বন্যায় বাঁশের সাকো তলিয়ে গেছে ছাতক-দোয়ারা সড়কে মানুষের চরম দূর্ভোগ

প্রকাশিত: 2:38 AM, July 21, 2016

চান মিয়া, ছাতক, প্রতিনিধিঃ ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের কাড়ইলগাঁও গ্রামের পার্শ্ববর্তী চৌধুরী খালের বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ায় প্রায় ৩সপ্তাহ থেকে দোয়ারাবাসীর সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খাল পারাপারের একমাত্র বাঁেশর সাকোও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ মে’মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও স্থানীয় লোকজন আরো ১৫দিন লাগবে বলে ধারণা করছেন। কিন্তু মে’মাস পেরিয়ে যাবার পর কর্তৃপক্ষের দেয়া আশ্বাস তাদের কাছে মিথ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষের চরম দূর্ভোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৪মে’রাতে ছাতক থেকে দোয়ারাবাজারগামী একটি পাথর বোঝাই ট্রাক (নং-ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-৭২৪৫) পারাপারের সময় ব্রিজ ভেঙ্গে ট্রাকসহ পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে দোয়ারাবাসীর সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে ১৫মে’ট্রাক চালকও মালিক রফিকুল ইসলাম ফেনুর বিরোদ্ধে ছাতক থানায় ১০লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা (নং-১২) দায়ের করেন সওজ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রমজান আলী। ১৭মে’থেকে ভেঙ্গে পড়া বেইলী ব্রিজের পাটাতনগুলো স্থানীয় সওজের উদ্যোগে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ১৮মে’ ট্রাক উদ্ধার করে পুলিশের জিম্মায় নেয়া হয়। খালের দু’পারে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দু’টি সিএনজি ষ্ট্যান্ড। খালের উপর দেয়া হয়েছে একটি বাঁশের সাকো। জীবনের ঝূাঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে নারী-পুরুষ, শিশু, স্কুল, কলেজও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন। সাকো স্থাপনের আগে জনপ্রতি ২টাকার বদলে একটি নৌকায় পারাপার হয়েছে যাত্রীরা। দু’দিন পর এটি ভেঙ্গে পড়ায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে সাকো স্থাপন করা হলে প্রত্যহ বিপুল সংখ্যক যাত্রীর পদভারে সাকো এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জানা যায়, প্রায় ২৫বছর আগে ১শ’ফুট দৈর্ঘ্য এ বেইলী ব্রিজ স্থাপন করা হয়। ১০বছর আগে একটি রোলার পারাপারের সময় ব্রিজের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়লে জোড়াতালি দিয়ে এটিকে পূনরায় সচল করা হয়। এরপর থেকে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় গাড়ি চলাচল করে অবশেষে রফিকুল ইসলাম ফেনুর মালিকানাধীন ৪শ’ফুট পাথরসহ একটি ট্রাক পারাপারের সময় ব্রিজটি আবারো ভেঙ্গে পড়ে। এসড়কে ঠেঙ্গারগাঁও-সাহেবখাল, নৈনগাঁও-নিয়াজেরখালও লক্ষীবাউরখালের উপর মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন আরো ৩টি বেইলী ব্রিজ রয়েছে। এরমধ্যে নিয়াজেরখাল দোয়ারাবাজারও সাহেবখাল, লক্ষীবাউর ও চৌধুরীখাল ছাতক উপজেলায় অবস্থিত। ঝুঁকিপূর্ন বেইলী ব্রিজগুলোর আরসিসির আওতায় এনে পূনঃ নির্মানের দাবি এলাকাবাসীর। ভেঙ্গে পড়া ব্রিজের নির্মাণ কাজের ঠিকাদার আবদুস শহীদ জানান, ব্রিজের কাজ শেষ করতে আরো ১৫দিন সময় লাগতে পারে। সুনামগঞ্জস্থ-আহ্সানমারা সেতুর পাটাতন দিয়ে এটি নির্মাণ করা হবে। এসব মালামাল ছাতক শহরে পৌছে গেছে। আগের ১শ’ফুট দৈর্ঘ্য থেকে এখন ব্রিজটি হচ্ছে ১শ’২০ফুট। নোয়ারাই সিএনজি ষ্ট্যান্ডের ম্যানেজার বাবুল মিয়া তালুকদারও দোয়ারা ষ্ট্যান্ডের সভাপতি মাসুক মিয়া জানান, ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ হচ্ছে। ছাতক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সওজ) মোহাম্মদ রমজান আলী জানিয়েছেন, বেইলী ব্রিজটি নির্মাণ করতে আরো ৮/১০দিন সময় লাগবে। দূর্ঘটনা কবলিত পাথর বোঝাই ট্রাকের চালকও মালিক রফিকুল ইসলাম ফেনুর বিরোদ্ধে ছাতক থানায় ১০লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামালসহ ট্রাক চলাচল করায় ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়লে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, এসড়কে মোট ৮টি বেইলী ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ব্রিজের টেন্ডার পক্রিয়াধিন। এগুলো গার্ডার দ্বারা তৈরী হবে। ঝুঁকিপূর্ন রয়েছে টেংগারগাঁও এবং অতি ঝুঁকিপূর্ন নৈনগাঁও সংলগ্ন ব্রিজ। এছাড়া তিনি মে’মাসের মধ্যেই ব্রিজের কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার অধিবাসী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সমরু মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন, সিএনজি ড্রাইভার কুতুব উদ্দিনও সিএনজি মালিক আছির উদ্দিনসহ লোকজন ব্রিজের কাজ শেষ করতে চলতি জুন মাসের আরো ১০/১৫দিন লাগতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। ##

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে