ভোট উৎসব সম্পন্ন : ১৩ ইউনিয়নে ৭০৭ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষা

প্রকাশিত: 7:59 PM, March 31, 2016

ভোট উৎসব সম্পন্ন : ১৩ ইউনিয়নে ৭০৭ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার : ছাতকে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭০৭জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে কিছুক্ষণের মধ্যে  । সকাল থেকে উপজেলার সর্বত্র ভোট উৎসবের শুরুতে ভোটারদের প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা গেলেও সময় গড়িয়ে দুপুর হতেই কমতে থাকে ভোটারদের চাপ । উপজেলায় দুই তিনটি কেন্দ্রে সামান্য বিশৃংখলা হলেও কোথাও বড় ধরণের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি । বলা চলে- শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ভোট উৎসব , এখন অপেক্ষা শুধুই ফলাফলের ।

একটি মজার বিষয় হল এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আন লাকী ১৩ এর মধ্যে আটকে আছেন। যেমন ১৩টি ইউনিয়ন, প্রার্থীতার বৈধতা পায় ১৩ মার্চ, মূল আনুষ্ঠানিক প্রচারকাল ১৩দিন, নৌকা প্রতীকে ১৩ জন, ধান প্রতীকে ১৩জন এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন ১৩জন। প্রতীক বরাদ্দ থেকে টানা প্রায় দু’সপ্তাহের প্রচার-প্রচারণার ফসল হিসেবে ঘরে তুলবেন চেয়ারম্যানসহ ১৬৯জন বিজয়ী প্রার্থী। এখন ফলাফলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সাধারণ ভোটাররা। ১৩ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬৫জন, সংরক্ষিত আসনে ১২৩জন ও   সাধারণ সদস্য পদে ৫১৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে ছাতক সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সাইফুল ইসলাম (নৌকা), বিদ্রোহী সেলিম মিয়া (ঘোড়া) ও জাহেদুল ইসলাম আহবাব (ধান), সংরক্ষিত আসনে ৮জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৪ জন। সাধারণ ভোটারদের মতে এ ইউনিয়নে নৌকা ও একই দলের বিদ্রোহী ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কালারুকায় চেয়ারম্যান পদে অদুদ আলম (নৌকা), বিদ্রোহী আফতাব উদ্দিন (আনারস), বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল হক(ধানের শীষ), স্বতন্ত্র জামাত নেতা নজমুল হক (টেলিফোন) ও খেলাফত মজলিস নেতা আরিফুল হক ইদ্রিস (চশমা) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রায়েছেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনে  ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মতে এখানে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে।

চরমহল্লায়  চেয়ারম্যান পদে মুক্তিযোদ্ধা কদর মিয়া (নৌকা), আবুল হাসনাত (ধান), বিএনপি বিদ্রোহী আব্দুর রশিদ (আনারস), আব্দুস ছালাম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র আনফর আলী (টেলিফোন), খুর্শিদ আলম (মোটর সাইকেল), সিরাজুল ইসলাম(ঘোড়া), আজাদ মিয়া (চশমা), সংরক্ষিত আসনে ৯জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪০জন রয়েছেন ভোটের লড়াইয়ে। এ ইউনিয়নেও নৌকা-ধান ও বিএনপি বিদ্রোহীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে নৌকার অবস্থান শক্তিশালী বলে ভোটাররা মনে করছেন।

নোয়ারাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আফজাল আবেদীন আবুল (নৌকা), আ.লীগ বিদ্রোহী দেওয়ান আব্দুল খালিক রাজা (চশমা), হাজী জোয়াদ আলী তালুকদার(ধান), শামীম আহসান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র ছালিক মিয়া তালুকদার, সংরক্ষিত আসনে ১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬ জন। এখানে নৌকা ও দলীয় বিদ্রোহী চশমার মধ্যে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করছেন সকলে। ভোটারদের মতে এখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সুন্দর আলী (নৌকা), দিলোয়ার হোসেন( ধান), সেলিম আহমদ(লাঙ্গল), আখলাকুর রহমান, সংরক্ষিত আসনে ৬ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৪ জন প্রার্থী কয়েছেন। এ ইউনিয়নের দলীয় বিদ্রোহীর কারণে নৌকার ভরাডুবির আশংকা করছেন ভোটাররা।

ইসলামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হেকিম (নৌকা), খেলাফত মজলিস নেতা মাও. আকিক হোসাইন (ধান), বিদ্রোহী বাবুল মিয়া, ইব্রাহিম আলী(লাঙ্গল), বর্তমান চেয়ারম্যান সুফি আলম সুহেল (টেলিফোন), সংরক্ষিত আসনে ১৩ ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যানের টেলিফোনের সাথে নৌকা ও ধানের হবে ত্রি-মুখী লড়াই। ইউনিয়নবাসীর মতে নৌকা ও টেলিফোনের মধ্যে নির্ধারিত হবে জয়-পরাজয়।

উত্তর খুরমা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিল্লাল আহমদ (নৌকা), বিদ্রোহী শামছুল ইসলাম খান, আব্দুল আলিম (ধান), রমজান আলী (লাঙ্গল), সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ জন প্রার্থী রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এখানেও মূল লড়াই হবে নৌকা ও বিদ্রোহীর মধ্যে। জয়ের ব্যাপারে এখানে অনেকটাই এগিয়ে আছে নৌকা এমন ধারনাই করা হচ্ছে।

দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আব্দুল মছব্বির (নৌকা), জাহাঙ্গীর আলম (ধান), আবুল খয়ের(লঙ্গল), আফরোজ আলী,  সংরক্ষিত আসনে ১২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ ইউনিয়নে নৌকার সাথে ধানের  মূল ভোট যুদ্ধ হলেও ইউনিয়নবাসীর মতে নৌকা বেশ এগিয়ে রয়েছে।

সিংচাপইড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সাহাব উদ্দিন সাহেল (নৌকা), বিদ্রোহী মোজাহিদ আলী(আনারস), শেখ ফরহাদ আহমদ (ধান), আব্দুল আহাদ (লাঙ্গল), হারিছ উলাহ, আশিকুল ইসলাম (চশমা), শাহজাহান তালুকদার, রাসেল মিয়া, সংরক্ষিত আসনে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪০ জন প্রার্থী রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এখানে নৌকা, ধান ও আ.লীগ বিদ্রোহী মুজাহিদ আলীর ত্রি-মুখী লড়াই হবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

জাউয়াবাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে  নুরুল ইসলাম (নৌকা), বিদ্রোহী মুরাদ হোসেন(মোটর সাইকেল), বশির আহমদ (ঘোড়া), রেজা মিয়া তালুকদার (আনারস), এনামুল হক (ধান), আবুল কালাম (লাঙ্গল), আল আমিন (সিএনজি), জাহাঙ্গির আলম (চশমা), সংরক্ষিত আসনে ৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৭ জন প্রার্থী। এখানে নৌকা-ধানের সাথে আ.লীগের দুই বিদ্রোহীর চতুর্মুখী লড়াই হবার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে গয়াছ আহমদ (নৌকা), বিদ্রোহী আব্দুল খালিক, ছায়েদ মিয়া (ধান), সংরক্ষিত আসনে ১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে নৌকা ও ধানের মধ্যে হবে ভোট যুদ্ধ। তবে নৌকার অবস্থান এখানে অনেকটাই সুবিধাজনক বলে অনেকেই মনে করছেন।

দোলারবাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সায়েস্তা মিয়া(নৌকা) নুরুল আলম (ধান), আব্দুল হামিদ (লাঙ্গল), কয়েছ মিয়া, সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। এখানে ধান-নৌকার জমজমাট লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

ভাতগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওলাদ হোসেন মাষ্টার (নৌকা), এসএম ছমরু মিয়া (ধান), গিয়াস মিয়া (লাঙ্গল), আব্দুর রউফ (আনারস), সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ ইউনিয়নে নৌকা, ধান ও লাঙ্গলের ত্রি-মুখী ভোট যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
এদিকে সিংহভাগ ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে যোগ্য প্রার্থীর অভাবে ধানের শীষের ভরাডুবির আশংকা করছেন নির্বাচন বিশেষকরা। বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরো বেশী যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীতা ছিল বলে তারা মনে করেন। পক্ষান্তরে ১০টি ইউনিয়নেই বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ সব কটি ইউনিয়নে সরকার দলীয় প্রার্থীরা তুলনামূলক শক্তিশালী। আ.লীগের বিদ্রোহী হিসেবেও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিায় রয়েছেন তারাও বিএনপি প্রার্থীদের থেকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন ভোটাররা। যে কারণে অধিকাংশ ইউনিয়নে নৌকার সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী বাছাই করার জন্য সাধারণ কর্মী সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছেন বিএনপির জেলা-উপজেলার সিনিয়র নেতারা। বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা মনে করেন কালারুকা ও জাউয়া ইউনিয়নের মতো সবকটি ইউনিয়নে শক্তিশালী প্রার্থী দেয়া হলে সম্মানজনক ফলাফল আসতো। নির্বাচনে আ.লীগের ১৩, বিএনপির ১২, জাপা ১০, ২০দলীয় জোট(খেলাফত মজলিস) ১, স্বতন্ত্র (খেলাফত মজলিস) ১ ও স্বতন্ত্র (জামায়াত) ২ এবং  আ.লীগ বিদ্রোহী ১০, বিএনপি বিদ্রোহী ৩ ও ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুলিশ প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনে ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৯৮টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৬টি ভোট কেন্দ্রকে কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারন কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে মাত্র ২৪টি ভোট কেন্দ্রকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ