দ্বিতীয় ধাপে ৬৭২ ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত

প্রকাশিত: 2:39 AM, February 29, 2016

দ্বিতীয় ধাপে ৬৭২ ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত

আগামী ৩১শে মার্চ অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান  পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৬৭২ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে   আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। এছাড়া তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের জন্য আগামী ৮ই মার্চের মধ্যে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রার্থী তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিতে দলের তৃণমূল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমাদের বেশকিছু প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। এটা হতেই পারে। কারণ, বিগত সাত বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশের যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। জনগণ বিশ্বাস করে একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বে পরিণত হবে। হানিফ বলেন, জনগণ সেই সরকারই চায়, যে সরকারের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। দেশের জনগণ সরকারের প্রতি সেই আস্থা পাচ্ছে। তাই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে অনেকেই শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে অন্য দল থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে চলে এসে সরকারি দলে যোগ দিচ্ছেন। এখন সরকারের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনে যদি কেউ না আসে সে ক্ষেত্রে কী আমাদের (আওয়ামী লীগ) অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো সুযোগ আছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকারি বা বিরোধী দল বলতে কিছু নেই উল্লেখ করে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিরোধী দল না থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকর হয় না- এ ধরনের কোনো পদ্ধতি আছে বলে আমাদের জানা নেই। একমাত্র জাতীয় সংসদে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দল থাকে। বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়া। কাজেই ইউপিতে বিরোধী দল থাকলো না থাকলো- এটা ভাবার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন অভিযোগ ও নির্বাচনের পর সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। নালিশ করতে করতে তারা এখন নালিশি পার্টিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতায় থাকতে যেমন তারা দুর্নীতি ও সন্ত্রাস করেছে তেমনি বিরোধী দলে থাকতেও তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। হানিফ বলেন, বিএনপি পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাস করে। তারা সবসময়ই সরকারকে অস্থিতিশীল করার আন্দোলন করতে চেয়েছে। অতীতে আন্দোলনের নামে সহিংসতার জন্য জনগণ তাদের শিক্ষা দিয়েছে। আবারও যদি সেরকম কিছু করে তাহলে আবারও জনগণ তাদের শিক্ষা দেবে। প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে হানিফ বলেন, আমরা আশা করি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হবেন না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেউ অভিযুক্ত হবেন না। তিনি জানান, বিগত পৌরসভা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী হয়েছিল তাদের বহিষ্কার ও কারণ দর্শানো চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের যারা মদত দিয়েছিল স্ব স্ব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়া বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ সিরাজ, বিএম মোজাম্মেলন হক, বীর বাহাদুর, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক আদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দি প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ