প্রথম ধাপের ৭৩৪ ইউনিয়নে চলছে জমজমাট প্রচারণা

প্রকাশিত: 3:09 PM, March 5, 2016

প্রথম ধাপের ৭৩৪ ইউনিয়নে চলছে জমজমাট প্রচারণা
নিউজ ডেস্ক : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে ৭৩৪ টিতে শুরু হয়েছে জমজমাট প্রচারণা। বৃহস্পতিবার এসব ইউনিয়নে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু হয়। প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরাও দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে শুরু করেছেন।

তবে প্রচারণার শুরুতেই কোথাও কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে সরকারের কাছে সময়মত চিঠি না যাওয়ায় আচরণবিধি তদারকিতে এখনও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে নামানো যায়নি।

সদ্য অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের বিধিমালায় ভোটের ২১ দিন আগ থেকে প্রচারণার বিধান করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যের প্রশ্ন উঠলে এবার ইউপি নির্বাচনের বিধিমালায় পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারণা শুরু হবে।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ধাপে ৮টি বিভাগের ৩৭টি জেলার ১০১টি উপজেলার ৭৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম ধাপে ভোট হবে। এসব ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরপরই শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা।

এদিকে এই ৭৩৪ ইউনিয়নে ২ মার্চ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বিষয়টি জানিয়ে গত ২ মার্চ ইসির আইন শাখা থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ১০১ উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়,মোবাইল কোর্ট আইন,২০০৯ এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য সব মিলিয়ে ৪০৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হবে। এর মধ্যে প্রতি উপজেলায় একজন করে ১০১ জন ম্যাজিস্ট্রেট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২ মার্চ থেকে ভোটগ্রহণের পরদিন পর্যন্ত মোট ২২ দিনের জন্য আচরণ বিধি সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য থাকবেন।

আর বাকি ৩০৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত চারদিনের জন্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারাও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি তদারকি করবেন। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করার জন্য বলা হয় ওই চিঠিতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসি থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের চিঠি ২ মার্চ বিকেলে জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি ৩ মার্চ বৃহস্পতিবার পৌঁছে। ওই দিন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে মাঠ পর্যায়ে কোনও নির্দেশনা পাঠাতে পারেনি। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় রোববার ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ফলে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াই তিন দিন চলবে প্রচারণামূলক কার্যক্রম। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইসিকে চিঠি দেয়া হয়নি বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

আলাপ করে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ আচরণবিধি অনুযায়ী কোনও প্রার্থী বা তার সমর্থক বিধিমালা লঙ্ঘন করলে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালালে এ দণ্ড দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে মেজিস্ট্রেটদের।

জেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, মিছিল-শোভাযাত্রা করে প্রচারণা নিষিদ্ধ হলেও এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছেন প্রভাবশালী প্রার্থীরা। মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তাবলী ও সময়সীমা মানছেন না তারা। কোথাও কোথাও সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়। এসব ঘটনায় সাজা দেয়ার কেউ নেই। ইউএনওদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না। তবে কিছু কিছু স্থানে স্থানীয় প্রশাসন নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেটদের আচরণবিধি তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব শামসুল আলম জানান, কমিশন আগেই দুই মার্চ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ