তনু হত্যা মামলা ডিবিতে, তদন্তে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: 2:54 AM, March 27, 2016

তনু হত্যা মামলা ডিবিতে, তদন্তে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত তনুর বাবা, মা, ভাই, চাচাতো বোনসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে ডিবি কার্যালয়ে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদিকে ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কুল-কিনারা খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এ নৃশংস খুনের ঘটনায় কুমিল্লাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত ২০শে মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার অদূরে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে কলেজছাত্রী তনু। ওই খুনের ঘটনায় দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মামলা তদন্তে মাঠে নামে র‌্যাব, পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু ৬ দিনেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। শনিবারও তনুর সহপাঠী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভে উত্তাল ছিল কুমিল্লা নগরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও ঝড় বইছে প্রতিবাদের। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হওয়া এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শুক্রবার রাতে সেনাকর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন করতে পুলিশ এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। ঘটনার পাঁচদিন পর সেনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য দেয়া হয়। এদিকে তনু হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ কুমিল্লার উদ্দেশে রোডমার্চ করবে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। কুমিল্লার আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে মঞ্চের এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। গতকাল শাহবাগে গান ও সংগীতে তনু হত্যার প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়। এ অনুষ্ঠানে ডা. ইমরান রোডমার্চে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে শুক্রবার গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবি’র ওসি একেএম মঞ্জুর আলম। ডিবি’র পাশাপাশি র‌্যাবসহ উচ্চপর্যায়ের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও বড়ভাই নাজমুল, ছোটভাই আনোয়ার, চাচাতো বোন লাইজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বক্তব্য রেকর্ড করেছে। শনিবার বিকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে, এর পাশাপাশি জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও উচ্চপর্যায়ের একাধিক তদন্ত সংস্থা রহস্য উদঘাটনে নিহতের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে। শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের হবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি  গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মামলার অগ্রগতিসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে করণীয় ও পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়। ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের পরিচালক কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার  মো. শাহ আবিদ হোসেন, ১০ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল  মোখলেছুর রহমান, কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক মো. খুরশীদ আলম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র ওসি একেএম মঞ্জুর আলম জানান, নিহত কলেজছাত্রীর বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা যাচাই-বাছাই করে  দেখা হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা স্বীকার করেন। এদিকে গতকাল শনিবার কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে টাউন হলের সামনে বাংলাদেশ কবি ফোরাম  (বাকফ) আয়োজিত তনুর হত্যার প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বাপ্পি মজুমদার ইউনুসের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মহসীন ভূঁইয়া, নবাব ফয়জুন্নেছা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক  মো. আজাদ সরকার লিটন, আনোয়ার হোসেন, কবি দীপ্র আজাদ কাজল, বাকফের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম রুবেল, কবি ফাইজা ফারজানা, কবি তাকলিমা আক্তার হৃদি, কবি তাসলিমা সরকার লিয়া, কবি ফারহানা রিমা, ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক তৈয়বুর রহমান সোহেল, বাকফ কুমিল্লা শাখার সভাপতি আজিম উল্যাহ হানিফ। এছাড়াও ক্যাম্পাস বার্তা, সেচ্ছাসেবী সংগঠন শর্ত, ভিক্টোরিয়া কলেজ পরিসংখ্যান ও গণিত বিভাগ, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোভার স্কাউট, বিতর্ক পরিষদ, সঞ্চারন, অন্বেষা সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নগরীতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল ও সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তনুর চাচা মঙ্গল মিয়া জানান, র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাত ১১টায় তনুর মা আনোয়ারা বেগম, ছোটভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, মঙ্গল মিয়ার মেয়ে লাইজু জাহান ভয় পাওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে তাদের বাড়ির শহিদুল ইসলাম শিক্ষক ছেলে আল আমিন ও গফুর মিয়ার ছেলে হুমায়ূনকে র‌্যাব-১১’র একটি দল কুমিল্লায় নিয়ে যায়। অপরদিকে আর্মি গতকাল সন্ধ্যায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ও বড় ছেলে নাজমুল হোসেন ও ইয়ার হোসেন ফুফাত ভাই ইদ্রিসকে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট নিয়ে যান। এ ব্যাপারে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক খোরশেদ আলম বলেন, তনু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টায় দিকে তনুর মা আনোয়ারা বেগম, তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, চাচা মঙ্গল মিয়ার মেয়ে লাইজু জাহান ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তাদের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় রেখে আসা হয়েছে।

প্রতিবাদী গান ও আবৃত্তিতে তনু হত্যার বিচার দাবি
এদিকে গতকাল বিকালে শাহবাগে গণজাগরণমঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত নাট্যকর্মী তনু হত্যার বিচারের দাবিতে এক ‘প্রতিবাদী সাস্কৃতিক সমাবেশে’ গান এবং আবৃত্তিতে দাবি জানানো হয় হত্যাকারীদের বিচারের। অনুষ্ঠানের আগে গণজাগরণমঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের একটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। বিজয় র‌্যালির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ওইসব অনুষ্ঠান না করে আমরা আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এই শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে হাজির হয়েছি। গত ৬দিন আগে কুমিল্লার অত্যন্ত সুরক্ষিত নিরাপত্তাবলয় ক্যান্টনমেন্টের মধ্য থেকে নাট্যকর্মী তনুকে ধর্ষণের পর তাকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার এতো বছর হয়ে গেল আমরাতো এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করিনি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা এক বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে  জানিয়েছে যে, তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশকে তারা সহযোগিতা করবেন। সেনাবাহিনী বাংলাদেশের গর্ব। আমরা এটা বিশ্বাস করেছি, এখনও করি। একটি ঘটনা কেন পুরো বাহিনীর সুনাম নষ্ট করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্ষকদের সঙ্গে, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে, ব্যাংক লুটেদাদের সঙ্গে আপস করতে করতে আজকে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অপরাধীরা অপরাধ করে আজকে পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ওইসব অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আজকে জোহার মতো লোককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পাগল ও উদ্‌ভ্রান্ত করা হয়েছে। এইসব মানসিক নির্যাতন আর আমরা সহ্য করবো না। আমাদের রাস্তায় গণসংগ্রাম করা ছাড়া কোনো উপাই নেই।
ডা. ইমরান আরও বলেন, তনু হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ আজকে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। যখন সারা বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ওই জনগণের ওই আন্দোলণকে দমিয়ে দেয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছে, ভীতি ছড়াচ্ছে। দিনাজপুরে ইয়াসমিনকে যখন হত্যা করা হলো তখন সারা দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলনে কয়েকজন নিহতও হয়েছিলেন। কাজেই শাসক গোষ্ঠী যদি মনে করেন, ক্ষমতা দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে, পেশী দিয়ে জনগণের দুর্বার আন্দোলনকে দমিয়ে দেয়া যাবে তাহলে তারা ভুল পথে আছেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, সারা দেশের মানুষ যখন সোচ্চার তখন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মুখে কুলুপ এঁটেছে। তারা কেন এমনটা করছেন তা আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের যেটা মনে হচ্ছে যে, সেনাবাহিনীর এলাকা থেকে যেহেতু তনুর লাশ উদ্ধার হওয়ার কারণে তারা কোনো কথা বলছেন না। মনে রাখা দরকার, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, এটা সবার জন্য সমান। আজকে তনুকে যেভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে ওই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা যদি সোচ্চার না হয় তাহলে ওই ধর্ষকরা দুইদিন পর আমার বোন অথবা আমার স্বজনকে ধর্ষণ করবে। তখন আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। তনুর যতোদিন পর্যন্ত হত্যার বিচার না হবে ততোদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাবো।
তনু হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
‘সরকার বসে নেই’
সোহাগী জাহান তনুর বহুল আলোচিত হত্যার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের অনেক বিচার হয়েছে, ফাঁসিও হয়েছে। প্রতিবাদকারী অনেকে হয়ত সেগুলোর খবর রাখেননি মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার বা বিচার বিভাগ বসে নেই। গতকাল ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া দেন। এমডি শাহরিয়ার আলম এমপি (পলিটিশিয়ান)’র ভেরিফাইড ফেসবুকে ‘তনু হত্যাকাণ্ডের আপডেট’ শিরোনামে আগের দিনে সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগের বিষয়ে অবহিত করা হয়। সেখানে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী তাদের নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে তনু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সরকার এ কেসের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। প্রতিমন্ত্রীর শেয়ার করা ওই স্ট্যাটাসটিতে বেশ কিছু তথ্য, প্রশ্ন এবং সতর্কবাণী রয়েছে। তনুর ক্লাসমেটরা তদন্তে সহযোগিতা করছে বলেও দোষারোপ করা হয়। তবে সেনাবাহিনী পুলিশকে সর্বোচ্চ সহায়তা করছে জানিয়ে প্রদিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, আপনারা প্রতিবাদ, মিটিং মিছিল করুন, সমস্যা নেই। কিন্তু দেশে এই ইস্যুতে উসকানিমূলক প্রোপাগান্ডা দিয়েন না যেটাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হুমকির মধ্যে পড়ে। আপনারা যেভাবে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দোষ চাপাচ্ছেন সব আর্মির উপর, ব্যাপারটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা না যেনে ঢালাওভাবে যারা আর্মিদের দোষারোপ করছেন, তার জন্য আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে বলেও সেখানে সতর্ক করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর শেয়ার করা স্ট্যাটাসে বলা হয়- থানায় খুনের মামলা হয়েছে ইতিমধ্যে। আই রিপিট খুনের মামলা করা হয়েছে…, পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা দিয়েছেন, এই মামলার সকল খরচ সরকার বহন করতে যাচ্ছে। পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কুমিল্লাতে যারা আছেন, তারা মুখিয়ে আছেন মামলার জন্য…। যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, এই মামলায় ন্যায়বিচার আসতে বাধ্য। কারণ আপনারা সকলে একত্রিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন…। আর সরকার সম্পূর্ণ রকমের আন্তরিক এই কেসের বিষয়ে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে করা…। তারপরও সব রকমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ…। পুলিশ আশাবাদী, খুব শিগগিরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে। কারণ সেনাবাহিনী এইখানে পুলিশকে সর্বোচ্চ সহায়তা করছে। সঙ্গে জাস্টিজ ফর উইমেন, বাংলাদেশ (জেএফডব্লিউবিডি) টিম তো আছেই তদন্ত কাজে সহায়তা করার জন্য…। আশা করছি সবাই ভালো কিছু দিতে পারবো…। এখুনি পুলিশ বা সেনাবাহিনী এই বিষয়ে কোনো অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট দিতে ইচ্ছুক নয় যতক্ষণ না পর্যন্ত আসামি ধরা পড়ছে। সেখানে বলা হয়, তনুর পরিবার সম্পূর্ণ রকমের নিরাপদে আছে, কিন্তু ওর বাবা প্রচণ্ড ভেঙ্গে পড়েছেন, তাই সবার সঙ্গে কথা বলছেন না। দুঃখজনক হলেও সত্য, তনুর ক্লাসমেটরা তদন্ত কাজে তেমন একটা হেল্প করতে পারছে না। তদন্তে সকল প্রকার সহোযোগিতা চেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শেয়ার করা স্ট্যাটাসে কিছু প্রশ্ন রাখা হয়। বলা হয়, কিছুদিন আগে আর্মির একজন এমপি (মিলিটারি পুলিশ) কে কোপানো হলো ডিজিএফআই’র হেডকোয়ার্টারের সামনে…। কই তখন তো কোনো প্রতিবাদের ঝড় দেখলাম না…। তনু হত্যাকাণ্ডের ফাঁকে একজন মুক্তিযোদ্ধা সন্ত্রাসীদের হাতে জীবন হারালেন, কারও খবর নাই সেই নিউজে…। আমাকে যারা চিনেন তাদের একটা কথা বলি, আমার উপর আস্থা রাখেন, আল্লাহর উপর আস্থা রাখেন…। আল্লাহ কখনোই তার বান্দাদের নিরাশ করেন না… তনুকে ন্যায় দেয়ানো হবেই। ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না আসামিদেরকে…।  ইনশাআল্লাহ….। গতকালও ফেসবুক বন্ধুদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তনু হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- অপরাধীরা যে গতিতে অপরাধ করে সেই একই গতিতে বিচার পৃথিবীর কোনো দেশেই হয় না। এটি সম্ভবও নয়। শেখ হাসিনার সরকারের সময় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে যাবে এটা কিভাবে ভাবেন আপনারা? প্রতিমন্ত্রীর একাধিক বন্ধু সেই প্রশ্নের বাখ্যা ও জবাব দিয়েছেন। বিচারের আশ্বাসে অনেকেই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেন- আমরা পজেটিভ বাংলাদেশ চাই। শিশু হত্যা ও ধর্ষণের দু-একটা বিচার দেখতে চাই। আমরা আর স্বপ্ন দেখতে চাই না। সঠিক বিচার দেখতে চাই। অন্যজন লিখেন- ধন্যবাদ আপনাকে (প্রতিমন্ত্রী), অন্তত আশ্বাস দিলেন বিচারের। আমিও বিশ্বাস করি দ্রুতই ফল পাবে তনুর পরিবার ও জাতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 24 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ