সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের ম্যাট দিরাইয়ের হত্যা মামলার আসামী নানু মিয়া রাজার হালে বসবাস করছে। নানুর আরাম-আয়েশের জন্য বন্দীরা কাজ করে। তার নেতৃত্বেই সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়।’
ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কান্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুকিম মজুমদার বলেন,‘আমি সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে মাত্র ১১ দিন ছিলাম। আমার নিকট আলিম ম্যাট শুয়ার জায়গার জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। আমি তাকে ১৯০০ টাকা দিয়ে রফা করি। পরে আমি অন্য ওয়ার্ডে চলে যাই।’
কারাগার ফেরত জগন্নাথপুর উপজেলার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন,‘নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন ম্যাট থাকার কথা। কিন্তু মূল ম্যাট দিরাইয়ের নানু মিয়াই। তার নির্দেশের বাইরে সুনামগঞ্জ জেলে কোন কিছুই হয় না। কারাগারের ভেতরের সকল অনিয়ম-দুর্নীতির মূল কারিগর নানু।

তথ্যসুত্র: দৈ:সু:খবর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 13 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ