জিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন, যুদ্ধ করেননি : গণপূর্তমন্ত্রী

প্রকাশিত: 7:24 AM, February 26, 2016

জিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন, যুদ্ধ করেননি : গণপূর্তমন্ত্রী

011_195595প্রান্ত ডেস্ক:গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কোনোদিনও মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তবে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণে জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘উনি (জিয়া) শেলের রেঞ্জের বাইরে থাকতেন এবং যেখানে শেল পড়ত সেখানে থাকতেন না। তাই আমি আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি, জীবন্ত সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, যখন কালুরঘাটে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল, তখন বিএনপির এখনকার উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরীসহ ক্যাপ্টেন হারুন আহত হয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ ফেলে উনি (জিয়া) চলে গেলেন। আমরা চিন্তা করলাম কী ব্যাপার? মেজর জিয়া কোথায় গেলেন?’
মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন আরেকটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে বদ্দার হাটে প্রচণ্ড যুদ্ধের মধ্যে যখন প্রায় পাকিস্তান আর্মি চলে এসেছে, হঠাৎ আমি দেখলাম জিয়াউর রহমান নেই। আমি অপেক্ষা করলাম এবং বসে চিন্তা করলাম। এরপর জিজ্ঞাসা করলাম- উনি কোথায় গেলেন? তারা বলল- উনি ওই দিকে চলে গেছেন। তখন আমি ভাবলাম, তাহলে আমাদের এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। তখন দুই দিকে ফায়ারিং চলছে। মধ্যখানে রাস্তা। তখন সেই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে আসলাম।
‘কাজেই জিয়াউর রহমান কোনোদিনও যুদ্ধ করে নাই। কারণ হলো তিনি যুদ্ধে ছিলেন কিন্তু যুদ্ধ করেন নাই। কাজেই তার স্ত্রী খালেদা জিয়া শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করবেনই। কারণ উনি মুক্তিযুদ্ধ দেখে নাই।’
আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পূর্বাচলকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অল্প পরিমাণ জমিতে অধিক পরিমাণ লোকের আবাসন সুবিধা গড়ে তুলতে সেখানে ৬২ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণ করা আছে। অতি সত্ত্বর ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। পূর্বাচলে বাড়ি নির্মাণের নকশার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী বছরের ডিসেম্বর মধ্যে পূর্বাচল প্রকল্পের কাজ শেষ করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূর্বাচলে জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ ১৪২ তলাবিশিষ্ট আইকন টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সরকারের নবীন কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় সাত কোটি টাকার রিভলবিং ফান্ডের প্রকল্প নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চাকরিতে যোগদানের চার বছরের মধ্যে বরাদ্দপত্রসহ সরকারি কর্মকর্তারা ফ্ল্যাটের মালিকানা বুঝে পাবেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১ লাখ ৫৫ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা শহরে আছে। তাদের জন্য আবাসের প্রয়োজন। এখন মাত্র ৮ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারির আবাসন সুবিধা দিতে পারেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তারা অতি সত্ত্বর এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, যাতে করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ আবাসন সুবিধা দিতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ