সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক কি আদৌ সংস্কার হবে?

প্রকাশিত: 1:01 AM, April 2, 2016

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক কি আদৌ সংস্কার হবে?

নামেই সড়ক। শুস্ক মৌসুমে ধুলোময়, বর্ষায় কাঁদাজলে একাকার। প্রতিদিন সড়কটিতে চলাচল করে কয়েক হাজার পাথরবাহী ট্রাক, বাস, পিকআপ, অটোরিক্সা সহ অন্যান্য যানবাহন। পুরো সড়কটির পিচ অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। পিচ উঠে পরায় বিধ্বস্ত এই সড়কপথে পারতপক্ষে যেতে চায় না কোন যানবাহন। নিতান্তই বাধ্যহয়ে যারা চলাচল করেন তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।

সড়কটির বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দ,  বিশাল গর্ত আর একেবেঁকে গাড়ি চলার কারণে প্রায় প্রতিদিনই সড়কের উপর বিকল হয়ে পরে যানবাহন। বৃহস্পতিবার এই সড়ক দিয়ে সিলেট থেকে কোম্পানীগঞ্জে যাওয়া আসার পথে সড়কের উপর আটকে থাকা এরকম ১৫ /১৬ টি ট্রাক-পিকআপ চোখে পড়েছে।

সিলেট থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার। একটা সময় পথ চলতে সময় লাগতো এক ঘন্টা। এখন সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টার মত। বর্তমানে সড়কের অন্তত ২৫ কিলোমিটার জুড়ে বেহাল অবস্থা। দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারী কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে অবস্থিত। এছাড়া জেলা সদর সিলেটের সাথে এ উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র পথ এই সড়কটি।

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন কয়েক বছর থেকে। করেছেন আন্দোলন, নেমেছেন রাস্তায়।

২০১৪ সালের ১৪ মে এই সড়কটি সরজমিন পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গোটা সড়ককে ‘ক্যানসার আক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ সময় মন্ত্রী জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
19437
মন্ত্রীর এ আশ্বাসের ২২ মাসের বেশি সময় পার হলেও কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় বেড়েছে সড়কটির ভাঙ্গনের পরিমাণ। আর এতে করে সড়কপথে আসা যাওয়া করা মানুষদের হতাশার সাথে অবর্ননীয় দুর্ভোগ তো থাকছেই।

 

সিলেট থেকে কোম্পানীগঞ্জে এ সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে ধোপাগুল এলাকায় সড়কের উপর বিকল হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেল ১১ -১০৩৫ নাম্বারধারী একটি একটি পিকআপ ভ্যানকে। পিকআপ ভ্যানটির চালক মতিউর রহমান জানান, এই সড়কে চলাচলের পথে প্রায়ই গাড়ি বিকল হওয়ায় দুর্ভোগে পরতে হয়। বিকল গাড়ি সারাতে সময়ের অপচয় হওয়ায় আয়-উপার্জন খুব একটা করতে পারি না।

কিছুটা এগোতেই চোখে পরলো ঢাকা মেট্রো ১৬ – ৭৬৩৬ নাম্বারধারী একটি ট্রাককে বিকল হয়ে দাড়িয়ে থাকতে। ট্রাকটির চালকের সাথে কথা হলে চালক জানান, ‘দেশের কোথাও বোধ হয় এ রকম ভাংগাচোরা আরেকটি সড়ক খুজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র পেটের দায়ে গাড়ি চালাতে এ সড়কে আসতে হয়, তা না হলে আসতাম না এই সড়কে’।

এই সড়কদিয়ে সিলেটে ফিরতি পথে ছবি তোলার জন্য মোবাইল ফোনটি বের করতেই অদূরে থাকা স্থানীয় একজন সিলেটি ভাষায় বলে উঠলেন ‘ ছবি তোলে লাভ নাই, এমন ছবি মিডিয়াত বউত আইছে। কুনু কাম অইছে না। অখন আমরার ইতা গা সয়া অইগেছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ