গ্রামের মেঠোপথে আলোর ঝলকানি

প্রকাশিত: 2:45 AM, March 19, 2016

গ্রামের মেঠোপথে আলোর ঝলকানি

ফরিদ মিয়া : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

ঘর নয়। বাড়ি নয়। আবার গ্রামও নয়। একেবারে গ্রামের মেঠোপথ। সৌর বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে। এমনি একটি গ্রামের নাম পাটলী। গ্রামটি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের পাঠলী গ্রাম। এ ইউনিয়নের শুধু পাঠলী গ্রামই নয়। এর আশেপাশের চানপুর, কামিনীপুর, সাতহাল, সামাত, কুঞ্জনপুর ও গোয়ালকুড়ি এ ৫টি গ্রামের মেঠপথ সৌর বিদ্যুতের আলোয় সন্ধ্যা হলেই ঝলমল শুরু করে। এ যেন গ্রাম নয়, সবুজের সমারোহে আলোর ঝলকানি।

২০১২ সালে পাটলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক গ্রামের রাস্তা ঘাটে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্যোগ নেন। সেই থেকে তিনি নিজের অর্থে ও ইউনিয়নবাসী ও প্রাবসীদের সহযোগিতায় শুরু করেন গ্রামের রাস্তায় সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সড়ক বাতি স্থাপনের।  পাঠলী গ্রামের সচেতন যুবক মো. ফারুক মিয়া জানান, প্রথমে লোকজন গ্রামের রাস্তায় রাতের আধারে বাতি জ্বলবে এ কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। যখন সড়ক বাতি বসানো হলো তখনই সবাই হতবাক। একি কাণ্ড! গ্রামের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যা হলেই জ্বলছে সংয়ক্রিয়ভাবে সৌর বিদ্যুতের আলো।
ইউনিয়নের কুঞ্জনপুর গ্রামের হাজী জমসেদ তালুদার জানান, রাতে কোন তার ছাড়া বা কোন সুইস ছাড়াই রাস্তার উপর বাতি জ্বলে। এখন এশার ও ফজরের নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়তে কোন অসুবিধা হয় না।
একই বক্তব্য চানপুর গ্রামের কুদ্দুছ মিয়ার। তিনি জানান, বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ আছে। এই বিদ্যুৎ আছে এই নেই। কিন্তু গ্রামের রাস্তা উপর বাতিটা ঝড়েও নিভে যায় না। জ্বলতে থাকে।

কামিনীপুর গ্রামের আব্দুস ছত্তার মেম্বার জানান, গ্রামের রাস্তার উপর বাতি জ্বালাতে কোন সইস দিতে হয় না। দিনের আলো চলে গেলে নিজে নিজে সারা রাত জ্বলে। আবার সকালে সূর্য উঠলে নিজে নিজে নিভে যায়।
পাঠলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের রাস্তায় সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোক্তা সিরাজুল হক জানান, ২০১২ সালে তার মাথায় বুদ্ধি আসে। কিভাবে গ্রামের অন্ধকার রাস্তাতে আলো জ্বালানো যায়। সেই অনুযায়ী তিনি কাজ করেতে থাকেন। নিজে পকেট থেকে প্রথমে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে পরীক্ষামূলকভাবে নিজ গ্রামের রাস্তায় সৌর বিদ্যুতে সাহায্যে সড়ক বাতি বসান। এ বাতি অটোমেটিকভাবে সূর্যের আলোর সঙ্গে জ্বলে ওঠে ও নিভে যায়।

পাটলী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এ ইউনিয়নের প্রায় ত্রিশভাগ লোক প্রবাসে থাকেন। ইউনিয়নের প্রায় গ্রামেই পল্লী বিদ্যুৎ না হয় পিডিবির বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক আরো জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কে প্রায় ৪ শত সড়ক বাতি দেয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি জানান, এ টাকা ইউনিয়নবাসী ও ইউনিয়নের প্রবাসে থাকা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পাওয়া গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, জগন্নাথপুর থেকে রসুলগঞ্জ বাজার পর্যন্ত। কামিনীপুর-পাঠলী। পাঠলী কুঞ্জনপুর। গোয়ালকুড়ি-চানপুর গ্রামের সংযোগ সড়কে এসব সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, আগামীতে পরিষদের নির্বাচিত হয়ে আসতে পারলে তিনি ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের রাস্তায় সড়ক বাতি স্থাপন করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ