তবে কি বিএনপিতে পদোন্নতি হচ্ছে ইলিয়াস আলীর?

প্রকাশিত: 1:30 AM, April 12, 2016

তবে কি বিএনপিতে পদোন্নতি হচ্ছে ইলিয়াস আলীর?
এম. ইলিয়াস আলী। ছাত্রজীবনে কাঁপিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পাশাপাশি রাজপথও। সময়ের পরিক্রমায় সিলেট তথা কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন দাপটে নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও স্থান করে নেওয়ারও সম্ভাবনা ছিল তার।

ইলিয়াস আলীকে ঘিরে শুভাকাক্সিক্ষদের দেখা এমন স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল পরবর্তি সময়ে। ওইদিন ঢাকার বনানী এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তৎকালীন সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতা। তার ব্যবহৃত গাড়ি বনানীর রাস্তায় পাওয়া গেলেও কোনো সন্ধান মিলেনি ইলিয়াস আলী সাথে থাকা গাড়ির চালকেরও।

ইলিয়াস আলী ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় তার নিজ উপজেলা বিশ্বনাথসহ পুরো সিলেটে ওঠে প্রতিবাদে ঝড়। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। প্রিয় নেতার সন্ধান দাবিতে বিশ্বনাথ তথা সিলেটসহ সাড়া দেশে চলে আন্দোলন। সেই দীর্ঘদিন চলা সে আন্দোলনে বিশ্বনাথে প্রাণ হারান একাধিক ব্যক্তি।

দীর্ঘ আন্দোলনের পরও কোনো সন্ধান মিলেনি ইলিয়াস আলীর। এক পর্যায়ে ভাটা পড়ে ‘জনতার আন্দোলনে’। ধীরে ধীরে কর্মী-সমর্থকদের মন থেকে অনেকটা ‘হারিয়ে’ যেতে থাকেন এক সময়ের তুখোড় ওই ছাত্রনেতা। বেশ কিছুদিন ধরে নিজের প্রিয় সিলেট বিএনপিতেও ইলিয়াস আলীকে নিয়ে তেমন নড়াচড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হওয়া ইলিয়াস আলীর প্রতি কিছুদিন দরদও দেখায় তার প্রিয় সংগঠন। ফলে তার অনুপস্থিতিতেও কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলন পরবর্তী সময়ে তাকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়েত্বে রাখা হয়। তবে এর কিছুদিন পর সিলেট জেলা বিএনপিকে পুনর্গঠন করা হলে শীর্ষ পদটি হারান ইলিয়াস আলী। গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত  সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কোনো পদেই রাখা হয়নি তাকে। আর তখন থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে কি বিএনপি থেকেও হারিয়ে যাচ্ছেন দলের নিবেদিতপ্রাণ ওই নেতা।

এদিকে, কেন্দ্রীয় বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন পরবর্তী সময়ে দলের বিভিন্ন পদে নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্তু একের পর এক পদে নাম ঘোষণা করা হলে কোথাও স্থান পাননি ইলিয়াস আলী। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি বেশ কিছুদিন অপূর্ণ অবস্থায় থাকায় ইলিয়াস অনুসারীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন প্রিয় নেতার নামটি ওই পদটিতে দেখা যেতে পারে বলে। কিন্তু তাও আর পূর্ণ হলো না। গত শনিবার মধ্যরাতে দলের ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে হবিগঞ্জের ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবনের নাম ঘোষণা করা হয়।

ডা. জীবন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথে এখন বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এখন একটাই প্রশ্ন- ‘তাহলে কি এবার বিএনপি থেকেও হারিয়ে গেলেন এম. ইলিয়াস আলী’।

তবে তাদের মধ্যে আবার অনেকেই নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন। আর ওই আশাবাদী লোকজন এখন মনে করছেন এখনো বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রয়েছে। তাদের যে কোনো একটি হয়তে দেখা যেতে পারে ইলিয়াস আলীর নাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ