সিলেটে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে পতিতা বানিয়ে দিল পুলিশ

প্রকাশিত: 4:42 PM, March 8, 2016

সিলেটে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে পতিতা বানিয়ে দিল পুলিশ

নিউজ ডেস্ক : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় নাবালিকা ধর্ষন মামলায় ধর্ষককে অব্যাহতি দিয়ে ৫ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে (১৩) পতিতা বানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আসামীকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিযেছে বরে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ভিকটিমের মা শামসুন্নাহার। এ ব্যাপারে নির্যাতিতা ছাত্রীর মা আদালতে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, মৌলভাবাজারের সদরের আগনসি গ্রামের বিধবা শামসুন্নাহার ছেলে মেয়েদের নিয়ে বসবাস করেন সিলেটের দক্ষিন সুরমা থানার দাউদপুরের নজরুল ভিউতে । তার এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন এবং ১৩ বছরের অপর মেয়ে স্থানীয় স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী । একই বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটে বাস করে রিক্সাচালক আবুল হোসেন। আবুল সিলেটের মোগলাবাজার থানার বান্দরঘাট গ্রামেন হাসিম আলীর পুত্র। গত বছরের ৩রা অক্টোবর রাতে রিক্সাচালক আবুল হোসেন তার নাবালিকা মেয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এ অভিযোগে শামসুন্নাহার গত ১২অক্টোবর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (নং-০৭(১০)১৫)করেন। মামলায় রিক্সাচালক আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামী করা হয়। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় থানার এসআই রমাকান্ত দাসকে। তদন্তেকালে পুলিশ আসামী আবুলকে গ্রেফতার করেনি। উল্টো ওই ছাত্রীর মা ও নাবালিকা মেয়ের চরিত্রে কলংক লেপন করে আদালতে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। গত ১৫ফেব্রুয়ারী সিলেট মেট্রোপলিটন আমলী ৫নং আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেন থানার এসআই রমাকান্ত দাস। রিপোর্টে ধর্ষনের অভিযোগ থেকে রিক্সাচালক আবুলকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার বাদীকে দেহ ব্যবসায়ী ও ধর্ষিতা ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে পতিতা বানিয়ে দেন তিনি। নাবালিকা ছাত্রী ধর্ষন মামলায় রিক্সাচালক আবুলকে অব্যাহতি দিয়ে ৫ম শ্রেণীর একছাত্রীকে পতিতা বানিয়ে দেয়ার ঘটনায় এলাকায়  ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদী বিধবা শামসুন্নাহারের অভিযোগ, তার কাছ থেকে টাকা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আসামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করেন । আর টাকার বিনিময়ে অতি গোপনে এ চার্জশিট দাখিল করেন। খবর পেয়ে বিধবা শামছুন্নাহার আদালতে নারাজির পাশপাশি এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তপরে আশু হস্তপে কামনা করেছেন।
মামসরার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রমাকান্ত দাস টাকা গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মামলার বাদী দেহব্যবসায়ী এবং ভিকটিম পতিতা। বাদী ওই মেয়েকে দিয়ে দেহব্যবসা করে থাকে। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। ডাক্তারী পরীক্ষায় মেয়ের মধ্যে যৌনতার কোন আলামতই পাওয়া যানি। তাই তিনি আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছেন। যৌনতার আলামত পাওয়া না গেলে ওই ছাত্রী কিভাবে পতিতা হয়, এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান এসআই রমাকান্ত দাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 26 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ