মার্টিনের আবেগঘন বিদায়

প্রকাশিত: 2:26 AM, March 12, 2016

মার্টিনের আবেগঘন বিদায়

স্ত্রী লরাইন প্রশ্ন রেখেছিলেন, মার্টি তোমাকে সবাই কিভাবে স্মরণ করবে বলে তুমি চাও? মার্টিন ক্রোর উত্তরটা ছিল- খাঁটি ভালোবাসা নিয়ে। স্ত্রীর প্রশ্ন ছিল, জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়টি শিখলে তুমি। মার্টিনের জবাব, সত্যকে ধারণ করো ও মিথ্যাকে ত্যাগ করো। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে বিশ্ব মাতিয়েছেন মার্টিন ক্রো। গতকাল মার্টিন ক্রোর রাজসিক বিদায় দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। অকল্যান্ডে অন্তিমশয়ানে শায়িত করা হলো নিউজিল্যান্ডের এ ক্রিকেট লিজেন্ডকে। আর হলিউড স্টার থেকে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী, অকল্যান্ডে তার শেষকৃত্যে দেখা গেল হাজার লোকের সমাগম। ব্যস্ততার কারণে  চাচাতো ভাই হলিউড অভিনেতা রাসেল ক্রো শেষকৃত্যে থাকতে পারবেন কিনা সন্দেহ ছিল। কিন্তু গতকাল অকল্যান্ডে হলি ট্রিনিট্রি ক্যাথাড্রেলে  যথারীতি মার্টিনের কফিন কাঁধে আগেভাগে দেখা গেল অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রোকে। মার্টিন ক্রোর শেষকৃত্যে বিদায়ী ভাষণ (ইউলোজি) দেন তার সতীর্থ ক্রিকেটার ও দীর্ঘদিনের বন্ধু ইয়ান স্মিথ। আবেগঘন ইউলোজিতে ইয়ান স্মিথ বলেন, আমি তখন নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজ মাঠের কমেন্ট্রি বক্সে বসে। গত ১৭ই জুন মার্টিনের এক খুদে বার্তা ভেসে উঠলো আমার মোবাইলে। তাতে লেখা, আমার কিছু হলে তুমি আমার ইউলোজি দেবে। বার্তা পড়ে আমার মনটা খারাপ হলো কিন্তু তৎক্ষণাৎ পালটা খুদে বার্তা আমি লিখে পাঠালাম, হে বন্ধু আমি চাই তুমি আমার ইউলোজি পড়বে। আমার মনে হলো বন্ধুকে খুব বেশি দিন হয়তো আর পাবো না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলাম ইয়ান বোথাম ও মার্ক নিকোলাসের সঙ্গে। আর বাজে মুহূর্তটা মোকাবিলার জন্য মনকে শক্ত করতে চাইলাম। নিউজিল্যান্ডের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ইয়ান স্মিথ বলেন,  সারাজীবনই ভীষণ একজন যোদ্ধা ছিলে তুমি। ১৯৮৪তে কলম্বো টেস্টে ব্যাট হাতে তোমার  লড়াইয়ের কথা মনে পড়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেবার ম্যাচ বাঁচে আমাদের। ১৯৮৫তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্রিজটাউনে তোমার ১৮৮ রানের ইনিংসে ফের ম্যাচ বাঁচলো। আর একই বছর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঠিক ১৮৮ রানের ইনিংস খেললে তুমি। ম্যাচ শেষে জয় পেলাম আমরা। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৫২ রানে ৯ উইকেট পেলেন রিচার্ড হ্যাডলি। কিন্তু জয় পেতে ব্যাট হাতেও   নৈপুণ্য দেখানোর  প্রয়োজন ছিল আমাদের। তারপর মনে কর ১৯৯২’র বিশ্বকাপের কথা। শেষকৃত্যে স্ত্রী লরাইন ডাউন্স বলেন, মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম,  মার্টি তোমাকে সবাই কিভাবে স্মরণ করবে বলে তুমি চাও? মার্টি উত্তরে বলেছিল- খাঁটি ভালোবাসা নিয়ে আমার জন্য প্রার্থনা করবে।  তাকে প্রশ্ন করেছিলাম,  জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়টি শিখলে তুমি। মার্টিনের জবাব, জীবনে শিখলাম অনেক। তবে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা হলো সত্যকে ধারণ করো ও মিথ্যাকে ত্যাগ করো। ভাই জেফ ক্রো মার্টিনের মৃত্যুর খবর পান বাংলাদেশে বসে। এশিয়া কাপে ম্যাচ রেফারি দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। গতকাল মার্টিনের শেষকৃত্যে জেফ ক্রো বলেন, আমি পত্রপত্রিকায় তার লেখা নিবন্ধ দেখে খুব চমৎকৃত হয়েছিলাম। এত দারুণ ভাষাছন্দে সে লেখে কিভাবে? পরে আমাদের এক স্কুল বন্ধু আমাকে জানায়, ক্লাসরুমে লুকিয়ে বিষয়ভিত্তিক বই পড়ার অভ্যাস ছিল তার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 24 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ