মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বিএনপির ৮৩ প্রার্থী: রিজভী

প্রকাশিত: 8:53 AM, February 24, 2016

মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বিএনপির ৮৩ প্রার্থী: রিজভী

094846Mir-Kasem-Ali-(3)প্রান্ত ডেস্ক:ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ৮৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, কেবল বাগেরহাট জেলাতেই বিএনপির ৩০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আরো ৪-৫ জনকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আজ দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছিল প্রথম ধাপে ৭৩৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অন্তত ২৫টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলছেন। ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় এই ভোটে ৭১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দেশের কোনো প্রার্থী নেই বিএনপির।
ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ‘সংঘাতপূর্ণ’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের কারণেই জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার বিলুপ্ত করে সরকারের একচেটিয়াত্ব প্রতিষ্ঠার সহযোগী হিসেবে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন কী স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা, নাকি গণভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সুধা সদনের এক্সটেনশন ভবন?
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বে থাকার পরও নির্বাচনে কীভাবে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধা, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও চলাচলের ওপর উপর্যুপরি হামলা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রাণবিনাশী হুমকি অব্যাহতভাবে চলছে।
ভোট ডাকাতির আলামত শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, একতরফা নির্বাচনের সরকার যে মডেল খাড়া করেছে, তাদের দোসর নির্বাচন কমিশন প্রতিটি নির্বাচনে সেই মডেলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছে। এই ইউপি নির্বাচনেও যে ভোট ডাকাতিসহ আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও পুলিশের যৌথ তা-ব দৃশ্যমান হবে, তার সকল আলামত শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই।
রিজভী জানান, পটুয়াখালী জেলাধীন বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জব্বার মৃধার সমর্থকদের ওপর ক্ষমতাসীনরা হামলা চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে আহত করেছে। এদের মধ্যে আটজনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ছাড়া সন্ত্রাসীরা বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দুটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার খানপুর ইউপি, ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, পিরোজপুর জেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্যাতন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি শিশুহত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন অপরাধে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে হৃদয়বিদারক শিশুহত্যা। হবিগঞ্জের বাহুবলে পঞ্চায়েতের দ্বন্দ্বের কারণে চার শিশুকে হত্যা করে বালিচাপা দিয়ে রেখেছিল খুনিরা। গত ১২ মাসে ৩৮০ জনের বেশি শিশু নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা লোপ পাচ্ছে। তাই নিষ্পাপ শিশুরাও এই দুঃশাসনের করালগ্রাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এইভাবে ভোটারবিহীন সরকার আমাদের সমাজকে অনৈতিকতা আর অধঃপতনের লাস্ট চ্যাপ্টারে পৌঁছিয়ে দিয়েছে।’
বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গঠিত উপকমিটিগুলো পুরোদমে কাজ শুরু করেছে জানিয়ে দলটির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, উপকমিটি ইতিমধ্যে সভা করে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে প্রচার-প্রচারণার জন্য সড়ক-মহাসড়কের বিভাজক, লাইটপোস্ট ও সড়কদ্বীপে ফেস্টুন টাঙানোর জন্য অনুমতি পেতে সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রদের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ