পানামা পেপার্সে যখন বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 11:19 AM, April 7, 2016

পানামা পেপার্সে যখন বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক : উইকিলিকসের পর পানামা পেপার্স। এর ঝড় বইছে তামাম দুনিয়ায়। রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, ফুটবলার থেকে শুরু করে সিনে তারকা পর্যন্ত নড়েচড়ে বসেছেন। এরই মধ্যে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কৌতূহল ছিল বাংলাদেশের কেউ এ তালিকায় আছেন কি-না? এখন জানা যাচ্ছে, পানামার ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। পানামা পেপার্সের ফাঁস হওয়া নথিতে রয়েছে বাংলাদেশের ২৫ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বেনিফিশিয়ারির নাম। এর মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠান, ১জন বেনিফিশিয়ারি ও ২২ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা থেকে ফাঁস হওয়া বিপুল পরিমাণ নথিপত্র জার্মান দৈনিক সুদেউশ জেইতুং এর মাধ্যমে আসে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)-র কাছে। পরে প্রায় ৮০টি দেশের শতাধিক গণমাধ্যম কর্মী এক বছর ধরে ওই নথিপত্র বিশ্লেষণ করে গত সোমবার প্রকাশ করে। ১ কোটি ১৫ লাখ পরিমাণ ওই নথিপত্র আখ্যা পায় পানামা পেপার্স নামে। আইসিআইজের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে দি আইরিশ টাইমসের ডিজিটাল প্রোডাকশন সম্পাদক ব্রায়ান কিলমার্টিন একটি ইনফোগ্রাফিক তৈরি করেন। এতে পানামা পেপার্সে জড়িত দেশসমূহের একটি ম্যাপ এবং প্রতিটি দেশে অফশোর প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বেনিফিশিয়ারির সংখ্যা দেয়া হয়। ওই ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২২ শেয়ারহোল্ডার, ২ প্রতিষ্ঠান ও ১ জন বেনিফিশিয়ারি রয়েছে। তবে ওই ইনফোগ্রাফিকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয় নি। শুধু সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। তার ওই ইনফোগ্রাফিকের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে টুইটারে অনেকে কিলমার্টিনের কাছে বার্তা দিয়েছেন। এর জবাবে, তিনি উল্লেখ করেছেন, ম্যাপে তিনি যে তথ্য তুলে ধরেছেন তা আইসিআইজের দেয়া। আর সংগঠনটি জানিয়েছে, মে মাসে তারা পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করবে। আইসিআইজের সঙ্গে পানামা পেপার্স তথ্যাদি যেসব গণমাধ্যম বিশ্লেষণ করছে তার মধ্যে রয়েছে আইরিশ টাইমস। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য নিউ এজ।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে নিউ এজ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে অফশোর কোম্পানির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের নাম এসেছিল। ওই তালিকায় ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ, তার স্ত্রী নিলুফার জাফর এমপি ও তার পরিবার। বলা হয় তারা বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে অফসোর কোম্পানির মালিক। এ ছাড়াও ওই তালিকায় ছিল সামিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড মার্কেন্টাইল করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেড। এর চেয়ারম্যান ও ৫ জন ডাইরেক্টর অফসোর কোম্পানির মালিকানায় ছিলেন। তারা একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন- কোম্পানির চেয়ারম্যান আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, তাদের কন্যা আয়েশা আজিজ খান, চেয়ারম্যানের ভাই জাফর উমেদ খান, আজিজ খানের ভাতিজা মো. ফয়সল করিম খান। এর মধ্যে জাফর উমেদ খান ও মো. ফয়সাল করিম খান বাদে বাকিরা বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের কোম্পানি নিবন্ধন করান সিঙ্গাপুরের ঠিকানায়।
‘বাংলাদেশি বিজনেসম্যানস লিঙ্ক টু অফসোর কোম্পানিজ রিভিলড’ শীর্ষক নিউ এজের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অন্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে যায় সামিট গ্রুপ পরিবারের ডাইরেক্টররা। তারা অফসোর কোম্পানির শেয়ারের মালিকানা নিতে নিজেদেরকে ডাইরেক্টর বা শেয়ারহোল্ডার দেখানোর চেয়ে নমিনি হিসেবে দেখিয়েছেন। ওই তালিকায় আরও নাম আছে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর, যারা বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে অফসোর কোম্পানির মালিক। এর মধ্যে আছেন ইউনাইটেড গ্রুপের হাসান মাহমুদ রাজা, খন্দকার মইনুল আহসান (শামীম), আহমেদ ইসমাইল হোসেন ও আখতার মাহমুদ। এতে নাম আছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি এ এমএম খানের। ওই তালিকায় নাম আছে মোমিন টি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজমল মইন, পাট ব্যবসায়ী দিলিপ কুমার মোদির। তারা দুজনেই ২০০৫ সালের মার্চে রাইটস্টার প্রাইভেটের পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হন। সি পার্ল লাইন্সের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সিরাজুল হকের নামও আছে এতে। বলা হয়েছে তিনি সভারিন ক্যাপিটল প্রাইভেটের ডাইরেক্টর বা শেয়ারহোল্ডার। এটা নিবন্ধিত হয়েছে ২০১০ সালে। ওই তালিকায় নাম আছে বাংলা ট্রাক লিমিটেডের মো. আমিনুল হক, নাজিম আসাদুল হক ও তারিক একরামুল হকের। এ ছাড়া নাম আছে ওয়েস্টার্ন মেরিনের পরিচালক সোহেল হাসানের। নাম আছে মাসকট গ্রুপের চেয়ারম্যান এফএম জুবাইদুল হকের। বলা হয়েছে, তিনি তার স্ত্রী সালমাসহ অফসোর কোম্পানি স্প্রিয় শোর ইন্টারন্যাশনালের ডাইরেক্টর/শেয়ারহোল্ডার হন ২০০৭ সালের মে মাসে। এ তালিকায় আরও নাম আছে সেতু করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাবুদ্দিন চৌধুরীর। স্ত্রী উম্মেহর সঙ্গে তিনি ২০০৭ সালের আগস্টে তালাভেরা ওয়ার্ল্ডওয়াইডের ডাইরেক্টর/শেয়ারহোল্ডার হন। স্কাপর্ক লিমিটেড এবং অমনিকেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখারুল আলমের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। রয়েছে তার পুত্রবধূ ফওজিয়া নাজের নাম। বলা হয়েছে তারা সিটিলিঙ্কের মালিক। তারা ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে পাউমি টেকনোলজি লিমিটেডের ডাইরেক্টর/শেয়ারহোল্ডার হন। আবদুল মোনেম লিমিটেডের এএসএম মহিউদ্দিন আহমেদ মোনেম, তার স্ত্রী আসমা মোনেমের নাম রয়েছে এতে। বলা হয়েছে তারা ২০০৮ সালের জুনে অফসোর কোম্পানি ম্যাগনিফিসেন্ট ম্যাগনিটিউডের ডাইরেক্টর/শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন। এতে আরও নাম রয়েছে অনন্ত গ্রুপের শরিফ জাহিরের নাম। বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সিপিএটি (সিঙ্গাপুর) প্রাইভেট লিমিটেডের ডাইরেক্টর হয়েছেন।

 

তথ্য সূত্র: মানবজমিন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ