সিলেটে এবার এগিয়ে গেল বিএনপি

প্রকাশিত: 12:32 AM, May 8, 2016

সিলেটে এবার এগিয়ে গেল বিএনপি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ের দৌঁড়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সিলেট জেলায় বিএনপির চেয়ে এগিয়ে ছিল আওয়ামী। তবে চতুর্থ দফায়ই যেন খেই হারিয়ে ফেলে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলটি। নির্বাচনে জেলার ২৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টিতেই পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী। বিজয়ী হয়েছেন মাত্র ৭টিতে। বিএনপির পক্ষে ফলাফল গেছে ৯টি ইউনিয়নে। অপর ৮টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে তাদের মধ্যেও অবশ্য রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৫ প্রার্থী। জয় পেয়েছেন বিএনপির ২ বিদ্রোহী। তাছাড়া ৩টি ইউনিয়নে জিতেছেন জামাতের ৩ নেতা।

স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে সিলেট জেলার ২৪টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হয় শনিবার। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ৩ উপজেলার মধ্যে একমাত্র বিশ্বনাথে বিএনপির সমানসংখ্যক জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনেনানীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৩টিতে করে ইউনিয়নে। অপর দু’টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দু’দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দু’প্রার্থী।

বিশ্বনাথে বিজয়ী চেয়ারম্যানরা হলেন- বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছয়ফুল হক (আনারস), দৌলতপুরে আ. লীগের আমির আলী (নৌকা), অলংকারীতে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) নাজমুল ইসলাম রুহেল (চশমা), রামপাশায় আ.লীগের এডভোকেট আলমগীর হোসেন (নৌকা), খাজাঞ্চিতে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন (ধান) ও লামাকাজীতে ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী কবির হোসেন ধলা মিয়া।

দক্ষিণ সুরমার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে জিতেছেন বিএনপি মনেনানীত প্রার্থী। এছাড়া ২টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং অপর ২টি জামায়াত সমর্থিত দু’জন জয়ী হয়েছেন।

বিএনপির বিজয়ীরা হলেন- কুচাই ইউনিয়নে আবুল কালাম, বরইকান্দি ইউনিয়নে হাবিব হোসেন ও দাউদপুর ইউনিয়নে এইচএম খলিল বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সিলামে ইকরাম হোসেন বকস ও মোগলাবাজার ফখরুল ইসলাম সাইস্তা নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জালালপুর ইউনিয়নে সুলাইমান হোসেন ও লালাবাজারে পীর মো. ফয়জুল হক বিজয়ী হয়েছেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ৪টিতে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ৩টিতে, জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টিতে, ২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ১টিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বিজয়ীরা হলেন- বাদেপাশা ইউনিয়নে মোস্তাক আহমদ, শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে এম এ মুমিত হীরা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন- লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নে কবির আহমদ মুশন ও বুধবারীবাজার ইউনিয়নে কামাল উদ্দিন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন- লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে নসিরুল হক শাহীন, ভাদেশ্বর ইউনিয়নে জিলাল উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আশফাক আহমদ চৌধুরী ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নে মাহবুবুল আলম। এছাড়াও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নে রুহেল আহমদ, বাঘা ইউনিয়নে ছানা মিয়া ও ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগের এমন ভরাডুবি হওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ পরাজয়ে প্রধান কারণ হিসেবে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়েছে বলে মনে করেন। তাছাড়া দলীয় কোন্দল এবং সরকারের প্রতি ক্ষোভের কারণেও স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেন মনে করেন অনেকে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ