সুনামগঞ্জে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু

প্রকাশিত: 11:06 AM, February 28, 2016

সুনামগঞ্জে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু

DGপ্রান্তডোস্ক:অবশেষে সুনামগঞ্জে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের জন্য নির্মিত ভবনের আজ উদ্বোধনের মাধ্যমে এর কাজ শুরু হলো। পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ রোববার এই ভবনের উদ্বোধন করবেন।
এসময় পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, হাওরের জীবমান উন্নয়নের জন্য সরকার নীতিমালা করছে। আর হাওর উন্নয়ন বোর্ডের নাম বদলে হাওর পরিদফতর করা হয়েছে। এটি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধিনে থাকবে। এটি হাওরের উন্নয়নে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, হাওরের বাধের কাজ করতে গিয়ে এখানকার পরিবেশ, হাওরের মাছের চাষসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে হয়। আমরা চিন্তা করছি, হাওরের ফসল রক্ষায় স্থানীয় ব্যবস্থা নেয়ার। তারও উদ্যেগ নেয়া হবে।
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরে পানি উন্নয়নে বোর্ডের নব নির্মিত দ্বিতল ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
পরে মন্ত্রী ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। এরপর সুনামগঞ্জ পাউবোর তত্ত্বাবধানে পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় এর জায়গায় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনতলা ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০১২ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এরপর পাউবো ভবনটি বুঝে নেওয়ার জন্য হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। কিন্তু তিন বছর ধরে ভবনটি বুঝে না নেওয়ায় সেটি পাউবোর কাছেই ছিল।
ঢাকার গ্রিন রোডে পাউবো কার্যালয়ের একটি ভবনে চলে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। হাওরপ্রধান জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জে প্রথম আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জসহ হাওর এলাকার ছয়টি জেলায় ২০১০ সাল থেকে ‘হাওর এলাকায় আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের’ কাজ চলছে। এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন প্রকল্প’ নামে আরেকটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই দুই প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ