আগামী বাজেট তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার

প্রকাশিত: 7:07 AM, March 4, 2016

আগামী বাজেট তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার

pic-4-702x336প্রান্ত ডেস্ক:অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেট হতে পারে তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আগামী বাজেটের বিশেষ দিক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আরও কিছু মেগা প্রকল্প নেওয়া হবে। এ কারণে আলাদা ‘ক্যাপিটাল প্রোগ্রাম’ রাখা হবে। আরও ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রজেক্ট নেওয়া হবে। মেগা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনে কিছুটা কঠিন শর্তের ঋণও নেওয়া হবে। গত কয়েক বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন কম হয়েছে। এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যখন প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, তখন বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল।
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অর্থনীতির স্বার্থে বাজেটের আকার আরও বড় করা উচিত। বিনিয়োগের দুর্বল পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগের ৭৫ শতাংশ হচ্ছে নির্মাণ খাতে। কিন্তু কী ধরনের নির্মাণ কাজ হচ্ছে তা নিয়ে ভাবতে হবে। মেগা প্রকল্প নেওয়া ভালো, তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো উচিত। এসব প্রকল্পের নানা দিক বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ভালো সমীক্ষা ছাড়া কোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে তা ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিনিয়োগের হিসাব সেকেলে। এতে অর্থনীতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে না। এ জায়গায় পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবাই পাচ্ছেন না। কেউ আরও ধনী হচ্ছে, কেউ গরিবই রয়ে গেছে। উন্নয়ন সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার কারণ খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে যে অগ্রগতি হচ্ছে, তা ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে হবে। সামাজিক সুরক্ষার পরিধি আরও বাড়াতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন সঠিক পথে রয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জিত হবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এনবিআরবহির্ভূত করেরও প্রবৃদ্ধি ভালো। বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব বোর্ড স্বচ্ছ এবং জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ছোটখাটো যেসব সমস্যাগুলো দূর করার চেষ্টা চলছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে এনবিআর কাজ করে যাচ্ছে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক কেএস মুর্শিদ বলেন, বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কৃষি খাতে কোনো মেগা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে না। জাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কৃষি ও ফার্মের জন্য মেগা প্রকল্প নেওয়া দরকার। আগামী বাজেটে গবেষণায় বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) গবেষণা পরিচালক সাজ্জাদ জহির বলেন, রাজস্ব সংগ্রহে নতুন নীতি গ্রহণ করতে হবে। আড়াই লাখ প্রতিষ্ঠান থেকে উৎসে কর সংগ্রহ করা হলেও তারা আয়কর দেন না। আবাসন খাতে আর্থিক লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়। বিদেশে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ না থাকলেও প্রকাশ্যে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম নির্মাণের জন্য অফিস খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে এনবিআরকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বাজেটে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাণিজ্য বাড়াতে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রেল খাতে আরও বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংস্কার করার আহ্বান জানান তিনি। বিআইডিএসের গবেষক নাজনীন সুলতানা বলেন, নারীদের জন্য বাজেটে নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ