ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল মাহফুজ আনামের!

প্রকাশিত: 8:57 AM, February 16, 2016

ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল মাহফুজ আনামের!

xzতাসনিম খলিলএক-এগারোর সময় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের (সেনা গোয়েন্দা সংস্থা) বিশেষ ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল। সে কারণেই সংস্থাটির পছন্দ হয়নি বলে ডেইলি স্টারের ‘ফোরাম’ নামের ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যা তখন বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। ওই সংখ্যায় তারেক রহমান, ডিজিএফআই এবং জঙ্গি মদদের ওপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিল। এমন তথ্যই জানিয়েছেন পত্রিকাটির সাবেক সাংবাদিক তাসনিম খলিল।
তাসনিম খলিল এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টারের সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এক পর্যায়ে ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন। ডেইলি স্টারের ফোরাম ম্যাগাজিনে ‘তারেক রহমান, ডিজিএফআই এবং জঙ্গি মদদের’ বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনটি তিনিই করেছিলেন। তাসনিম ছাড়া পাওয়ার পর বাংলাদেশ ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যান। এখন তিনি সুইডেন থেকে প্রকাশিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।
তিনি লিখিত সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘মাহফুজ আনামের উচিৎ হবে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার স্বার্থে ওই সময়ে তার পত্রিকায় যা হয়েছে তা পুরোপুরি প্রকাশ করা। ডেইলি স্টারে সেই সময় ডিজিএফআইয়ের কনডুইট বা প্ল্যান্ট কে বা কারা ছিলেন তা জানানো। এজন্য একটি কমিশনও করা যেতে পারে।’
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জানার পরও নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা তথ্য প্রকাশ সাংবাদিকতার কোন নীতিমালায় পড়ে?’ বলেছেন, ‘২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে আমাকে গ্রেপ্তারের পূর্বে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের চরিত্র হননকারী যে খবরগুলি ডেইলি স্টারে ছাপা হয়েছিল, সেগুলো কাদের অনুমতি বা প্ররোচনায় প্রকাশিত হয়েছিল? এ প্রশ্নের জবাব সম্ভবত মাহফুজ আনামই ভালো দিতে পারবেন।’
তিনি দাবি করেন, ‘রাজনীতিবিদদের নির্যাতন করে আদায় করা বক্তব্য তখন ডেইলি স্টারসহ আরও অনেক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বলা হচ্ছে তারা অডিও টেপ শুনে লিখেছেন। কিন্তু এগুলো ছিল ভিডিও টেপ। আর তাতে নির্যাতনের চিত্র স্পষ্ট ছিল। আর এ কারণেই চালাকি করে অডিও টেপের কথা বলা হচ্ছে।’ তাসনিম খলিলের লিখিত সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনিতো এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টারে কর্মরত ছিলেন। তখন আপনাকে আটক এবং নির্যাতনের ঘটনাটি বলবেন? কেন এমন করা হয়েছিল?
তাসনিম খলিল: ২০০৭ সালের মে মাসের ১১ তারিখ রাতে আমি ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হই। আমার সেন্ট্রাল রোডের বাসা থেকে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেনানিবাসের ভেতরে একটি নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। আমার চোখ বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীগুলির বিভিন্ন অনাচার নিয়ে আমার রিপোর্টিং ও বাংলাদেশে সামরিকতন্ত্রের সমালোচনাই সম্ভবত ছিল আমার অপরাধ। আমার আটক ও নির্যাতনের ব্যাপারে আমার জবানবন্দির ভিত্তিতে ২০০৮ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, আগ্রহীরা ‘ঞযব ঃড়ৎঃঁৎব ড়ভ ঞধংহববস কযধষরষ: ঐড়ি ঃযব ইধহমষধফবংয সরষরঃধৎু ধনঁংবং রঃং ঢ়ড়বিৎ ঁহফবৎ ঃযব ংঃধঃব ড়ভ বসবৎমবহপু’ শিরোনামের উক্ত প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার মুক্তির ব্যাপারে মাহফুজ আনাম বা ডেইলি স্টারের কোনও ভূমিকা ছিল?
তাসনিম খলিল: আমাকে গ্রেপ্তারের অনেক অনেক আগে থেকেই আমি নামে-বেনামে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাচ্ছিলাম। এ ব্যাপারে আমি মাহফুজ ভাইকে বারবার অবহিত করেছি। তিনি খুব একটা আমলে নেননি, বরং আমাকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন, ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে তার এক ধরনের ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ আছে, তাকে না জানিয়ে ডেইলি স্টারের কোনও সাংবাদিকের ব্যাপারে সংস্থাটি কোনও পদক্ষেপ নেবে না। এর মধ্যে অবশ্য ডিজিএফআইয়ের পছন্দ হয়নি বিধায় তিনি ‘ফোরাম ম্যাগাজিনের’ একটি সংখ্যা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তারেক রহমান, ডিজিএফআই ও জঙ্গি প্রতিপালন বিষয়ে আমার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিলো সেই সংখ্যাটিতে। আমার আটকের পরে অবশ্য আমার মুক্তির ব্যাপারে তার বিশেষ ভূমিকা ছিলো। বিশেষ ভূমিকা ছিলো তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতেরও। অন্যদের মধ্যে জাফর সোবহানের কথা বলতেই হয়। আবার বিশ্বব্যাপী শত শত সহকর্মী, সহযোদ্ধারা আমার মুক্তির জন্য লড়েছেন। (বাংলাট্রিবিউনের সৌজন্যে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 3 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ