পাহাড়ি ঢলে দোয়ারাবাজারের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: 2:43 AM, July 21, 2016

file (15)
নিজস্ব প্রতিবেদক::
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলা সীমান্ত সংলগ্ন সুরমা ইউনিয়ন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষজন। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে ৫ ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এবং বন্যার পানিতে নিম্ন এলাকার সড়ক গুলো তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষনে উপজেলার খাসিয়ামারা, চিলাই, চেলা, মরাচেলা ও চলতিসহ সব ক’টি পাহাড়ি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমা এখন ছুঁই ছুঁই। নদীর উভয় তীরে ভাঙ্গন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানির স্রোতে সুরমা ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর টিলাগাঁও রাবারড্যাম’র বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে ইউনিয়নের মহব্বতপুর, বক্তারপুর, গোজাউড়া, খাগুড়া, জিয়াপুর, আলীপুর, বৈঠাখাই, গিরিশ নগর, মিরপুর, মারপশী, বরকত নগর,কাওয়ার গড়,শিমুলতলা রাজ নগর, টেংরাটিলাসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি আছেন। এ প্রতিবেদন লেখার পর্যন্ত (সকাল এগারটায়) জানা যায়, সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর বাজারে চার পাঁচ ফুট সমান পানি থাকায় চরম হুমকির মুখে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তলিয়ে গেছে কৃষকের সদ্য রোপা, আমন ফসল ও বীজতলা এবং মৎস্য খামার। বন্যার পানিতে হুমকির সম্মুখীন উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হাওরপারে অবস্থিত মুহিবুর রহমান মানিক সোনালি নূর উচ্চ বিদ্যালয়, জোড়খলা আবোড়া বেড়িবাঁধ, আলীপুর বাজার, মহব্বতপুর বাজার, মৎস্য খামার, ফসলি জমি, মহব্বতপুর বাজার জামে মসজিদ, বৈঠাখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকয়েকটি সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলো। দোয়ারাবাজার-নৈনগাও-ছাতক গামী পাকাসড়কের নৈনগাওয়ে অবস্থিত দুটি ছোট ব্রীজ এবং ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপার করছেন। নৈনগাও নিবাসী দেলোয়ার হোসেন জানান, ব্রীজের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় রাস্তা দিয়ে কোমর সমান পানি চলাচল করতে থাকায় যানবাহন চলাচল স্থগিত রয়েছে। নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও মালামাল পারাপার করা হচ্ছে।
এদিকে বন্যার পানিতে রোপা আমন, বীজতলা এবং মৎস্য খামার তলিয়ে যাওয়ায় আহাজারি করছেন কৃষকরা। শেষ খবর পাওয়ার আগ পর্যন্ত জানা যায়, পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী নরসিংপুর ইউনিয়নের চেলা, মরাচেলা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের চিলাই, খাসিয়ামারা নদীর পানিও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া উপজেলার লক্ষীপুর ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার খবর পাওয়াগেছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী উপজেলার সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ইউনিয়নকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবী জানিয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ জাহান মাস্টার জানান, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট অতর্কিত বন্যা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রায় প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রাবার ড্যাম সড়কসহ সুরমা ইউনিয়নের পানিবন্দী এলাকা এলজিইডি এর জেলার পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। এব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 27 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ