ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর টাইগাররা

প্রকাশিত: 2:33 AM, February 29, 2016

ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর টাইগাররা

বোলারদের দাপট দেখা যায় আগের খেলায় আরব আমিরাতের বিপক্ষেই। কিন্তু তাতে মন ভরেনি দলটি ছোট বলে। কিন্তু লড়াইয়ের খানিকটা পুঁজি এনে দিলে যে বোলারারও এখন ম্যাচ জেতাতে পারেন তার প্রমাণ ভালভাবেই দিলেন মাশরাফি বাহিনী। কারও চেয়ে কেউ পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশ এখন আর কারও একার ওপর চলে না। কাকে রেখে কাকে বড় করবেন। যেন সবারই সমান অবদান। শুরুতে ক্যাচ মিস আর বাজে ফিল্ডিংয়ে কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন  সৌম্য-তাসকিনরা। শেষে সেই সৌম্য সরকারই জিতলেন
ম্যাচসেরা ক্যাচের পুরস্কার ২৫০০ ডলার। প্রথম তিন ওভারে অভিজ্ঞ তিলকারতেœ দিলশান আর সাবেক টি-২০ অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল মার মার কাট কাট করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই পেসার তাসকিন আর আল আমিনকে স্বচ্ছন্দেই পেটাচ্ছিলেন তারা। চতুর্থ ওভারে সাকিবকে নিয়ে এলেন মাশরাফি। সম্প্রতি ফর্মের ঘাটতিতে থাকা এ স্পিনার অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিলেন প্রথম বলেই। দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে জাগিয়ে তোলেন সৌম্যই। তবে এরপর চান্ডিমাল আর সেহান জয়বর্ধনে হাল ধরেন শক্ত করে। সাকিবকে সরিয়ে ফের পেসারদের দিয়ে চেষ্টা। একে একে আল আমিন, মাশরাফি, তাসকিন ও মুস্তাফিজ বল করে গেলেন। কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। নবম ওভারে ফের স্পিন অ্যাটাক। এবার মাহমুদুল্লাহ। উইকেট না পেলেও দিলেন মাত্র চার রান। পরের ওভারে ফের সাকিব, তিনি দিলেন ছয় রান। ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৬৬/১। ৬০ বলে চাই আরও ৮২ রান। লক্ষ্যটা কঠিন নয়, হাতে উইকেটও অনেক। সংশয়ে গোটা দেশ। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জয়বর্ধনে দ্বিতীয় ছক্কা মেরে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন দিনটা যেন তারই। কিন্তু ওভারের শেষ বলে ৩৭ বলে ৩৭ করা চান্ডিমালকে ফিরিয়ে আশার আলো জ্বালেন মাহমুদুল্লাহ। ক্যাচটি নেন তাসকিন। ১২ ওভার শেষে স্কোর ৭৯/৩। এরপর দ্রুতই খেলার গতি পালটাতে থাকে। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান বাড়তে থাকে। ১৩তম ওভার থেকে ফের পেস আক্রমণ।  এ ওভারের শেষ বলেও তাসকিন ক্যাচ ফেলেন। প্রথমে মুস্তাফিজ, পরে মাশরাফি আর শেষে আল আমিন। স্পিনারদের গড়া ভিতে দাঁড়িয়ে লঙ্কানদের ধ্বসিয়ে দিলেন তারা। আল আমিন তিনটি, সাকিব দুটি আর মাশরাফি,মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজ পেলেন একটি করে উইকেট। ছয় বোলারের মধ্যে শুধু হাতে কেবল তাসকিন। আল আমিনই একটু বেশি খরুচে ছিলেন, চার ওভারে দেন ৩৩। মাশরাফি ৩ ওভারে ১৭ আর তাসকিন ১৯। সাকিব চার ওভারে ২১ রান দিয়ে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ছিলেন। ৭৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। ১৫ ওভার শেষে যখন তাদের সংগ্রহ ৯২/৫ তখনই খেলার ভাগ্য ঝুঁকে যায় স্বাগতিকদের দিকে। ১৮ ওভারের প্রথম বলে ম্যাথিউজ (২০ বলে ১২ রান, দলের সংগ্রহ ১০২) যখন আল আমিনের শিকার হন তখনই খেলা চলে আসে বাংরাদেশের মুঠোয়।
এ জয়ে ফাইনালের আশাও জোরালো করলো বাংলাদেশ। টি-২০ ফরমেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে চারবারের মোকাবিলায় বাংলাদেশ জিততে পারেনি। শুধু তাই নয়, তাদের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে ২০১৩তে পাল্লেকেলেতে ১৮১ রান এবং আরেকবার ২০১৪তে চট্টগ্রামে ১৬৬ রান করেও জিততে পারেনি টাইগাররা। বাংলাদেশের মাটিতে ১০ টি-২০ খেলায় এটি শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় হার। ২০১৪তে এ মাঠেই টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও জয়ী হয় দলটি। বাংলাদেশের ১৪৭ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ১২৪ রান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করেও ১২৯ রান করেছিল মালিঙ্গা বাহিনী। গতকাল এই পেসার খেলতে পারেন নি। তার পরিবর্তে থিসারা পেরেরা খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ যিনি টি-২০ ম্যাচে সর্বশেষ দেশকে নেতৃত্ব দেন ২০১৩’র ফেব্রুয়ারিতে।। চলতি এশিয়া কাপে তিন খেলায় বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই ফাইনালের স্বপ্নপূরণ।

রেকর্ড ব্যাটিং সাব্বিরের:

আগের দিন তাকে ‘টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট’ আখ্যা দেন বিসিবি সভাপতি। এতে সাব্বির বলেছিলেন, আমার এই মুহূর্তের খেলার ধরনটা হয়তো বিসিবি সভাপতির এমন মন্তব্যের কারণ। সাব্বিরের খেলাটা কেমন? গতকাল বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুটা ছিল ভক্তদের কাছে ভয়াবহ। দলীয় ২ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার ও মিঠুন আলী। উভয় ওপেনারের নামের পাশে তখন ‘০’।  কিন্তু ব্যাট হাতে ব্যতিক্রম দেখালেন সাব্বির রহমান। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের উইকেট দেয়ার আগে ৮০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। চলতি এশিয়া কাপে এটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।  ৫৪ বলের ইনিংসে সাব্বির হাঁকান ১০ বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ ৮৮ রানের ইনিংসটি খেলেন তামিম ইকবাল। মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু ইনিংসের তিন ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহটা ছিল ৬/২।  চতুর্থ ওভারে লঙ্কানদের ভড়কে দেন সাব্বির রহমান। তিন বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১৮ রান তুলে নেন সাব্বির ওই ওভারে। ব্যাস, পুরো ইনিংসে ব্যাট হাতে লঙ্কান বোলারদের শাসন করে যান সাব্বির রহমান। এতে সাব্বিরের নাম ওঠে গর্বের একাধিক রেকর্ডে।
এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিগত অর্ধশতক হাঁকালেন সাব্বির রহমান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আফতাব আহমেদের সংগ্রহ ছিল ৩৬ রান। ম্যাচে ৭.১ ওভারে দলীয় ৫০ রান পূর্ণ হয় বাংলাদেশের। ১৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮৪/৩। সেহান জয়াবর্র্ধনের ১৩তম ওভারে সাব্বির তুলে নেন ১৭ রান।
প্রথম খেলাতেও মোহাম্মদ  মিঠুন আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। আরব আমিরাতের বিপক্ষে করেছিলেন ৪৭ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফের শূন্য। লঙ্কান পেসার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই লেগ বিফোর উইকেট। পরের ওভারে পেসার কুলাসেকারার ডেলিভারি জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে যান সৌম্য। ম্যাথিউজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। দেড় ওভার শেষে রান তখন ২/২। ব্যাট হাতে বাজে ফর্ম জারি রেখেছেন মুশফিকুর রহীম। এবার মুশফিক উইকেট দিলেন বাজে রান আউটে। আলতো টোকায় ক্রিজে বল ঠেলে অসম্ভব এক সিঙ্গেল নিতে গিয়ে উইকেট বিসর্জন দেন মুশফিক। এতে ৪.৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬/৩-এ। তবে বাংলাদেশের আশা-ভরসা ধরে রাখেন সাব্বির-সাকিব জুটি। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন গড়েন টি-টোয়েন্টির চতুর্থ সর্বোচ্চ ৮২ রানের জুটি। টি-টোয়েন্টির চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ইংল্যান্ডের ইয়ন মরগান ও কেভিন পিটারসেন জুটির। ২০১০ সালে দুবাইয়ে পকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এ রেকর্ড গড়েন তারা। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হার দেখে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দাপুটে জয় কুড়ায় টাইগাররা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় পায় শ্রীলঙ্কাও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 24 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ