সিলেট বিএনপি’র কাউন্সিল : শেষ মুহূর্তে অারিফুল হকের সিদ্ধান্ত বদল

প্রকাশিত: 3:48 AM, February 3, 2016

সিলেট বিএনপি’র কাউন্সিল : শেষ মুহূর্তে অারিফুল হকের সিদ্ধান্ত বদল

নিউজ ডেস্ক : মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ দল বিএনপির বহুধা বিভক্ত নেতাকর্মীদের একীভূত করার চিন্তাধারা ছিল সিলেটের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কারাবন্দি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। সে কারণে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় নিজেও কিছুটা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। আর কারাবন্দি হওয়ার পর সর্বশেষ সিলেট ছাড়ার প্রাক্কালেও মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন না আরিফ। হচ্ছেন না মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থীও। গতকাল দিনভর সিলেট বিএনপিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। কারাবন্দি থাকায় তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন- এমন সুরও উঠেছিল বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে কোনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলো না। দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল শেষ বারের মতো তার সঙ্গে দেখা করেছেন অনুসারীদের কয়েকজন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন কিনা- এ ব্যাপারে তার মতামতও চাওয়া হয়। আরিফুল হক চৌধুরী নিজ থেকে কাউন্সিলে অংশ না নেয়ার কথা জানিয়েছেন। আরিফের সঙ্গে দেখা করা নেতারা জানান, আরিফুল হক চৌধুরী প্রথমে মহানগরের সভাপতির পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তিনি জানিয়েছেন, সিলেট বিএনপির তরুণ নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে তিনি এবার প্রার্থী হচ্ছেন না। আর কারাবন্দি থাকলে দলীয় কর্মকাণ্ডে ভাটাও পড়বে। এতে করে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তিনি। মেয়র হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট মহানগর বিএনপির দায়িত্ব নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী তিনি কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেন। এক বছরের অধিক সময় ধরে আরিফুল হক চৌধুরী কারান্তরীণ আছেন। তিনি এখন সিটি করপোরেশনের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত। ওদিকে, তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলাও ফের পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু করেছে। এই অবস্থায়ও কিছু দিন আগ পর্যন্ত তিনি মহানগর সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। শেষবার সিলেট ছাড়ার প্রাক্কালে আদালত প্রাঙ্গণেই বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জানিয়েছিলেন মহানগরের সভাপতি হতে তিনি রাজি। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা গতকাল জানিয়েছেন, আরিফুল হক চৌধুরী এই মূহূর্তে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি। তিনি বাইরে থাকলে অবশ্যই তাকে এ মর্যাদা দেয়া হতো। আর কারাবন্দি থাকায় সিদ্ধান্তটি একান্তই তার। তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিলে অবশ্যই দল থেকে তাকে মূল্যায়ন করা হতো। এদিকে, কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আরিফুল হক চৌধুরীর পরিবার। নিজেও অসুস্থ। [the_ad id=”253″]

তার ওপর তার বৃদ্ধা মাও এখন শয্যাশায়ী। স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী সন্তানদের নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায়। এ অবস্থায় আরিফুল হক চৌধুরীকে নতুন করে কোনো ঝুঁকি নিতে দিচ্ছে না পরিবার। তিনি নিজে আগ্রহ দেখালেও পরবর্তীতে পরিবারের কঠোরতার কারণে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে। তবে, গতকাল দলীয় নেতাদের কাছে তিনি বলেছেন, যারাই দায়িত্বে আসুক তারা যেনো দলের জন্য নিবেদিত হয়। সিলেটে বিএনপিকে যেনো তারা নতুন করে যাত্রা শুরু করতে পারে। সে কামনা তার পক্ষ থেকে রয়েছে। আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট জেলা বিএনপির এক সময়ের সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে তিনি মহানগরের সভাপতি হয়েছিলেন। এখন কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে রয়েছেন। দলের নেতারা জানিয়েছেন, যারা কেন্দ্রীয় বিএনপির কমিটিতে আছেন তাদের সিলেটে নতুন করে দায়িত্ব দিতে চাচ্ছে না হাইকমান্ড। এ কারণে এবার নতুনদের নতুন সুর উঠেছে কমিটি গঠনের। গতকাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার শেষ দিনেও তেমন চিত্রই ফুটে এসেছে। গতকাল মহানগর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতা একেএম আহাদুস সামাদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কোনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়নি।

[the_ad id=”249″]

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 15 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ