গণতন্ত্রের পথ রক্তাক্ত হলে স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম হয়: মঞ্জু

প্রকাশিত: 1:53 AM, April 10, 2016

গণতন্ত্রের পথ রক্তাক্ত হলে স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম হয়: মঞ্জু

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, গণতন্ত্রের পথ রক্তাক্ত ও বাধাগ্রস্ত হলে স্বৈরতন্ত্রের রাস্তা সুগম হয়। গণতন্ত্রের পথ হয়তো ঝুঁকিতে, তাই বলে আমরা চাই না স্বৈরতন্ত্র আসুক। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করলে এবং সুশীলসমাজসহ দেশের মানুষের কাছে সেটি অসহনীয় হয়ে উঠলে এর পথ সুগম হয়। গতকাল দলের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত কাউন্সিলের দ্বিতীয় পর্বে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে চেয়ারম্যান এবং শেখ শহীদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে জেপি চেয়ারম্যান বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারলে সমাজে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ যারা বাধাগ্রস্ত করে, ইতিহাসই এর প্রতিশোধ নিয়ে নেয়। ঢাকায় কিছু লোক দেশের ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেইদিন আর নেই। সামন্তবাদী সমাজও নেই। এই দেশে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে। কিন্তু যারা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চান, যারা মনে করেন গণতন্ত্র আছাড় খেলে তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে-সেটিও সম্ভব হবে না। যারা গণতন্ত্রের লেবাস পরেন, যাদের গণতন্ত্রের লেবাসের ভেতরে স্বৈরতন্ত্র লুকায়িত থাকে তারাই আসলে স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম করেন। জাতীয় পার্টি-জেপির জন্মকথা তুলে ধরে দলটির প্রধান বলেন, ১৮ বছর আগে যখন জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে মতবিরোধ দেখা দেয়, তখন অনেকেই বলেছিলেন-মূলধারার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু এই ১৮ বছরে জেপি প্রমাণ করেছে-আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্য ঠিক থাকলে কেউ বিলীন হতে পারে না। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিতে সেদিন হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ ছিল না। দল আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছিল আমরা সেটি সততা, নিষ্ঠা ও ঈমানের সঙ্গে পালন করেছি। ’৯৬ সালে সরকার গঠনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার তিন বছর পর যখন বলা হলো যে, আমরা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সংসদ বয়কট করব। তখন আমাদের বক্তব্য ছিল-আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, সেটি হয় প্রেসিডিয়ামে অথবা দলের পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে পরিবর্তন করা যেতে পারে। যখন এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মানা হলো না, তখনই আমরা বেরিয়ে এসেছিলাম। অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের মহাশত্রু। এখনও বাংলাদেশে বসে পাকিস্তান ষড়যন্ত্র করছে। যে কারণে কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার পর পাকিস্তান নিন্দা জানায়।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বিএনপির আমলে দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এখনও গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বত্র দুর্নীতি সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মহোৎসব ও অরাজকতা চলছে। এভাবে লুটপাট করে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হওয়া যায় না। ইউপি নির্বাচনে যে খুনোখুনি চলছে, সেটি দিয়ে গণতন্ত্র হয় না। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঘুষ দিয়ে যদি বিচার কেনা যায়, তাহলে গণতন্ত্র হয় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিএনপি যদি রাজনীতি করতে চায়, করতে পারবে। অনুষ্ঠানে জাসদের একাংশের সভাপতি শিরিন আখতার, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস কে সিকদার, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মঞ্জু চেয়ারম্যান, শহীদুল সম্পাদক: ত্রি-বার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দলের চেয়ারম্যান পদে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আর বিদায়ী মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই দুটি পদে তাদের দুজনের নাম প্রস্তাব করা হলে সারা দেশ থেকে আগত কাউন্সিলররা তাতে সমর্থন জানালে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। গতকালের কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রেও কিছু সংশোধনী ও সংযোজন আনা হয়। এতদিন ‘মহাসচিব’ পদ ছিল। এবার পদটি সংশোধন করে ‘সাধারণ সম্পাদক’ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও কাউন্সিলে দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্যদের নাম ঘোষণা হয়। প্রেসিডিয়ামে রয়েছেন- বেগম তাসমিমা হোসেন, আবদুর রহিম, শাহ্‌ রফিকুল বারী চৌধুরী, এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ মল্লিক, মফিজুল হক বেবু, মিসেস আমেনা বারী, আবু সাঈদ খান, এজাজ আহমেদ মুক্তা, রুহুল আমিন এমপি, এটিএম আমিনুল ইসলাম পিন্টু ও শেখ মো. জয়নাল আবেদিন। নতুন কমিটি আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া পর্যন্ত বাকিরা সবাই বর্তমান স্ব-স্ব পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 19 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ