দু’দিনেও খোঁজ মেলেনি জোহার

প্রকাশিত: 1:09 AM, March 19, 2016

দু’দিনেও খোঁজ মেলেনি জোহার

দুদিনেও সন্ধান মিলেনি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে তার পরিবারে। মা মাকসুদা হাসান ছেলেকে ফিরে পেতে চোখের পানি ফেলছেন। তিনি কোথায় কীভাবে আছেন, তার কিছুই এখনও জানতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে সেটাও পরিষ্কার নয় তাদের কাছে। এদিকে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন থানায় জিডি করতে গেলেও এখন পর্যন্ত তা গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের ইতিবাচক সাড়া পেলে এখনও থানায় জিডি করতে চান তারা। নিতে চান আইনের সহায়তা। এদিকে জোহার স্ত্রী ডা. কামরুন্নাহার তার স্বামীকে ফেরত দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রধামন্ত্রীসহ দেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে আমার অনুরোধ, আমার স্বামীকে সুস্থ সবলভাবে ফিরে পেতে তারা যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কামরুন্নাহার বলেন, আমার স্বামী দেশের জন্য কাজ করেছেন। তাকে যতদূর দেখেছি সততা দিয়ে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কখনো কোনো অন্যায় কাজ করেনি। গত দুদিন সে কোথায় কীভাবে আছে, আমরা কিছুই জানি না। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। এ মুহূর্তে আমার আর বেশি কিছু বলার নেই। শুধু স্বামীকে ফেরত চাই।
তানভীর হাসান জোহা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তা এওয়ারনেস সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের ডিরেক্টর (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সুবাধে তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্ত কাজে সাইভার নিরাপত্তা বিশ্লষক হিসেবে অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরির ঘটনার তদন্ত কাজেও তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে গত সোমবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জোহা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কেউ নন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্যও গণমাধ্যমে তুলে ধরেন জোহা। বলেন, কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলায় একটি মহল আমার ওপর ক্ষুব্ধ। এরমধ্যেই গত বুধবার থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে জোহার সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার। এর আগের দুদিন জোহা বাসায় ফেরেননি। শুধু জানান, অফিসের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বুধবার রাতে বাসায় ফেরার সময় জোহার সঙ্গে তার বন্ধু ইয়ামির আহমেদও ছিলেন। ইয়ামিরই ফোন করে অপহরণের ঘটনা জানান। ইয়ামিরের বরাত দিয়ে কামরুন্নাহার বলেন, অফিস থেকে বের হওয়ার পর সিএনজিতে ওঠেন তারা দুজনে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে বেরিয়ে কচুক্ষেত ঢুকতেই দুই-তিনটি গাড়ি তাদের সিএনজিকে ঘিরে ধরে। গাড়ী থেকে ৭-৮ জন লোক নেমে দুজনকে দুটি গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। এর মধ্যেই ইয়ামিরের মুখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে তারা। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় ইয়ামিরকে। ইয়ামির নেমে দেখেন তিনি মানিক মিয়া এভিনিউতে আছেন। তবে জোহাকে কোথায় নিয়ে গেছে সেটা আর বলতে পারেননি ইয়ামির।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 21 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ