‘আমার বোনের ইজ্জতের নিরাপত্তা চাই’

প্রকাশিত: 1:16 AM, March 30, 2016

‘আমার বোনের ইজ্জতের নিরাপত্তা চাই’

তুমি অন্ধ হয়ে গেছ/ ফলে তুমি যাকে বলছ পাখি/ ও-গুলো তো ভীত-সন্ত্রস্ত কবুতর/
যাদের ধরে-বেঁধে আনা হয়েছে শান্তির নামে/ তুমি যাকে বলছ ফুল/ তুমি তো জানোই না
ও-গুলো বন্দুকের গুলি/ তুমি যাকে বলছ সম্পদ, উৎপাদন/ চোখ থাকলে একবার দ্যাখো/ ও-গুলো মানুষের খুলি/ তুমি যাকে বলছ সংস্কৃৃতি, সভ্যতা/ ধর্ষিতা মেয়েটি জীবন দিয়ে লিখে দিয়ে যায়/ সব কথার কথা-
এভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তনু হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক টোকন ঠাকুর। এদিকে ইফাদ গ্রুপের বিপণন বিভাগের প্রধান আসাদুজ্জামান চৌধুরী তার ফেসবুক  স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘বিকেলে ছাত্র পড়াতে বেরিয়েছিল তনু প্রতিদিনের মতোই সেনানিবাস এলাকাতেই! রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। থেঁতলানো মৃতদেহ অর্ধনগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর পড়েছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল… মোবাইল ফোনটিও পড়েছিল পাশে…, অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া পূর্ণিমাকে যখন ধর্ষণ করা হচ্ছিল, এত মানুষ  দেখে পূর্ণিমার মা ধর্ষকদের বলছিল- ‘বাবারা, আমার মেয়েটা  ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো, ও মরে যাবে।’   আমাকে একফোঁটা পানি দাও, তাকে বলা হলো পানির বদলে শরীরের ঘাম খা… (মৃত্যু পথযাত্রী সিলেটের রাজন)। আমি বাঁচতে চাই, আমি বাঁচতে চাই যেভাবেই হোক আমাকে বাঁচাও। আমার দুধের সন্তানটার কি হবে? (রাজনীতির আগুনে দগ্ধ হয়ে এভাবেই বাঁচার আকুতি চিৎকার করে জানিয়েছিলেন মৃত্যু পথযাত্রী গার্মেন্ট শ্রমিক শায়লা। (খুলনার রাকিব) আমার দম আটকে গেল। আমার সন্তানকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও!! আমি আর কখনো আসবো না। তোমাদের পায়ে ধরি আমাকে ছেড়ে দাও….. (অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত হায়েনাদের পায়ে ধরে এভাবেই আকুতি জানিয়েছিল পহেলা বৈশাখে টিএসসির মোড়ে লাঞ্ছিত বোনটি।) ওরা আমাকে দুদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছিল। হাতে ধরেছি পায়ে ধরেছি কিন্তু আমাকে তারা ছাড়েনি। বারবার আমি জ্ঞান হারিয়েছি… (বুক ভরা হাহাকার নিয়ে কেঁদে কেঁদে নালিশ করছিলো মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা কাশ্মীরের ধর্ষিতা  বোনটি।) না ভাই আমি আপনাকে আইয়ামে জাহিলিয়াত যুগের কোন কাহিনী বলছি না। তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের বর্ণনা অনুযায়ী মধ্যযুগীয় কোন বর্বরতার কথা বলছি না। বলছি- এ সভ্য দুনিয়ার কথা, বলছি- এ বাংলাদেশের কথা, বলছি- আমার মায়ের হাহাকার, বলছি- আমার বোনের আত্মচিৎকারের কথা., আমি আওয়ামী লীগ বুঝি না, বিএনপি বুঝি না। আমি আমার বোনের ইজ্জতের নিরাপত্তা চাই। আমি গণতন্ত্র বুঝি না, রাজতন্ত্র বুঝি না। আমি আমার মায়ের ইজ্জতের প্রতিশোধ চাই। আমি একদল তরুণ চাই যারা আমাদের বোনের দিকে লালায়িত জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে  ফেলবে। যারা আমাদের বোনের দিকে তাকিয়ে থাকা চক্ষু উপড়ে  ফেলবে। যারা আমাদের বোনের ধর্ষণকারীদেরকে জীবন্ত কবর  দেবে।  কথা-সাহিত্যিক পাপড়ি রহমান লিখেন, ‘আমার ছোটফুপু কুমিল্লার এক রাজনৈতিক পরিবারের বউ। ফলে তার বিভিন্ন জীবন দর্শন নিয়ে আমি প্রায়ই ভাবনা-চিন্তা করি। আজ  সে বলল- দেখ এক জীবনে কম কিছু তো দেখলাম না, শুনলাম না- যেমন রেপ করার আগে বা পরে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা, স্তন কাটাছেঁড়া করা, কিন্তু তনুর বিষয়টা নিয়ে ভাবলে দম বন্ধ লাগে। মেয়েটার চুলগুলো পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেছে। আর এই ছেঁড়া চুলের গুচ্ছ ধরেই মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া গেছে। এইটা কি বা কেন? তাহলে মেয়েটাকে কত অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে বল? শুনে আমি চুপ করে থাকি। ফুপুর জিজ্ঞাসার জবাবে আমি কি বলব? কি বলব আমি? কোনোমতে বলি- আমি এসব জানি না। কারণ এইসব পড়ে সাফোকেশন হয় বলে আমি নিউজপেপার পড়া ছেড়ে দিয়েছি বছর চারেক আগে। কিন্তু আমি জানি আমার পেপার পড়া বা না পড়াতে কারো কিছুই যাবে-আসবে না। বা এদেশ থেকে তীব্র অন্ধকার  কোনদিন দূর হবে না। একই ঘটনা বারংবার ঘটতে থাকবে। আর আমার মানসিক দুরবস্থা এমনই থাকবে- ফলে আমি আমার  প্রেমিক বা স্বামীকেও ধর্ষণকারী হিসেবে ভয় পেতে থাকব। তাতেও যে কিছু বদলাবে না সেটাও আমি জানি। তবে যা-ই হোক, আমি তনুর ছেঁড়া-চুলের-গুচ্ছ আমার দৃষ্টির সামনে থেকে অনেকদিন সরাতে পারব না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ