দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয় ১৪ দলের

প্রকাশিত: 8:03 AM, February 16, 2016

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয় ১৪ দলের

xzপ্রান্তডেস্ক: দেশবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ১৪ দলের নেতারা। তারা বলেছেন, ৭১ সালে পরাজিত পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর সেই পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের নিয়ে যারা বিতর্ক তৈরি করে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত
। গতকাল রাজধানীতে ১৪ দল আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১৪টি স্পটে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
গাবতলী, শ্যামলী, আসাদ গেট, ধানমন্ডি ২৭নং রোড, রাসেল স্কয়ার, গ্রিন রোড, বসুন্ধরা, সোনারগাঁও হোটেল, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, গুলিস্তান পার্ক, ইত্তেফাক মোড়, রাজধানী মার্কেট, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড় এই ১৪টি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নিতে দুপুর ১২টা থেকে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা দুইটা থেকেই গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা পাকিস্তান, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধকরণের দাবি জানান। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, অব্যাহত প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারি সারা দেশের জেলাগুলোতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল। এই কর্মসূচির কারণে বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিল দীর্ঘ যানজট। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।
ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, ৩০ লক্ষ শহীদ নিয়ে বিতর্ক করতে চায় তারা রাষ্ট্রদ্রোহী, তারা দেশের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে পাকিস্তান বাধাগ্রস্ত করতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, পাকিস্তান একটি অকার্যকর রাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে তারা (পাকিস্তান) বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তবে কোনো বাধাই আমাদেরকে রুখতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে খালেদা জিয়া এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা ধিক্কার জানাই।
আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, যে পাকিস্তান বাংলাদেশে গণহত্যা করেছিল তারা আজও তা স্বীকার করে না। সেই পাকিস্তান আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা সঙ্গে পেয়েছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে। পাকিস্তান যে ভাষায় কথা বলে, বেগম খালেদা জিয়াও ৩০ লাখ শহীদ নিয়ে সেই ভাষায় কথা বলছেন। তিনি পাকিস্তানের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, পাকিস্তান একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেছিল। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শেখ হাসিনার পতন না করে ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু ৯৩ দিন অবরোধ করে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরেছিলেন তিনি। বলেন, যতক্ষণ আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি ততক্ষণ কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের কিছু করতে পারবে না। একাত্তরে আমরা বিজয়ী হয়েছি। আজকেও আমরা বিজয়ী হবো। যারা পরাজিত, তারা পরাজিতই থাকবে। রাসেল স্কয়ারের মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আব্দুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী পাকিস্তান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আপনি (খালেদা জিয়া) পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে গিয়ে পাক সার জামিন সাদ বাদ গান। বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন না। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য খালেদা জিয়াকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ও তা কার্যকর শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান ও খালেদা জিয়া মায়া কান্না শুরু করেছেন। খালেদা জিয়া নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী দাবি করেও শহীদদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তার দোসররাও তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছে। খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, চক্রান্ত বন্ধ করুন। পাকিস্তানের কথা ভুলে যান। আজকের এই বিশাল মানববন্ধনে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভপাতি ফয়েজউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।
এদিকে রাজধানীর আসাদ গেটে ১৪ দল আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, পরমাণু বোমা ছাড়া উন্নয়ন অগ্রগতির সব সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যবিমোচনসহ সব সূচকে আমরা তাদের চাইতে এগিয়ে আছি। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সময় এখনও হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম প্রমুখ

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 5 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ