খালেদার ভিশন-২০৩০ অর্থহীন: আ’লীগ

প্রকাশিত: 1:56 AM, March 20, 2016

খালেদার ভিশন-২০৩০ অর্থহীন: আ’লীগ
আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপির কাউন্সিলে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন-২০৩০ অর্থহীন (মিনিংলেস)। আগেই নেতৃত্ব নির্বাচন করে ঢাকঢোল পিটিয়ে এভাবে কাউন্সিল করা দলের সঙ্গে তামাশা, দেশবাসীর সঙ্গেও তামাশা। তাই এটিকে সম্মেলন না বলে তামাশাই বলা চলে।

 

শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এ কথা বলেন।

২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম প্রকাশের লক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়।

হানিফ বলেন, ‘যিনি (খালেদা জিয়া) ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করলেন, তিনি কী তার সাম্প্রতিককালের ও অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত। তিনি কী দুঃখ প্রকাশ করেছেন? পেট্রোল বোমার শিকার পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন? কিংবা ভুল স্বীকার করেছেন? এগুলোর কোনওটাই তো করেননি। তার কাছে জাতি কোনও কিছুই আশা করতে পারে না। আর তার কাছে ভিশন-২০৩০-ই কী আর ২০৬০-ই কী? এটা মিনিংলেস কথাবার্তা।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাউন্সিলের বক্তব্যে দেশবাসীর জন্য আশার কোনও বাণী ছিল না। ভিশন-২০৩০ দেওয়ার তার উচিত ছিল অতীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে যেসব অপকর্ম করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সেখানে বিএনপি নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষেও কোনও বক্তব্য না দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে আছেন, তাদের পক্ষেই থাকবেন। তবে পাকিস্তানি ভাবধারায় আদর্শিত খালেদা জিয়ার কাছে জাতি আর কিছু প্রত্যাশা করে না। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত, দুঃখ প্রকাশ কিংবা জাতির কাছে ক্ষমা চাইলে জনগণ বুঝতো হয়তো তার বোধোদয় হয়েছে।  কিন্তু তা না করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, তিনি এখনও অসুস্থ রাজনীতি থেকে বের হননি।’

খালেদা জিয়ার সংলাপের আহ্বান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সংলাপের কথা খালেদা জিয়া কী কারণে বলেছেন? সংলাপ হয় দেশে কোনও ক্রাইসিস হলে। অথবা কোনও জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু করার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের আহ্বানে সংলাপ হয়। কিন্তু দেশে এখন কোনও সংকট নেই, যে সংলাপ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সম্মেলন নিয়ে দেশের জনগণ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনও আগ্রহই নেই। সম্মেলন করা হয় নেতা নির্বাচনের জন্য। কিন্তু দেশবাসী লক্ষ্য করেছে বিএনপি সম্মেলনের নির্ধারিত তারিখের অনেক আগেই তাদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছে। এরপর আর সম্মেলনের কী গুরুত্ব থাকতে পারে?’

হানিফ বলেন, ‘দলের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষমতাবান কাউন্সিলররাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নেতৃত্ব নির্বাচন করে থাকেন। কিন্তু বিএনপি কাউন্সিলরদের না ডেকেই নেতৃত্ব নির্বাচিত করেছে। তারা কখনো নিজেকে গণতান্ত্রিক দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। এটি একটি জগা-খিচুরি টাইপের দল।’

ইউপি নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি, দলের মাঠপর্যায়ের কোনও কর্মীই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করবেন না। ইতোমধ্যে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আগামীতেও যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন, তাদেরও দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কোনও নেতাকর্মী যদি প্রচার-প্রচারণা চালালে ও মদদ দিলে, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যনির্বাহী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ‘

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 17 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ