বাংলাদেশ সুপার লীগের (বিএসএল) জমকালো লোগো উন্মোচন

প্রকাশিত: 3:10 AM, February 29, 2016

বাংলাদেশ সুপার লীগের (বিএসএল) জমকালো লোগো উন্মোচন

নিউজ ডেস্ক : ঝলমলে আয়োজনে গতকাল উন্মোচিত হলো বহুল আলোচিত বাংলাদেশ সুপার লীগের (বিএসএল) লোগো। ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এ ফুটবল লীগ শুরু হওয়ার কথা আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে। তবে আট-নয় মাস আগেই লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিএসএলের লোগো উন্মোচন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওয়াবদুল কাদের। আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আয়োজক সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন ও বাফুফের সহ-সভাপতি বাদল রায়।
গতকাল এ লেগো উন্মোচনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের। কিন্তু তিনি আসেননি। কী কারণে তিনি উপস্থিত হননি তাও জানায়নি আয়োজকরা। ছিলেন না বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও। তবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, খেলাধুলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কোথাও বক্তব্য পর্ব নেই। বাংলাদেশে এ কালচার চলে আসছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। আমি বিএসএল তথা বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। ভারতে আইএসএল হচ্ছে, আমাদের এখানেও সুপার লীগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আজকের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। অল্প কথার মধ্যে ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্য শেষ করলেও অহেতুক ও ভুল ইংরেজি শব্দে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য দিয়ে আমন্ত্রিতদের বিরক্ত করেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। জয়ের শ্রীহীন বক্তব্যের মতো অনুষ্ঠানেও কোনো শ্রী ছিল না। এক কোটি টাকা ব্যয়ে এ আয়োজনে তাক লাগানোর মতো কিছুই ছিল না। অতিথিদের বক্তব্য ছাড়া সাত আট মিনিটে লোগো উন্মোচনে ফুটবল নিয়ে তৈরি করা একটি ভিডিও দেখানো হয়। এখানেও দেশের ফুটবলের গৌরবোজ্জ্বল কোনো স্মৃতি দেখানো হয়নি। এরপরও বিএসএল নিয়ে আশাবাদী ভারতভিত্তিক ইভেন্ট কোম্পানি সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (সিএমজি)। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ভাস্বর গোস্বামী বলেন, ‘বিএসএল একটা স্বপ্নের নাম। এ স্বপ্ন নিয়ে আমরা বাফুফের কাছে এসেছিলাম। এটা কোনো লীগের কপি হতে যাচ্ছে না, সম্পূর্ণ আলাদা একটা আয়োজন হতে যাচ্ছে।’ প্রতিষ্ঠানটির এ কর্তা আরও বলেন, ‘এ লীগ থেকে কোনো ফুটবলার ইউরোপে খেলার সুযোগ পেলে এটিই হবে আয়োজনটির সার্থকতা। আমি মনে করি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফুটবল দুটি ধারায় বিভক্ত হবে। একটা বিএসএল পূর্ববর্তী যুগ, বিসিএল পরবর্তী যুগ।’
বাফুফের সহ-সভাপতি বাদল রায় বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত এটা। আমরা একাডেমি করেছি। ঢাকার ফুটবল আজ জমজমাট। খেলাটি তৃণমূলেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুল ফুটবল হচ্ছে। বিএসএল ভালো হবে বলেই আমার বিশ্বাস। টুর্নামেন্টের মূল উদ্যোক্তা তরফদার রুহুল আমীন বলেন, বাঙালি জাতির রক্তে মিশে ছিল ফুটবল। বাংলাদেশে খেলাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক এটি। এ লীগের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে ধাবিত হবে ফুটবল। উল্লেখ্য, বিএসএল নিয়ে বাফুফের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে আয়োজক সাইফপাওয়ারটেক। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর নভেম্বর ডিসেম্বরে দেশের আটটি বিভাগ নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রতিযোগিতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 29 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ