‘বিদ্রোহী’ ঢেউয়ে ধলাই-পিয়াইনে ডুবেছে আ.লীগের নৌকা

প্রকাশিত: 1:42 AM, April 1, 2016

‘বিদ্রোহী’ ঢেউয়ে ধলাই-পিয়াইনে ডুবেছে আ.লীগের নৌকা
 নিজস্ব প্রতিবেদক :: ধলাই নদী বয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জের বুক চিরে আর পিয়াইন গোয়াইনঘাটের বুক চিরে। ইউপি নির্বাচনে এই দুই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্রোহীদের জয়জয়কার হয়েছে। আর তাই তৃণমূলের নেতাকর্মী ও আওয়ামী ঘরানার ভোটারদের মধ্যে সুর ওঠেছে- ‘বিদ্রোহীদের ঢেউয়ে ধলাই-পিয়াইনে ডুবেছে আওয়ামী লীগের নৌকা।’

দুই উপজেলার ইউনিয়নগুলোর প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, আর ৫টিতে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। দুই উপজেলার মোট হিসেবে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ আর বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ সমানে সমান। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন এসব ইউনিয়নগুলোতে যদি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকতেন তবে হয়তো আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হয়তো আরো কয়েকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ নিজেদের ঝুলিতে জমা করতে পারতো।

কোম্পানীগঞ্জে উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিজয়ী ৪ বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে তেলিখালে বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী আবদুল ওদুদ আলফু মিয়া ৩ হাজার ৭২৫ ভোট, ইছাকলসে কুটি মিয়া ৫ হাজার ৩২ ভোট, দক্ষিণ রণিখাইয়ে সিদ্দিকুর রহমান রোকন ৩ হাজার ১৬৭ ভোট এবং উত্তর রণিখাইয়ে ফরিদ উদ্দিন ৩ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে তেলিখাল ইউপিতে আওয়ামী লীগের আপ্তাব আলী ওরফে কালা মিয়া ২ হাজার ৯৪৫ ভোট, ইছাকলস ইউপিতে আওয়ামী লীগের একলাছুর রহমান ৩ হাজার ২০৮ ভোট, উত্তর রনিখাই ইউপিতে আওয়ামী লীগের জালাল মিয়া ৩ হাজার ৭২ ভোট এবং দক্ষিণ রনিখাই ইউপিতে বিএনপির মো.আব্দুছ ছোবহান ২ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এসব ইউনিয়নে যদি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী না থাকতেন তবে আওয়ামী লীগই বিজয়ী হতো ধারণা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

একই অবস্থা পিয়াইন নদীকে বুকে আকড়ে ধরা গোয়াইনঘাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে কোম্পানীগঞ্জের তুলনায় এ উপজেলাতে দলের অবস্থান বিদ্রোহীদের চেয়ে ভালো রয়েছে। এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৪টিতে আর ১টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফুর রহমান লেবু বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১০০৩৮টি ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মো. রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৯৭৯টি। এ ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতাও নেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে এই উপজেলার নন্দীরগাঁওয়ে এস কামরুল হাসান আমিরুল, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে আবদুস সালাম, আলীরগাঁওয়ে গোলাম কিবরিয়া হেলাল ও ফতেহপুরে আমিনুর রশীদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ