সিলেটে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তুলকালাম

প্রকাশিত: 8:13 AM, February 18, 2016

প্রান্ত ডেস্ক:দলিল রেজিস্ট্রিকে কেন্দ্র করে সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনজীবীদের সহকারীরা জোরপূর্ব জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা চালালে কার্যালয়ের বাইরে দলিল লেখকদের সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। গতকাল দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষ সশস্ত্র মহড়া শুরু করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এদিকে, বিকালে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে সিলেট সদর দলিল লেখক সমিতির নেতারা। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আইনজীবী সহকারীদের দলিল লেখার ব্যাপারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সাব-রেজিস্ট্রার কোনো আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্যের দলিল সম্পাদন করতে পারেন না। স্থানীয়রা জানানান, দলিল রেজিস্ট্রিকে কেন্দ্র করে অনেক দিন ধরে মুখোমুখি রয়েছেন দলিল লেখক ও আইনজীবী সহকারীরা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ গেল ২০১৪ সালে হাইকোর্ট আইনজীবী সহকারীদের দলিল লেখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই আদেশে বলা হয়, ‘দলিল লিখন ও রেজিস্ট্রেশন কোনো বিজ্ঞ আইনজীবীর কাজ নয়। সুতরাং আইনজীবীর সহকারীরা কোনো অবস্থাতেই দলিল সম্পাদক করতে পারেন না।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল সকালে সিলেট জেলা আইনজীবীর সহকারী সমিতির একজন সদস্য দলিল সম্পাদন করতে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যান। তিনি সাব রেজিস্ট্রি ও ভারপ্রাপ্ত জেলা রেজিস্ট্রার প্রভাকর সাহার কাছে দলিল সম্পাদনের জন্য দাখিল করেন। রেজিষ্টার ওই দলিল সম্পাদন না করে ফিরিয়ে দেন। এদিকে, দুপুরে আরও একটি দলিল নিয়ে সেখানে যান আইনজীবি সমিতির সহকারী সুমন আহমদ। তিনি গিয়ে সাবরেজিস্ট্রারের কাছে দলিল দাখিল করলে সাব রেজিস্ট্রার দলিল ফিরিয়ে দেন। উপস্থিত দলিল লেখক মাহবুবুর রহমান এরশাদ জানিয়েছেন, সাব রেজিস্ট্রার দলিল ফিরিয়ে দেয়ার পর সুমন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং সাব রেজিস্ট্রারের এজলাসে থাপ্পড় দিয়ে কোনো দলিল সম্পাদন করবেন না কে জানতে চায়। দৃশ্য দেখে ক্ষেপে যান উপস্থিত লোকজন ও দলিল লেখকরা। এদিকে, ঘটনাকালীন সময়ে সাব রেজিস্ট্রারের অফিস কর্মকর্তারা সুমনকে আটকে রাখেন। এর খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী আদালতপাড়া থেকে ছুটে আসেন আইনজীবী সহকারীরা। এ সময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা চালাতে চাইলে দলিল লেখকরা প্রতিরোধ গড়েন। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটে। প্রায় ১০ মিনিটের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার পর আইনজীবী সহকারীরা প্রধান ফটকের পাশে এবং দলিল লেখকরা তাদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেখানে পৌঁছে। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মুখে আইনজীবী সহকারী আদালত এলাকায় চলে যায়। সিলেট সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সায়েক আহমদ জানিয়েছেন, আইনজীবী সহকারী সুমন দলিল রেজিস্ট্রারি করতে এসে দলিল লেখকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে সুমন ফোনে তার সহযোগীদের ডেকে এনে দলিল লেখকদের ওপর হামলা চালায়। তখন দলিল লেখকরা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করে। তিনি বলেন, সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় দলিল লেখকরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী সমিতির সহসভাপতি দিলহাজ আহমদ জানিয়েছেন, সুমন আহমদ নামের এক আইনজীবী সহকারী দলিল রেজিস্ট্রি করতে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যান। এসময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দলিল লেখকরা তাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে আইনজীবী সহকারীরা সেখানে গেলো ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সুমনকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দলিল লেখক ও আইনজীবী সহকারীদের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে সিলেট সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হাজী মাহমদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম খান সায়েকের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি আ ক ম রফিকুজ্জামান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইকবাল হোসেন, সদর সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ লোকমান প্রমুখ। বৈঠকে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। বৈঠক শেষে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, তারা এসে জোরপূর্বক বেআইনিভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করতে চাইলে বাধা দেয়া হবে। কারণ হিসেবে বলেন, আদালতের রায় দলিল লেখক সমিতির পক্ষে রয়েছে। আর বিষয়টিও সাব রেজিস্ট্রার নিজেও জানেন। দলিলদাতা বিশ্বজিৎ তালুকদার জানান, তিনি দলিল করতে গেলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চান; টাকা না দেয়ায় তার দলিল জোরপূর্বক রেখে দেন ও একজন আইনজীবী সহকারীকে মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে তার রুমে আটক রাখেন। পওে আইনজীবী সহকারী সমিতির চাপে তাকে রুম থেকে বের করে দেন। সিলেট জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন আফাজ বলেন, আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্যদের দলিল করতে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। সিলেটের সাব রেজিস্ট্রার প্রভাকর সাহা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মতো আইনজীবী সহকারীদের দলিল করতে দেয়া হবে না। এখানে তার কিছুই করার নেই বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ