“বিএনপি-জামায়াত ” সিলেটে ‘নৌকার কাণ্ডারি

প্রকাশিত: 8:38 AM, February 22, 2016

“বিএনপি-জামায়াত ”  সিলেটে ‘নৌকার কাণ্ডারি

zoniপ্রান্তডেস্ক:সিলেটে ইউনিয়ন নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত মানছে না আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের মতামতের প্রেক্ষিতে যাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত থেকে আগত নেতাদের ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দলের তৃণমূলে। ইতিমধ্যে এসব ঘটনা জানিয়ে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পত্র দেয়া হয়েছে। প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধারা। প্রথম পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট সদর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নির্বাচন। ইতিমধ্যে তৃণমূলের মতামত নিয়ে ৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রার্থীরা হলেন, জালালাবাদ ইউনিয়নে আশ্রাব আলী, হাটখোলা ইউনিয়নে খুর্শিদ আহমদ, খাদিমনগর ইউনিয়নে মো. তারা মিয়া, টুলটিকর ইউনিয়নে মো. আব্দুল মোছাব্বির, টুকেরবাজার ইউনিয়নে মো. আলতাফ হোসেন, মোগলগাঁও ইউনিয়নে মো. হিরণ মিয়া, কান্দিগাঁও ইউনিয়নে মো. নিজাম উদ্দিন, খাদিমপাড়া ইউনিয়নে মো. নজরুল ইসলাম। এই ৮ জনের নাম প্রকাশ হওয়ার পর সিলেটের দুটি ইউনিয়নে রীতিমত বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। দলীয় শাস্তির ভয়ে অনেকেই মুখ না খুললেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এ নিয়ে দলীয় প্রধানের শরণাপন্ন হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউনিয়ন হচ্ছে সিলেট শহরতলীর টুলটিকর ইউনিয়ন। এ নিয়ে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটাভুটি হয়। ওই দিন কাউন্সিলরদের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিরণ মাহমুদ নীপু। এছাড়া, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রজন্ম লীগ আলী আহমদ পেয়েছিলেন ৬ ভোট ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির পেয়েছিলেন ২ ভোট। টুলটিকর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তরমুজ আলী ও সাধারণ সম্পাদক নিরেশ দাশ পরদিন ১৬ই ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতা হিরণ মাহমুদ নিপুকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই দিন তারা জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে না। সুতরাং দলীয় ফোরামে ভোটে নির্বাচিত নিপুই হবেন আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের কাণ্ডারি। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মতামত ধোপেও টিকলো না জেলা ও মহানগরে এসে। সিলেটের নেতারা দলীয় বৈঠকে টুলটিকর ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মছব্বিরকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেন। এরপর ওই তালিকা ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকাও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। হিরণ মাহমুদ নিপু জানিয়েছেন, সিলেট আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নাম ঘোষণার পর তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। এতেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত শনিবার তিনি পুরো ঘটনা জানিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনার কাছেও পত্র দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কিছু ডকুমেন্টও প্রেরণ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির টুলটিকর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন এক সময়। পূর্বে বিএনপির মন্ত্রী ও নেতারা তার বাসায় যেতেন। সে সব ছবিও ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, যদি ওই ইউনিয়নে তাকে প্রার্থী না করা হয় তাহলে ভোটে দ্বিতীয় হওয়া প্রজন্ম লীগ নেতা আলী আহমদকেও প্রার্থী করা যেতো। এদিকে, জট লেগেছে সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও বর্তমান জামায়াত নেতা খুরশীদ আলমকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বলেন, হাটখোলা ইউনিয়নের প্রার্থী নির্বাচন করতে তৃণমূল থেকে মতামত চাওয়া হয়। ওই সময় খুরশীদ আলম নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে প্রার্থী ঘোষণা করলে বাধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা কৌশলে তাকে প্রার্থী করেন। আর ভোটে দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩০ বছরের সভাপতি আলহাজ মোশাহিদ আলীর সঙ্গে সমানে সমানে ভোট পায় খুরশীদ আলম। কিন্তু দ্বিতীয়বার মতামত না নিয়ে সিলেটের নেতারা হাটখোলা ইউনিয়নে সাবেক শিবির নেতা খুরশীদ আলমকে নৌকার কাণ্ডারি করেছেন। সিলেট সদর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ মখলিছুর রহমান জানিয়েছেন, খুরশীদ আলম শিবির নেতা ছিল সেটা সবাই জানে। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে তাকে নৌকার কাণ্ডারি করা হয়েছে। আগে ওই নেতাকে এলাকায় জামায়াত ও শিবির কর্মীরা সংবর্ধনা দিয়েছিল বলে জানান তিনি। একই অভিযোগ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মছদ্দর আলী, বারিন্দ্র বাবুরও। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল। কোনো ভাবে আদর্শের পরিপন্থি কোনো কাজ সহ্য করার নয়। এ ব্যাপারে তারা আজকালের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান। এ ব্যাপারে সিলেট আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, বিতর্কিত কেউ তৃণমূলের ভোটে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিকটতম কাউকে প্রার্থী করা যেতে পারে। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। সেটি সবাইকে মানতে হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 8 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ