কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ছাতক: নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশিত: 10:45 AM, April 22, 2016

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ছাতক: নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক
ছাতক প্রতিনিধি, শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬ :: কালাবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১০টি গ্রাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর দু’দফা ঝড়ো-হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে দেড় শতাধিক কাচা ও আধা পাকা ঘর। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুটিসহ অসংখ্য গাছপালা। এতে প্রাণ হারিয়েছেন এক মহিলা। আহত হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক।

উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ও চরমহল্লা ইউনিয়নের উপর দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা ও ৭টায় দু’দফা ঝড়ো-হাওয়ায় বয়ে যায়। এতে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চৌকা, হাছনখালি, বল্লবপুর, পুড়াকাটি, হরিসরণ এবং চরমহল্লা ইউনিয়নের টেটিয়ারচর, চুনারুচর, খুলিয়ারচর, চরমাধব, খরিদিরচর গ্রামের দেড় শতাধিক কাচা ও আধা পাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, উড়ে গেছে চালের টিন। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে শত শত  গাছপালা। টিনে কাটা ও বিধ্বস্ত হওয়া ঘরের নিচে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মহিলা। আহত হয়েছেন নারী-পুরুষসহ আরো অর্ধশতাধিক লোক।  তাদেরকে ছাতক পৌরশহরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৈতক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানাউর রহমান ছানা জানান, ঘুর্ণিঝড় চলাকালে খরিদিচর গ্রামের আব্দুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ঘরের চালের খুলে পড়া টিনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত হন। স্বজনরা আনোয়ারাকে কৈতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝড়ে উপজেলা জাউয়াবাজার-ছাতক রোডে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া উপজেলার নৈনগাও, নোয়ারাই ও মাধবপুর এলাকায় বিদ্যুতের ১০টি খুটি ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ছাতক উপজেলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার। একই সাথে তিনি জানান- খুটি ভেঙে পড়া ও বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে গাছপালা পড়ার কারণে সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, ঝড়ের কবলে পড়ে ছাতকে সুরমা নদীতে ৩টি যাত্রবাহী নৌকা ডুবে গেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন। তবে এ দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 15 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ